গ্রামের নাম পিরেরচক। সেখানে বিশাল অনেক বড় পতাকা টানিয়েছেন গ্রামের ফুটবলপাগল মানুষ।
বিশ্বকাপ ফুটবল সামনে রেখে সারা বিশ্ব থেকে আসতে থাকা বিচিত্র সব উন্মাদনা কাণ্ডের খবরের মধ্যে আলাদা করে নজরে পড়ার মতো বিয়ানীবাজার জনপদ।
রাস্তার দুই পাশে উড়ছে শত শত পতাকা। বাংলাদেশে যখন, তখন বুঝতেই পারছেন পতাকাগুলো কোন দেশের! ঠিকই ধরেছেন, ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার পতাকায় ছেয়ে যাচ্ছে সড়ক, অলিগলি আর বাড়ির ছাদ।
বাঁশ পুঁতে লাগানো পতাকাই শুধু নয়, দেয়ালে আঁকা হচ্ছে প্রিয় দেশের পতাকা।
বিয়ানীবাজার পৌরশহরের ক্রীড়া সরঞ্জামাদির দোকানগুলোতে লেগেছে ঈদের ভিড়। প্রিয় দেশের জার্সি কেনার ধুম চলছে। শনিবার বিকেলে একসাথে ৪টি আর্জেন্টিনার জার্সি কিনেছেন স্কুল ছাত্র নিখাদ, ইরাদ, তামজিদ ও তাওফিক। তারা জানান, একটু আগে জার্সি লইলাম। বাদে ভালা জার্সি পাওয়া যাইতোনায়।
Manual8 Ad Code
নিজ নিজ দলের বিশ্বকাপ জেতা নিয়েও যেন নিঃসংশয় তারা। সমর্থনের জোরে এবার লিওনেল মেসির দলের আরেকটি বিশ্বকাপ জেতার নিশ্চয়তাও যেন দিয়ে ফেলতে চাইলেন আর্জেন্টিনা সমর্থক এই শিশুরা।
তারা বলেন, সারা পৃথিবীতে আর্জেন্টিনার সমর্থক যেমন বহুত বেশি, তেমনি আমাদের এলাকায়ও কোনো অংশে কম নয়। গতবার আমরা বিশ্বকাপ জিতেছি, এবারও জিতব।’
ক্রীড়া সামগ্রীর ব্যবসায়ী মাহফুজ বলেন, গত এক সপ্তাহে বেশ কিছু জার্সি বিক্রি হয়েছে। ক্রমেই জার্সি ক্রয়ের আগ্রহ বাড়ছে।
Manual8 Ad Code
সরজমিন দেখা গেছে, বিয়ানীবাজার উপজেলার আলীনগর এলাকা থেকে শেষ এলাকা বারইগ্রাম পর্যন্ত প্রিয় দেশের পতাকায় সয়লাব করে রেখেছেন ভক্ত-সমর্থকরা। এরমধ্যে কেউ টানিয়েছেন ইরানের পতাকাও। লাগানো হয়েছে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি, পর্তুগাল, স্পেন, ইংল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার পতাকা। এটি করার জন্য পৃষ্ঠপোষকও জুটেছে তাদের। অর্থ সহায়তা দিয়ে এই উন্মাদনাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন নীরব প্রবীণ সমর্থকরা।
সাবেক ফুটবলার নুরুল আলম বলেন, বিয়ানীবাজারজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। এই উন্মাদনা আর কোন খেলায় নেই।
বিয়ানীবাজার ফুটবল এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মারুফ আহমদ বলেন, বিশ্বকাপ শুরুর আগেই এ আয়োজন সর্বত্র একটা উৎসবের আবহ তৈরি করেছে। তরুণদের মধ্যে এমন উদ্দীপনা ক্রীড়া ক্ষেত্রে তাদের অনপ্রাণিত করবে।