লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে বিয়ানীবাজারের জনজীবন। রোদ ও ভ্যাপসা গরমে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে উপজেলার সাধারণ মানুষ। বিদ্যুতের কোনো কোনো গ্রাহক ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। অনেকে বিরক্তি প্রকাশ করে দিচ্ছেন ফেসবুকে পোস্ট। এই উপজেলার প্রায় তিন লাখ মানুষ ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ। কবে নাগাদ এই বিপর্যয় কাটবে, তা বিদ্যুৎ বিভাগ সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারছে না।
Manual3 Ad Code
Manual8 Ad Code
লোডশেডিংয়ের কারণে আসন্ন এইচএসসি সমমান পরীক্ষায় প্রস্তুতিতে ব্যঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাছাড়া যান্ত্রিক ত্রুটিও বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায় নানাভাবে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ২টা থেকে শুক্রবার রাত প্রায় ৮টা পর্যন্ত একটানা বিয়ানীবাজারের প্রায় আড়াই হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন ছিলেন। লাসাইতলা হাওর এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙ্গে পড়ায় গ্রাহকদের এই দূর্ভোগ পোহাতে হয়। এ সময় বিদ্যুৎবিহীন এলাকায় ব্যাপক বিপর্যয় নেমে আসে।
খাসা এলাকার গৃহিণী জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, সারা দিনে কতবার বিদ্যুৎ যায়, তার হিসাব নেই। গত দুই সপ্তাহ ধরে শুধু রাতেই ৬-৭ ঘণ্টা ধরে লোডশেডিং হচ্ছে। গরমের কারণে ঠিকমতো ঘুমাতে পারেন না শিশুরা।
Manual1 Ad Code
বিয়ানীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কর্মকর্তারা বলছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাচ্ছেন। এ কারণে ঘন ঘন লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। গ্রীষ্মকাল ও শুষ্ক মৌসুমে লোডশেডিংয়ের সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করে। অতিরিক্ত গরমের পাশাপাশি উৎপাদন ঘাটতি ও সিস্টেম লসের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকতে হয়, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পড়াশোনায় প্রচণ্ড ব্যাঘাত ঘটায়।
পল্লী বিদ্যুৎ অফিস জোনাল অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রুপন মিয়া বলেন, বিয়ানীবাজার উপজেলায় মোট ২৪ মেঘাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন। আমরা আজকে পেয়েছি মাত্র ১২ মেঘাওয়াট।
ফারুক হোসেন নামের একজন ফেসবুকে মন্তব্য করেছেন, যেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি রয়েছে, সেখানে গ্রাহকসংখ্যা বাড়ানোর দরকার কী ছিল?
কুড়ারবাজার এলাকার মেহেদী হাসান বলেন, এমন লোডশেডিং আগে কখনো দেখিনি। শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি ভোগান্তির মধ্যে আছেন। চাহিদার তুলনায় সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতির ফলে দিনে ও রাতে নিয়ম করে লম্বা সময় বিদ্যুৎ থাকে না। ‘ট্রিপ’ করার কারণে ঘন ঘন বিদ্যুৎ যাওয়া-আসা করে, যা ফ্রিজ, এসি বা কম্পিউটারের মতো সংবেদনশীল বৈদ্যুতিক যন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি করে। বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্যান বা এসি বন্ধ থাকে, ফলে তীব্র গরমে বয়স্ক ও শিশুরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েন।
Manual6 Ad Code
বিয়ানীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপমহাব্যবস্থাপক পার্থ চক্রবর্তী বলেন, চাহিদার তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে লোডশেডিং হচ্ছে।