প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

২২শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৭ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৯ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

জকিগঞ্জে কোটেশনের মাধ্যমে কাজের অভিযোগ, টেন্ডার ছাড়াই ‘হরিলুট’

editor
প্রকাশিত জুলাই ৫, ২০২৬, ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ
জকিগঞ্জে কোটেশনের মাধ্যমে কাজের অভিযোগ, টেন্ডার ছাড়াই ‘হরিলুট’

Manual2 Ad Code

জকিগঞ্জ সংবাদদাতা:
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের বিশেষ উন্নয়ন বরাদ্দ বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

Manual5 Ad Code

স্থানীয়দের দাবি, উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান না করে কোটেশন পদ্ধতির মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকার কাজ বণ্টন করা হচ্ছে, ফলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

তালিকা অনুযায়ী সরকারি ভবন মেরামতের মধ্যে রয়েছে- সুরমা-৪ সেন্টার কোয়ার্টার মেরামতে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা (পিআইসি: সুমা বেগম), সুরমা-৩ সেকেন্ডারি কোয়ার্টার মেরামতে ১ লাখ ৬৭ হাজার টাকা (পিআইসি: হাসান আহমদ চেয়ারম্যান), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের প্রথম অংশে ২ লাখ ৭৯ হাজার ৯৩০ টাকা (পিআইসি: হাসান আহমদ চেয়ারম্যান) এবং দ্বিতীয় অংশে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা (পিআইসি: সুমা বেগম)।

এ ছাড়া মেঘনা কোয়ার্টারের দুটি অংশে পৃথকভাবে ৩ লাখ ৯৯ হাজার টাকা করে, উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন মেরামতে ৯ লাখ ৯৯ হাজার টাকা, পদ্মা কোয়ার্টারের দুটি অংশে পৃথকভাবে ৩ লাখ ৯৯ হাজার টাকা এবং উপজেলা কমপ্লেক্স ভবনের আরেকটি অংশে ৪ লাখ ৯৯ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব কাজের জন্য বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে আরএফকিউ পদ্ধতিতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে একই বিশেষ বরাদ্দ থেকে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে মোট ২০টি উন্নয়ন প্রকল্পে ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে রাস্তা উন্নয়ন, ইট সলিং, সিসি ও আরসিসি ঢালাই, কালভার্ট মেরামত, মাদ্রাসা উন্নয়ন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সুপেয় পানি ও সেফটি ট্যাংক মেরামত, জকিগঞ্জ কিন্ডারগার্টেনের শ্রেণিকক্ষ মেরামত এবং সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনে সেবাপ্রার্থীদের জন্য বিশ্রামাগার নির্মাণ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জুন ক্লোজিংয়ের শেষ সময়ে দ্রুত বরাদ্দ ও বাস্তবায়নের কারণে প্রকল্পগুলোর কাজের মান, প্রয়োজনীয়তা এবং অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তারা এসব প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Manual2 Ad Code

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন।

Manual5 Ad Code

অভিযোগ রয়েছে, জুন মাসের অর্থবছর শেষ হওয়ার আগে বরাদ্দের অর্থ ছাড়ের তাড়াহুড়োকে কেন্দ্র করে কিছু প্রকল্প দ্রুত অনুমোদনের চেষ্টা চলছে। তাঁদের আশঙ্কা, প্রয়োজনীয় নিয়মকানুন যথাযথভাবে অনুসরণ না করলে সরকারি অর্থের অপচয় বা অনিয়মের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

স্থানীয়রা বলেন, সরকারি বিধিমালায় কোটেশন পদ্ধতির সুযোগ থাকলেও সেটি নির্দিষ্ট সীমার ছোট বা জরুরি কাজের জন্য প্রযোজ্য। কিন্তু বড় প্রকল্পকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে কোটেশনের আওতায় আনার অভিযোগ উঠেছে, যা প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র প্রক্রিয়াকে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

সচেতন নাগরিকরা প্রতিটি প্রকল্পের বরাদ্দ, ব্যয় ও বাস্তবায়নের তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ এবং বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

Manual7 Ad Code

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজিত কুমার চন্দ বলেন, সদ্যবিদায়ী ইউএনও মো. মাসুদুর রহমান এইসব করে গেছেন, বর্তমানে সবকিছু দেখে তদন্ত করা হবে।

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭৩০
৩১  

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code