“দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সহজ উপায় সংসদ সদস্য এবং প্রশাসন একাকার হয়ে যাওয়া”
“দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সহজ উপায় সংসদ সদস্য এবং প্রশাসন একাকার হয়ে যাওয়া”
editor
প্রকাশিত আগস্ট ৬, ২০২৬, ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ
Manual7 Ad Code
এডভোকেট মোঃ আমান উদ্দিন:
২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থান থেকে কিছু-ই শিখিনি। প্রতারিত জনগণ তাহার জনপ্রতিনিধির নিকট থেকে প্রতিনিয়ত কষ্ট পাচ্ছে। জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসন যখন একই বিত্তে ঘুরপাক খায়, সহজ সরল জণগণকে বুঝতে হবে যে দেশ দুর্নীতির সূচকে এগিয়ে যাওয়ার পথেই হাঁটছে। গণমানুষের প্রিয় নেতা জনাব তারেক রহমান (প্রধানমন্ত্রী) এবং সুশিল, ভদ্র, প্রাজ্ঞ ও দুর্দিনে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে জাতিকে সেবা দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে জেল জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়ে ভালো মানুষের আস্থার ঠিকানা জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (মহাসচিব)। জনাব ফখরুল সহজ সরল স্বীকারোক্তি থেকে-ই সহজে অনুমান করা যায় দেশে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না । জনাব ফখরুল বলেছেন, পূর্বে যেখানে ০১ লক্ষ টাকা ঘুষ দিতে হতো, বর্তমানে সেখানে ০৫ লক্ষ টাকা ঘুষ দিতে হচ্ছে। জনাব মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান তাহার সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, সবাই পায় সোনার খনি, আমি পেয়েছি চোরের খনি। জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে পাঁচ মাসের কর্ম মূল্যায়ন করলে সহজেই বলা যায়, মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান এর প্রতিধ্বনি হচ্ছে। গণমানুষের নেতা, নির্যাতিত, নিপীড়িত পরিবারের একমাত্র উত্তরাধিকার হলেন, জনগণের ভালোবাসার প্রতীক জনাব তারেক রহমান। জনাব তারেক রহমান সরকারকে বিব্রত করতে পা চাটা গোলামরা ১২ই ফেব্রæয়ারী নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠনের পর থেকে তাহারা পূর্বের ন্যায় প্রশাসনের সাথে একাকার হয়ে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য যা করার দরকার তাহারা কিন্তু অবাধে করার চেষ্টা করিতেছেন। প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চাই, আপনার বিশ্বস্ত আস্থাভাজন এবং প্রত্যেক এলাকার জনপ্রতিনিধির নিকট অপরিচিত সেই ব্যক্তিকে নিয়োগ দিয়ে তাহাদের আমলনামা সংগ্রহ করুন এবং যদি অভিযোগ সঠিক হয় তাহলে এসব প্রতারক প্রতিনিধির বিরুদ্ধে কার্যকর বা কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। চিরাচরিত রেওয়াজে মেয়াদ পাঁচ বছর পূর্ণ করার সুযোগ না দিয়ে বহিষ্কার করুন এবং সাধারণ জনগণের আকাঙ্খা ও ২৪ এর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দুর্নীতির বর পুত্রদের বহিষ্কার করে তাহাদের পরিবারের নিকট উপহার দিন। ভালো মানুষের দেশ বাংলাদেশ। ৫ আগস্ট থেকে ৮ আগষ্ট পর্যন্ত দেশে কোন সরকার ছিল না। এতবড় গণঅভ্যুত্থান পর সাধারণ জনগণ আইন নিজের হাতে তুলে নেয়নি। জিডিপি এর প্রাণপুরুষ খেটে খাওয়া এই সাধারণ মানুষ। নিঃসন্দেহে বলা যায় ৯৫% মানুষ ভাল। জনাব তারেক রহমান শক্তভাবে ৯৫% মানুষের পক্ষে অবস্থান নিন। জাতি কিন্তু আপনার পিতা-মাতা আপনি বা আপনার আদলে গড়া দলের মহাসচিবকে সাধারণ মানুষ গ্রহণ করেছেন। শক্তভাবে সাধারন মানুষের পক্ষে অবস্থান নিলে, দেশ কিন্তু সিঙ্গাপুর বা মালোয়েশিয়ার মতো উন্নত হতে সময় লাগবে না। এসব দেশ স্বাধীন হয়েছে মাত্র ৫৫/৬০ বৎসর পূর্বে। প্রধানমন্ত্রী আপনি সরকার গঠনের সময় বলেছিলেন ৬ মাসের আমলনামা সংগ্রহ করে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন। জণগণ কিন্তু অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করিতেছে মেয়াদ পর্যন্ত দেখার জন্য। তবে একসাথে সকল দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে ধীরে ধীরে দুর্নীতির বরপুত্রদের মাটির সাথে পুতে দিন। বিগত সরকারের শাসন আমলে ১৭ বছরের সাধারণ নেতা কর্মীদের বিপদে ফেলে তাহারা কিন্তু সেই সরকারের সাথে আথাত করে একদিনও জেল খাটেননি। যদিও এসব নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান একাধিক মামলা ছিল। এরাই দলের এবং দেশের চরম শত্রæ। বর্তমান নির্বাচিত সংসদ সদস্য হচ্ছেন ৩০০ জন। তাহাদেরকে জিজ্ঞাসা করতে পারেন, আপনারা কয়দিন, কয়মাস, বা কয় বছর জেলে ছিলেন। আমার জানা মতে ৭৫% এই সংসদ সদস্যর সঠিক উত্তর দিলে তাহারা বলবে একদিনও না। এখন থেকেই দালালদের চিহ্নিত করুন এবং ২৫% নির্যাতিত দেশ প্রেমিকদের দায়িত্ব দিলে ২৪ এর গণঅভ্যুত্থান বাস্তবে ফল পাওয়া যাবে। এসব দুর্নীতিবাজদের বাদ দিলে দল এবং দেশের কিছুই হবে না। যেমনঃ একিউ.এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, কর্নেল অবঃ অলি আহমদ, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, তৈমুক আলম খন্দকার, শমসের মবিন চৌধুরী প্রমুখ।
Manual6 Ad Code
প্রক্ষান্তরে দেশ প্রেমিক জননেতা জনাব এম ইলিয়াস আলীর সাথে সম্পর্ক থাকার কারনে তাহার কার্যক্রম দেখার সুযোগ হয়েছে। তিনি প্রকাশ্য সাধারন জনগণকে বলতেন বৈধ যত ধরনের কাজ আমি নিজ দায়িত্বে সপ্তাহের মধ্যে করে দিব। আপনারা প্রশাসনের পিছনে পিছনে ঘুরাঘুরি করবেন না। এম ইলিয়াস আলী আমার জানামতে প্রশাসনের সাথে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে চলতেন। যেখানে সমস্যা সেখান থেকেই প্রশাসনের লোকদের বলতেন এটা করে দিবেন। সাথে সাথে হয়ে যেত। জনাব এম ইলিয়াস আলীর চরম শত্রæ আমার বন্ধু জনৈক ব্যাংকার বলেন ইলিয়াস আলী এলাকায় এমন কাজ করে গেছেন যাহার কারনে তাহার পরিবার যাহাকে সমর্থন দিবেন সেই এমপি হবে। যেমনঃ মুকাব্বির খান।
Manual8 Ad Code
হয়ত প্রশ্ন করতে পারেন, কথিত সংসদ সদস্যগণ ঘুষ যে নিয়েছি তাহার কি কোন প্রমান আছে? যদি মুসলমানগ হন তাহলে অবশ্যই জানার কথা, নেকির মুনকির নামে দুইজন ফেরেশতা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করে থাকেন। তাঁহারা অদৃশ্যভাবে জানিয়ে দিচ্ছেন সাধারন জণগণকে আপনাদের অপকর্মের কথা। ৫ই আগষ্ট ২০২৪ গণঅভ্যুত্থনের পর সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি সামছুদ্দিন চৌধুরী মানিক দেশ ত্যাগ করার জন্য ৪০ হাজার টাকায় চুক্তিবদ্ধ হন কথিত দালালদের সাথে। কিন্তু অদৃশ্য ফেরেশতাদ্বয় জানিয়ে দেন তাহার সাথে আছে ৭৬ লক্ষ টাকা এবং সুস্থ, দারুণ পারফরমেন্স ওয়ালা অন্ডকোষ। কাজের কাজ সব-ই হয়ে গেল এবং তাহার ঠিকানা হল কলাপাতা।
প্রত্যেক এলাকার সংসদ সদস্যদের নির্বাচিত করিতে যাহার মুখ্য ভূমিকা পালন করিয়াছেন তাহাদের ক্ষোভের কথা জানতে চাইলে তাহাদের সহজ উত্তর আমরা প্রতারিত হয়েছি। সাধারণ জনগণকে প্রতারনার কথাটি অকপটে স্বীকার করিতেছেন। তবে কিছু সংখ্যক সুযোগ সন্ধানী বাদে। যখন এসব প্রশাসনিক কর্তা ব্যাক্তিদের সাথে সংসদ সদস্য প্রার্থী পরিচয়ে বসার এবং মতবিনিময় করার চেষ্টা করিতেন, তখন কিন্তু তাহারা এড়িয়ে চলিতেন। অনেক ক্ষেত্রে সেই সংসদ সদস্য প্রার্থীর পক্ষে বর্তমান প্রতারণার শিকার সেই কর্মী ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও প্রতিবাদ করিত। কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই সংসদ সদস্যরা প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের সাথে একান্তে দরজা বন্ধ করে বৈঠক করিতেছেন। দৃশ্যমান হচ্ছে সেই প্রশাসনিক ব্যক্তিরা জনাব কথিত সংসদ সদস্যর সফর সঙ্গী। নিশ্চয়ই প্রশাসনের সাথে আপোষে রফদফা হয়ে গেছে। আর সেই সুযোগে সাধারণ জনগণের উপর অবর্ননীয় স্টিম রুলার চালিয়ে গেলেও প্রশাসনের আচরনের প্রতিবাদ করার সাহস কাহারো থাকার কথা নহে। তখন সেই কর্মীদের আক্ষেপ করে বলতে শোনা যায়, যখন তোমার কেউ ছিলনা, তখন ছিলাম আমি, যখন তোমার সব হয়েছে, পর হয়েছি আমি।