নিজস্ব প্রতিবেদক:
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ট্রেনের অগ্রীম টিকিট বিক্রি শুরু হতে যাচ্ছে। আগামীকাল মঙ্গলবার (৩ মার্চ) থেকে বিক্রি শুরু হবে অগ্রীম টিকিট। এদিন আগামী ১৩ মার্চের ট্রেনের টিকিট দেওয়া হবে। সিলেটসহ পূর্বাঞ্চল রেলের সবগুলো রুটে অনলাইনে টিকিট বিক্রি শুরু হবে কাল দুপুর ২টায়।
বাংলাদেশ রেলওয়ে জানিয়েছে এবারও শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রি হবে। এছাড়াও এবারের ঈদ যাত্রায় যাত্রীদের জন্য পাঁচ জোড়া বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে এ সময়টিতে বাস, লঞ্চের পাশাপাশি মানুষের অন্যতম ভরসার বাহন হয়ে ওঠে ট্রেন। নিরাপদ ও আরামদায়ক হওয়ায় প্রতিবছর অতিরিক্ত যাত্রীচাপ সামাল দিতে নানা প্রস্তুতিও নেয় বাংলাদেশ রেলওয়ে।
Manual6 Ad Code
জানা গেছে, উৎসবের সময় পূর্বাঞ্চলে চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে ৫৪টির বেশি আন্তঃনগর ট্রেন পরিচালনা করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। আর রাজশাহী, রংপুর, খুলনা বিভাগ নিয়ে পশ্চিমাঞ্চলে পরিচালনা করা হয় ৫৮টি আন্তঃনগর ট্রেন।
রেলওয়ে সূত্র বলছে, আগামীকাল মঙ্গলবার পাওয়া যাবে ১৩ মার্চের টিকিট। দ্বিতীয় দিন বুধবার (৪ মার্চ) পাওয়া যাবে ১৪ মার্চের টিকিট।
Manual1 Ad Code
এছাড়াও, ১৫ মার্চের ট্রেনের টিকিট মিলবে ৫ মার্চ, ১৬ মার্চের টিকিট পাওয়া যাবে ৬ মার্চ, ১৭ মার্চের টিকিট ৭ মার্চ, ১৮ মার্চের টিকিট ৮ মার্চ এবং ৯ মার্চ বিক্রি করা হবে ১৯ মার্চের আগাম টিকিট।
এদিকে, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ময়দানের ঈদের জামাত উপলক্ষে ওইদিন ভৈরব বাজার-কিশোরগঞ্জ রুটসহ মোট ৫ জোড়া বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে।
ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত যাত্রীচাপ সামাল দিতে এবার পাহাড়তলী ওয়ার্কশপ থেকে ৪৭টি এমজি কোচ যাত্রীবাহী সার্ভিসে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। অনলাইনের পাশাপাশি ঈদ যাত্রার দিনে কাউন্টারে থাকছে ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিটের ব্যবস্থাও।
রেলওয়ে মহাপরিচালক জানান, শিডিউল বিপর্যয় ঠেকাতে ইঞ্জিন বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ঈদে যাত্রী চলাচলে এবার নিরাপত্তাকে সবচেয়ে বেশি প্রধান্য দেওয়া হবে।
কমলাপুর রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার জানান, নতুন সরকারের যাত্রায় এবার সর্বোচ্চ সেবা প্রদান নিশ্চিত করা হবে। অনলাইন টিকিট প্রাপ্তিতে জটিলতা নিরসন ও সার্ভারে চাপ কমাতে এবার পশ্চিমাঞ্চলে চলাচলরত আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট সকাল ৮টা থেকে এবং পূর্বাঞ্চলের টিকিট বেলা ২টা থেকে অনলাইনে বিক্রি করা হবে।
Manual1 Ad Code
সহজে টিকিট কাটার নিয়ম
প্রথমে বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইট অথবা অ্যাপে প্রবেশ করতে হবে। পরে ওয়েবসাইটের ওপরের দিকে রেজিস্ট্রেশন ট্যাবে ক্লিক করলে রেজিস্ট্রেশন নামে নতুন একটি পেজ আসবে। এ পেজে ব্যক্তিগত তথ্যাদি দিয়ে সংশ্লিষ্ট ঘরগুলো পূরণ করতে হবে। মোবাইল নম্বরে একটি ওটিপি চলে আসবে। সেটি সঠিকভাবে পূরণ করে ভেরিফাই বাটনে ক্লিক করতে হবে।
Manual7 Ad Code
সব তথ্য ঠিক থাকলে রেজিস্ট্রেশন সফলভাবে সম্পন্ন হবে এবং বাংলাদেশ রেলওয়ে নামে নতুন একটি পেজ আসবে। এখানে ইউজার অটো লগইন হয়ে যাবে। প্রথমে বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। অটো লগইন না হয়ে থাকলে প্যানেলে ই-মেইল ও পাসওয়ার্ড পূরণ করে লগইন বাটনে ক্লিক করতে হবে। লগইনের পর যে পেজ আসবে তাতে কাঙ্ক্ষিত ভ্রমণ তারিখ, প্রারম্ভিক স্টেশন, গন্তব্য স্টেশন, শ্রেণি পূরণ করে ফাইন্ড টিকিট বাটনে ক্লিক করতে হবে। পরের পেজে ট্রেনের নাম, সিট অ্যাভেলেবিলিটি (আসন আছে কি নেই) ও ট্রেন ছাড়ার সময় দেখা যাবে। ট্রেন অনুযায়ী ভিউ সিটস বাটনে ক্লিক করে আসন খালি থাকাসাপেক্ষে পছন্দের আসন সিলেক্ট করে কন্টিনিউ পারচেজে ক্লিক করতে হবে।
ভিসা, মাস্টার কার্ড কিংবা বিকাশে পেমেন্ট করলে একটি ই-টিকিট অটো ডাউনলোড হবে। পাশাপাশি যাত্রীর ই-মেইলে টিকিটের কপি চলে যাবে। ই-মেইলের ইনবক্স থেকে টিকিট প্রিন্ট করে ফটো আইডিসহ ই-টিকেট প্রদত্ত টিকিট প্রিন্ট ইনফরমেশন দিয়ে সংশ্লিষ্ট সোর্স স্টেশন থেকে যাত্রা শুরুর আগে ছাপানো টিকিট সংগ্রহ করা যাবে।