প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৫শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৭শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

বড়লেখায় যুবকের আত্মহত্যার মামলায় নার্স গ্রেপ্তার, কে এই লাক্সমী?

editor
প্রকাশিত আগস্ট ১৯, ২০২৬, ০৫:৩৩ পূর্বাহ্ণ
বড়লেখায় যুবকের আত্মহত্যার মামলায় নার্স গ্রেপ্তার, কে এই লাক্সমী?

Manual3 Ad Code

বড়লেখা প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ইলিয়াছ হোসাইন (৩৮) নামের এক ইলেকট্রিশিয়ানের আত্মহত্যার ঘটনায় করা মামলায় লাক্সমী রংডি (২৪) নামের এক তরুণীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। লাক্সমী বড়লেখা পলি ক্লিনিকের স্টাফ নার্স। তাঁর বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেছেন ইলিয়াছের বাবা মো. ইউসুফ আলী।

গত ১১ আগস্ট রাত ১০টার দিকে বড়লেখা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মুড়িরগুল গ্রামে নিজ বাড়িতে আত্মহত্যা করেন ইলিয়াছ।

Manual8 Ad Code

জানা গেছে, আত্মহত্যার আগে মুঠোফোনে এক নারীর সঙ্গে তাঁর (ইলিয়াছের) উত্তপ্ত কথাবার্তা হয়েছিল। পরে ওই নারী ইলিয়াছের বাবার মুঠোফোনে কল করে তাঁকে দিতে বলেন। ইলিয়াছের মা ফোনটি ধরে জানান, ইলিয়াছ ঘরে নেই। তখন অপর প্রান্তের নারী জোর দিয়ে বলেন, ‘ইলিয়াছ ঘরেই আছে, তাঁকে দেন।’ এরপর ইলিয়াছের মা তাঁর ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ পান। ধাক্কাধাক্কি করেও দরজা না খোলায় টিনের পার্টিশনের ফাঁক দিয়ে দেখতে পান, গলায় গামছা পেঁচিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছেন ইলিয়াছ। পরে তাঁকে উদ্ধার করে বড়লেখা হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

যে কারণে মামলায় লাক্সমী
ইলিয়াছের বাবার করা মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইলিয়াছ বিবাহিত এবং এক সন্তানের বাবা। পেশায় ইলেকট্রিশিয়ান। বড়লেখা পলি ক্লিনিকে ইলেকট্রিশিয়ানের কাজে যাতায়াতের সূত্রে ওই ক্লিনিকের স্টাফ নার্স লাক্সমীর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ১১ আগস্ট রাতের ঘটনার আগে মুঠোফোনে লাক্সমীর সঙ্গে ইলিয়াছের উত্তপ্ত কথাবার্তা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে ইলিয়াছ ‘আমি এখন আসতে পারব না’ বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এর কিছুক্ষণ পর ইলিয়াছের বাবার মুঠোফোনে একটি কল আসে। তাঁর মা ফোনটি ধরলে অপর প্রান্তের নারী ইলিয়াছকে দিতে বলেন। নিজের পরিচয় না দিয়ে ওই নারী দাবি করেন, ইলিয়াছ ঘরেই আছেন। পরে ইলিয়াছের মা ঘরে গিয়ে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে ওই মুঠোফোন নম্বরের সূত্র ধরে কল করা নারী হিসেবে লাক্সমীর পরিচয় পাওয়া যায় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

পরদিন ১২ আগস্ট ইলিয়াছের বাবা মো. ইউসুফ আলী বাদী হয়ে লাক্সমী রংডির বিরুদ্ধে বড়লেখা থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। পরে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। লাক্সমী এখন কারাগারে রয়েছেন।

Manual7 Ad Code

কে এই লাক্সমী রংডি?
পরিচিতজনদের কাছে ‘লাক্সমী রংডি’ নামে পরিচিত লাক্সমী কুলাউড়া উপজেলার সাহেবটিলা এলাকার বাসিন্দা ফরিদ সাংমার মেয়ে। প্রায় আড়াই বছর ধরে তিনি বড়লেখা পলি ক্লিনিকে স্টাফ নার্স হিসেবে কাজ করছিলেন।

Manual7 Ad Code

স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের ভাষ্য, ইলিয়াছকে বিয়ে করার বিষয়ে লাক্সমীর আগ্রহ ছিল। এ জন্য তিনি পলি ক্লিনিকের চাকরি থেকে অব্যাহতি চেয়েছিলেন বলেও স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। তবে ক্লিনিকের এক মেডিকেল অফিসার তাঁকে অব্যাহতি দেননি—এমন কথাও স্থানীয়দের মধ্যে ছড়িয়েছে। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে লাক্সমী ও ইলিয়াছের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি। তবে এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মেডিকেল অফিসারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Manual7 Ad Code

বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান খান বলেন, ইলেকট্রিশিয়ান ইলিয়াছ হোসাইনের আত্মহত্যার ঘটনায় তাঁর বাবা পলি ক্লিনিকের নার্স লাক্সমী রংডিকে আসামি করে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেছেন। মামলার পর পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।

ইলিয়াছের আত্মহত্যার প্রকৃত কারণ এবং এ ঘটনায় কারও প্ররোচনা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০  

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code