বিয়ানীবাজারে মাঘের শীতকে ছাড়িয়ে উষ্ণতা ছড়াচ্ছে ভোট উৎসব, আছে আতঙ্ক
বিয়ানীবাজারে মাঘের শীতকে ছাড়িয়ে উষ্ণতা ছড়াচ্ছে ভোট উৎসব, আছে আতঙ্ক
editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬, ০১:০২ অপরাহ্ণ
Manual6 Ad Code
ছবি: তিলপাড়ার চান্দলায় হামলার শিকার বিএনপি নেতা ইসলাম উদ্দিন/
Manual3 Ad Code
মিলাদ জয়নুল:
মাঘের শীতলতাকে ছাড়িয়ে এখন উষ্ণতা ছড়াচ্ছে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন। শুরু থেকেই কী এক অজ্ঞাত কারণে এই নির্বাচন আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে ব্যাপক বিভ্রান্তি ছিল জনমনে। কিন্তু দ্বিধা আর বিভ্রান্তি কাটিয়ে নির্বাচনী উৎসব শুরু হয়েছে। বিয়ানীবাজারেও গত দেড়যুগ পর বিরাজ করছে সেই আমেজ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারাদেশের ন্যায় বিয়ানীবাজারজুড়ে শুরু হয়েছে জোরালো নির্বাচনী প্রচারণা। ১৭ বছর পর একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের দিকে হাঁটছে এই জনপদ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আনুষ্ঠানিক প্রচারের শেষলগ্নে ব্যস্ত সময় পার করেছেন প্রার্থীরা। বিয়ানীবাজারের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপও ছড়িয়েছে।
Manual2 Ad Code
নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে, বিয়ানীবাজারের সার্বিক চিত্র ততই বদলে যাচ্ছে। এই বদল কেবল পোস্টার, মাইক কিংবা গণসংযোগের ভিড়ে নয়—এই বদল মানুষের কথাবার্তায়, আড্ডায়, এমনকি কারও কারও নীরবতার ভেতরেও। বাজারে, রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে, চায়ের দোকানে বসে কিংবা গ্রামের উঠানে, সবখানেই এখন একটাই আলোচনা—ভোট।
সরজমিন দেখা যায়, সোমবার দুপুর থেকে বিয়ানীবাজার পৌরশহরে চারটি নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। শহরের দক্ষিণ বাজারে প্রথম জনসভা করেন দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। এরপর একইস্থানে সন্ধ্যার পর জনসভা করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হাফিজ ফখরুল ইসলাম। শহরের উত্তর বাজারে প্রেসক্লাবের সামনে জনসভা করেন গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী জাহিদুর রহমান, সন্ধ্যায় জনসভা করেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবদুন নূর। এসব নির্বাচনী জনসভায় বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ করে জামায়াত এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর সভায় ছিল উপচে পড়া উপস্থিতি। এদিকে একটি রেষ্টুরেন্টে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন জামায়াত প্রার্থী সেলিম উদ্দিন।
অপরদিকে সকালে উপজেলা প্রশাসন নির্বাচনী প্রস্তুতিমুলক সভার আয়োজন করে। এতে সিলেটের জেলা প্রশাসক অংশ নেন।
সুজন বিয়ানীবাজার উপজেলা শাখার সভাপতি এডভোকেট মো: আমান উদ্দিন বলেন, বিয়ানীবাজারে রাজনীতির একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য আছে। এখানে নির্বাচন মানেই শুধু দল আর প্রার্থীর লড়াই নয়; এটা মানুষের সামাজিক মিলনমেলা, স্মৃতিচারণা, প্রত্যাশা আর ক্ষোভ প্রকাশেরও উপলক্ষ। বহুদিন পরপর এমন একটি সময় আসে, যখন রাজনীতি সাধারণ মানুষের দরজায় এসে কড়া নাড়ে। এবারের নির্বাচনেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
বিয়ানীবাজার উপজেলার গ্রাম থেকে শহর, সবখানেই এখন নির্বাচনী আমেজ। কোথাও গণসংযোগ ঘিরে উৎসব, কোথাও আবার দ্বিধা ও প্রশ্ন। মানুষের মধ্যে আগ্রহ আছে, আবার সংশয়ও আছে। জামায়াত প্রার্থী সেলিম উদ্দিনের কর্মী রাসেল আহমদ বলেন, জনসংযোগে মানুষের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী এমরান আহমদ চৌধুরীর জনসংযোগে যোগদানকারী জেলা বিএনপি নেতা আবু নাসের পিন্টু বলছেন, ‘এক আশ্চর্য জোয়ার এসেছে মানুষের মনে। স্বতঃস্ফূর্তভাবে মানুষ এগিয়ে আসছে।’
Manual6 Ad Code
এই মনোভাবই আসলে বিয়ানীবাজারের বর্তমান নির্বাচনী বাস্তবতা। মাঠে দেখা যাচ্ছে, প্রার্থীরা ব্যস্ত। কেউ গ্রাম থেকে গ্রামে ঘুরছেন, কেউ শহরে সভা করছেন। দলীয় নেতা–কর্মীরা সক্রিয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচার চলছে। তবে সেই সঙ্গে চলছে নানা গুঞ্জন, হিসাব-নিকাশ, জোটের অঙ্ক। সাধারণ ভোটার এসব খবর ঠিকমতো বুঝে উঠতে পারছেন কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন।
বিয়ানীবাজারের পল্লীতে নির্বাচনকে ইস্যু করে এক বিএনপি নেতার উপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলায় আহত ব্যক্তি ইসলাম উদ্দিন তিলপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির ৭নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক। সোমবার দুপুরে চান্দলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
তিলপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী জানান, রবিবার বাড়ি-বাড়ি গিয়ে কয়েকজন বহিরাগত নারী ভোট চাইতে থাকে। তখন ভোটার আইডি কার্ড চাওয়া নিয়ে ইসলাম উদ্দিনের সাথে ওই নারীদের তর্কাতর্কি হয়। এর জের ধরে সোমবার দুপুরে নিজ রাইস মিলের (ধান ভাঙ্গানোর মেশিন) সামনে বসা অবস্থায় তার উপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
তবে একই গ্রামের প্রবাসী সাংবাদিক হাসান আহমদ এক ফেসবুক বার্তায় বলেন, বিএনপি নেতা ইসলাম উদ্দিন জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের নানাভাবে উস্কানী দিচ্ছেন, ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। সোমবার জামায়াত-শিবিরের জমায়েতস্থলে এসেও তিনি আপত্তিকর মন্তব্য করতে থাকেন। তখন গালাগালি না করার জন্য উনাকে বলা হলে উনি পাল্টা আঘাত করতে উদ্ধ্যত হন।
আহত বিএনপি নেতাকে দেখতে যান সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি নজমুল হোসেন পুতুল, নির্বাচনী আসনে বিয়ানীবাজার উপজেলা সমন্বয়কারী আব্দুল মন্নান প্রমুখ।