বিয়ানীবাজারের স্মৃতির মিনারগুলোতে নেই বৈচিত্র্য কিংবা নান্দনিকতা। এখানকার শিক্ষাপ্রতিষ্টান কেন্দ্রিক নির্মিত এসব শহীদ মিনারগুলো একদম সাদামাটা। উপজেলাব্যাপী অন্তত: ৩০টি শহীদ মিনার থাকলেও আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি।
বিয়ানীবাজারের প্রধান শহীদ মিনার সরকারি কলেজে নির্মিত হয়েছে। প্রতিবছর ২১শে ফেব্রুয়ারীর প্রথম প্রহরে এখানে কেন্দ্রিয়ভাবে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। ভাষা শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা জানাতে আসলেও শৃংখলার বালাই নেই তাতে।
Manual5 Ad Code
উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি পুরনো আদলে নির্মিত। বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘শহীদ মিনার একটি আবেগের জায়গা। আমাদের কলেজের শহীদ মিনারটি আধুনিক স্থাপত্যে নির্মিত হয়নি। প্রশাসনের কাছে দাবি থাকবে দ্রুত যেন শহীদ মিনারের ডিজাইনে সংস্কার করা হয়। অপর শিক্ষার্থী তুহিন বলেন, ‘শহীদ মিনার একটি স্পর্শকাতর স্থান। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে এগুলো আধুনিক করতে হবে।’
সরকারি কলেজ ছাড়াও বিয়ানীবাজার পৌরশহরের খলিল চৌধুরী আদর্শ বিদ্যা নিকেতন, বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার স্থাপন করা হয়েছে। তবে সবগুলো মিনারই পুরনো ধাঁচের।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদির জানান, ভাষা আন্দোলনে বাঙালি জাতির চোখ ফুটেছিল। এই আন্দোলনের কারণে পরবর্তীতে দেশ স্বাধীনের আন্দোলনে সফল হয়েছিল বাঙালি জাতি। তাই এই শহীদ মিনারের নকশা করার সময় আমাদের কনসেপ্ট অরো যুগোপযোগী হওয়া উচিত।
Manual3 Ad Code
বিয়ানীবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মিলাদ মো: জয়নুল ইসলাম বলেন, উপজেলার শহীদ মিনারগুলোর নির্মাণে ভাবনার বৈচিত্র নেই। অথচ ভাবনার ভিন্নতা অনন্যরূপ দিতে পারতো স্মৃতির মিনারগুলোকে। এতে শুধু ২১শে ফেব্রুয়ারিতে নয়, সারা বছরই স্থানীয় মানুষজন বর্ণমালার স্মৃতিবিজড়িত এই স্থাপনা দেখতে যেতে পারেন।