সিলেট-৬ বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ নির্বাচনী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সরকার।
আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, এমপি ও দলটির নেতাসহ গুরুত্বপূর্ণ ১৪৯ ব্যক্তির বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সরকার। পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) থেকে এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের সব বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন শাখায় পাঠানো হয়েছে। ওই তালিকায় নুরুল ইসলাম নাহিদের নামও রয়েছে।
Manual3 Ad Code
নিষেধাজ্ঞার ওই তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন ১৫ জন সাবেক মন্ত্রী, ৮ জন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ২০ জন সাবেক সচিব ও ৬৪ জন সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি)। এ ছাড়া তালিকাটির মধ্যে এমন অন্তত ৮ জন রয়েছেন, যারা গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে বা পরে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। আরও ৭ জন বিদেশে পালিয়েছেন। বিগত সরকারের আমলের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর নামও রয়েছে এ তালিকায়।
পুলিশের বিশেষ শাখার কর্মকর্তারা জানান, যাদের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া রয়েছে, তাদের নামে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দুর্নীতি, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। তারা দেশ ছেড়ে গেলে রাষ্ট্রবিরোধী কাজে লিপ্ত হতে পারেন। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞার আওতায় যারা আছেন, তারা আবার বিভিন্ন মাধ্যমে অবৈধভাবে দেশ ছাড়ার চিন্তা করছেন। এতে করে দেশের ভাবমূর্তি বিদেশে ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র বেগবান হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ জন্য তাদের বিদেশ যেতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অপরদিকে যদি কোনো ব্যক্তি নিজেকে নির্দোষ মনে করেন, তাহলে তিনি বিদেশে যেতে হলে আদালতের শরণাপন্ন হতে পারেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এসবির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গত আগস্টে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর কিছু ব্যক্তির বিদেশে যেতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া রয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন যারা: বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞার সেই তালিকায় রয়েছেন- বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, সাবেক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, সাবেক পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, জাবেদ পাটোয়ারি, সাবেক ডিআইজি সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, সৈয়দ নুরুল ইসলাম, হারুন অর রশীদ, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, শফিকুল ইসলাম, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি বিপ্লব কুমার সরকার, প্রলয় কুমার জোয়ার্দার, এস এম মেহেদী হাসান, সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, র্যাবের সাবেক ডিজি এম খুরশীদ হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুল ইসলাম, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন, কবীর বিন আনোয়ার, খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, এম আব্দুল আজিজ, সাবেক সচিব নাসির উদ্দিন, আব্দুল হালিম, জাকিয়া সুলতানা, মহিবুল হক, নজরুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম খান, খাইরুজ্জামান মজুমদার, ডা. খলিলুর রহমান, মোকাব্বির হোসেন ও আকবর হোসেন প্রমুখ।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় আরও রয়েছেন, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কাজী জাফর উল্লাহ, কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, কামরুল ইসলাম, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, সাবেক প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার, মেহের আফরোজ চুমকি, মোহাম্মদ এ আরাফাত, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক জাহানারা বেগম, সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, সুজিত রায় নন্দী, উপ-প্রচার সম্পাদক সৈয়দ আব্দুল আউয়াল শামীম, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য সাহাবুদ্দিন ফরাজি ও মারুফা আক্তার পপি, সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।
তালিকায় রয়েছে আওয়ামীপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন ‘স্বাচিপ’ নেতা ইকবাল আর্সলানের নাম। পাশাপাশি নানা কারণে আলোচিত শিল্পকলা একাডেমির সাবেক পরিচালক লিয়াকত আলী লাকিও রয়েছেন নিষেধাজ্ঞায়। এ ছাড়াও ব্যবসায়ী ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুনেরও বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
৭ জন সাংবাদিককে বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন- জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি শফিকুর রহমান, একাত্তর টিভির মোজাম্মেল বাবু, ডিবিসির চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরী, কলামিস্ট সুভাষ সিংহ রায়, ডিবিসির মঞ্জুরুল ইসলাম, এটিএন বাংলার জ.ই মামুন এবং পিআইবির সাবেক মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদ।