ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে ক্ষমতায় আসেন নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। সে সময়ে প্রশাসনে ঘনঘন পরিবর্তন আর নানামুখি অস্থিরতায় বিয়ানীবাজারের প্রশাসনিক ব্যবস্থাও নড়বড়ে হয়ে পড়ে। প্রত্যাশা অনুযায়ী সেবা পাননি উপজেলার মানুষ।
Manual4 Ad Code
স্থানীয় প্রশাসনের বড় তিন পদ উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পদে বিরতিহীন বদলী চলতে থাকে। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে বদলী নিয়ে একরকম সংশয় তৈরী হয়। এতে গতিহীন হয়ে পড়ে বিয়ানীবাজারের সার্বিক প্রশাসনিক কার্যক্রম।
বর্তমানে নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছেন। তারাও নিজের মত করে সকল স্তরের প্রশাসন সাজাবেন-এটা অনায়াসে বলা যায়। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে দ্রæত বিয়ানীবাজারের উপজেলা প্রশাসনের জনবল সংকট দূর করার দাবী স্থানীয়দের। যদিও জনবল সংকটে এখানকার প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে বেশ স্থবিরতা দেখা দেয়। নতুন সরকারের সামনে প্রশাসনকে ঢেলে সাজানো ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত’ করা অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। ইউএনও, এসিল্যান্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ বেশকিছু পদে পরিবর্তন আসতে পারে যে কোন সময়।
বিয়ানীবাজার উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন সরকারি দফতরে যে পরিমাণ লোকবল থাকার কথা তা নেই বহুবছর থেকে। ফলে কাজ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে। জনবল সংকটের কারণে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কার্যক্রম বেশ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। প্রশাসনে শূন্যপদগুলোর কারণে স্থানীয় উন্নয়ন ও সাধারণ নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিয়ানীবাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক জিয়া উদ্দিন আহমদ বলেন, ন্যায়নিষ্ঠ ও নির্মোহভাবে প্রশাসনে সঠিক ব্যক্তিকে সঠিক জায়গায় বসাতে না পারলে সরকারের এগিয়ে যাওয়া কঠিন হবে। এক্ষেত্রে জনবল সংকট দূর করে প্রশাসনে গতি আনতে হবে। উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
Manual1 Ad Code
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিয়ানীবাজার উপজেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রনে থাকা ভূমি অফিস, ইউনিয়ন তফশিল অফিস, সমাজসেবা, শিক্ষা, মাধ্যমিক শিক্ষা, কৃষি, জনস্বাস্থ্য, যুব উন্নয়ন, প্রকৌশল, প্রকল্প বাস্তবায়ন, মৎস্য অফিসসহ অন্যান্য দপ্তরের কাজকর্ম বেশ গতিহীন। অপেক্ষাকৃত কম জনবল সংকটের দোহাই দিয়ে স্থিমিত হয়ে পড়া দপ্তরগুলোকে নিয়ে পৃথক সভা আহবান করা উচিত বলে মনে করেন উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মুফতি শিব্বির আহমদ। পৌর দপ্তর এবং ইউপি চেয়ারম্যানদের কাজও তদারকির আনায় প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরোও বলেন, সবচেয়ে দূর্বল এবং অলস বিভাগ হিসাবে ভূমি অফিসের কার্যক্রমে দ্রæততা ফিরিয়ে আনার জন্য সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
Manual7 Ad Code
সূত্র জানায়, বিয়ানীবাজারের অবকাঠামোগত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে বছরের পর বছর বিলম্ব এখন এক ধরনের নিয়মে পরিণত হয়েছে। শুরুতে যে সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়, বাস্তবে তার একাধিক গুণ বেশি সময় লাগছে। ফলে ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে কয়েকগুণ, কিন্তু প্রত্যাশিত সুফল আসছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের বিলম্বের মূল কারণ দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়ের ঘাটতি।
বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের সমন্বয়ে পুরো এলাকার চিত্র পাল্টে দেয়া সম্ভব বলে জানান সুজন সভাপতি এডভোকেট মো: আমান উদ্দিন। তিনি বলেন, ইউএনও উপজেলার প্রশাসনিক প্রধান। তার উপর সকল বিভাগের দায়িত্ব। তিনি সক্রিয় হলে সব বিভাগ সচল হবে। প্রতিটি প্রকল্পের কাজ তদারকি এবং সমন্বয় করলে প্রশাসনে গতি ফিরবে।
Manual2 Ad Code
প্রায় সোয়া দুই লাখ ভোটার অধ্যুষিত বিয়ানীবাজার উপজেলা। বহুবছর থেকে এখানে প্রশাসনিক কাজ শ্লথ। রাজনৈতিক সচেতন এই জনপদকে নানাভাবে পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে নতুন সরকার, নতুন জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনের হারিয়ে যাওয়া গতি ফের ফিরবে কি-না, তা দেখার অপেক্ষায় উপজেলাবাসী।
বিয়ানীবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মিলাদ মো: জয়নুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনের প্রথম কাজ জনবল সংকট কাটানো। জনবল নিয়োগ দিয়ে সকল বিভাগকে ঢেলে সাজানোর বিকল্প নেই। সরকারি দপ্তরে কাজের ধীরগতি, জনবল সংকট বা বিশেষ পরিস্থিতিতে আবেদনের স্তুপ জমে যায়, যা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ায়।