বিয়ানীবাজারে ৬ মাস পরও ‘ক্লুলেস’ সুনীল মৃত্যু রহস্য
বিয়ানীবাজারে ৬ মাস পরও ‘ক্লুলেস’ সুনীল মৃত্যু রহস্য
editor
প্রকাশিত এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ
Manual5 Ad Code
স্টাফ রিপোর্টার:
বিয়ানীবাজারে মরদেহ উদ্ধারের ৬ মাস পরও ক্লুলেস ইলেকট্রিক মিস্ত্রী সুনীল আচার্য (৫০)’র মুত্যু ঘটনা। নিখোঁজের প্রায় ৩ দিন পর বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার হয়। ঘটনা পরবর্তী সুনীল মুত্যু রহস্য উদঘাটনে নানা তৎপরতা শুরু হলেও এখন তা অনেকটা হিমাঘারে।
Manual6 Ad Code
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বিয়ানীবাজার থানার এসআই কালাম জানান, সুনীল আচার্যের মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে তার মরদেহ ময়নাতদন্ত করা হয়। কিন্তু সেই প্রতিবেদন এখনো আসেনি।
নিখোঁজ থেকে লাশ উদ্ধার:
গত বছরের ২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন সুনীল আচার্য্য। খাসা গ্রামের মৃত সুখময় আচার্যের ছেলে সুনীল পেশায় ছিলেন ইলেকট্রিক মিস্ত্রী। সংসার চালাতেন দিনমজুরির মতোই পরিশ্রমে।
তিনি নিয়মিত কসবা ত্রিমুখি বাজারে কাজ শেষে রাতের আড্ডা শেষে মধ্যরাতে বাড়ি ফিরতেন। নিখোঁজের রাতেও বাজারের একটি মুদি দোকান থেকে সিগারেট কিনতে দেখা গেছে তাকে। এরপর রাত ১২টার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ হন।
রবিবার সকাল ৮টার দিকে, নিখোঁজের তিনদিন পর, তার মরদেহ উদ্ধার হয় খাসা এলাকায় নিজ বাড়ির অদূরে একটি পরিত্যক্ত জায়গা থেকে। মরদেহের অবস্থান ছিল পচনধরা ও ফুলে ওঠা।
মরদেহে সন্দেহজনক চিহ্ন:
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সুনীলের শরীরের কয়েকটি স্থানে আঘাতের দাগ ছিল। বিশেষ করে হাতে কাটার মতো দাগ এবং অণ্ডকোষে ফুলে ওঠার লক্ষণ পাওয়া গেছে। তবে ঘটনাস্থলে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন পাওয়া গেলেও মানিব্যাগ পাওয়া যায়নি, যা তদন্তে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
তদন্তে একাধিক টিম:
মরদেহ উদ্ধার পরবর্তী স্থানীয় থানা পুলিশ ও ডিবি এ ঘটনার আলাদা তদন্ত শুরু করে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল এবং পার্শ্ববর্তী এলাকা একাধিকবার পরিদর্শন করেন। তবে এরপর রহস্য উদঘাটনে আর অগ্রগতি নেই। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের করা হত্যা মামলাটি তদন্তের জন্য অন্য কোন সংস্থাকে দিতে সিলেটের পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন জানানো হয়।
সুনীল আচার্য কোথায় এবং কাদের সঙ্গে ছিলেন নিখোঁজের রাতে, কেন তার মানিব্যাগ হারিয়ে গেছে, অথচ মোবাইল ফোন ঘটনাস্থলেই ছিল, মৃত্যুর আগে কি কোনো শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন তিনি, এটি কি পরিকল্পিত হত্যা, নাকি কোনো পেশাগত বা ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের ফল, নারী ঘটিত কোন কারণ নাকি মাদক ব্যবসাীয়দের টার্গেট ছিলেন-এসব বিষয় সামনে রেখে পুলিশের তদন্ত চলছে বলে সূত্র জানায়। যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাংবাদিক হাসানুল হক উজ্জ্বল সম্প্রতি নিজের এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেন, অসম প্রেমের বলি সুনীল। তার এ তথ্যে এলাকাবাসীর মনে সুনীল মৃত্যূ রহস্য নতুন কলে আলোচনায় এসেছে।
Manual8 Ad Code
পরিবারের দাবি ও ক্ষোভ:
নিহতের ভাই ও মামলার বাদী বকুল আচার্য্য জানিয়েছেন, আমার ভাইয়ের হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত মনে হচ্ছে। আমরা অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছি। তবে এখনো পর্যন্ত রহস্য উদঘাটন না হওয়ায় আমরা হতাশ।
Manual1 Ad Code
পুলিশের ভাষ্য:
Manual7 Ad Code
বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ মো: ওমর ফারুক বলেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন আসেনি। তবে আমাদের তদন্ত চলমান। খুব শিগগিরই ঘটনার পেছনের রহস্য উন্মোচন করা হবে।