প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

৪ঠা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২০শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২১শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী : সংবিধান কী বলে, কেন প্রয়োজন?

editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ
টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী : সংবিধান কী বলে, কেন প্রয়োজন?

Manual1 Ad Code

 

প্রজন্ম ডেস্ক:

বিএনপি সরকারের নতুন মন্ত্রিসভায় শপথ নেওয়ার জন্য তিনজন টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীকে ডাকা হয়েছে। জানা গেছে, তাদের মধ্যে দুজন পূর্ণমন্ত্রী এবং একজন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে— টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী আসলে কী এবং কেন তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়?

 

Manual6 Ad Code

সাধারণত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মন্ত্রী হওয়ার প্রচলিত পথ হলো জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য (এমপি) হওয়া। তবে রাষ্ট্র পরিচালনায় অর্থনীতি, আইন, প্রযুক্তি, বিজ্ঞান কিংবা আন্তর্জাতিক কূটনীতির মতো জটিল ও বিশেষায়িত ক্ষেত্রগুলো দক্ষতার সঙ্গে সামলাতে বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন হয়। ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মধ্যে যদি সে ধরনের বিশেষজ্ঞের অভাব থাকে অথবা নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জন্য আলাদা দক্ষতা প্রয়োজন মনে করা হয়, তখন বাইরে থেকে যোগ্য ব্যক্তিদের মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদেরই বলা হয় ‘টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী’। সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে তারা অন্যান্য মন্ত্রীদের মতোই সুবিধা ভোগ করেন।

বাংলাদেশের সংবিধানে সরাসরি ‘টেকনোক্র্যাট’ শব্দটির উল্লেখ নেই। তবে বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৬(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মন্ত্রিসভার অন্তত ৯০ শতাংশ সদস্য নির্বাচিত সংসদ সদস্য হতে হবে। বাকি ১০ শতাংশ সদস্য সরকারপ্রধান সংসদের বাইরে থেকে নিয়োগ দিতে পারেন। প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রয়োজন মেটাতে এই ১০ শতাংশ কোটায় সাধারণত বিভিন্ন পেশাজীবী ও বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করা করা হয়।

 

Manual7 Ad Code

তবে অন্যান্য মন্ত্রীদের মতোই টেকনোক্র্যাটদেরও নির্দিষ্ট আইনি যোগ্যতা থাকতে হয়— যেমন ন্যূনতম ২৫ বছর বয়স, বাংলাদেশের নাগরিকত্ব এবং গুরুতর ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত না হওয়া। কিন্তু তাদের একটি সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। সংবিধানের ৭৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, তারা সংসদে বক্তব্য রাখতে ও আলোচনায় অংশ নিতে পারেন, তবে কোনো প্রস্তাবে ভোটাভুটির সময় ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিতে পারেন না।

 

Manual4 Ad Code

১৯৯১ সালে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর থেকে প্রায় সব সরকারই টেকনোক্র্যাট কোটার সুবিধা নিয়েছে। ১৯৯১-১৯৯৬ মেয়াদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার সেলিনা রহমান ও রিয়াজ রহমানকে এই কোটায় প্রতিমন্ত্রী করেছিল। পরে ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে শেখ হাসিনা অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেন শাহ এ এম এস কিবরিয়াকে। ২০০১ সালের চারদলীয় জোট সরকার আমলেও রিয়াজ রহমানকে পুনরায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা হয়।

২০০৯ সালের পর টেকনোক্র্যাট কোটার ব্যবহার আরও বিস্তৃত হয়। বামপন্থি রাজনীতিক দিলীপ বড়ুয়া, আইনজীবী শফিক আহমেদ, প্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার এবং স্থপতি ইয়াফেস ওসমানসহ বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিরা এই কোটায় গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। এমনকি ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে গঠিত স্বল্পস্থায়ী মন্ত্রিসভাতেও বার্ন বিশেষজ্ঞ ডা. সামন্ত লাল সেন টেকনোক্র্যাট কোটায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

Manual5 Ad Code

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭৩০
৩১  

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code