প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

৩রা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৯শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২০শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

ইরান ইস্যুতে কেন দূরত্ব বজায় রাখছে রাশিয়া-চীন

editor
প্রকাশিত মার্চ ৫, ২০২৬, ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ
ইরান ইস্যুতে কেন দূরত্ব বজায় রাখছে রাশিয়া-চীন

Manual7 Ad Code

 

Manual6 Ad Code

প্রজন্ম ডেস্ক:

ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ত্রিমুখী যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ছাড়িয়েছে। তেহরানের প্রধান দুই কূটনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদার রাশিয়া এবং চীন এই যুদ্ধকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিলেও সামরিকভাবে ইরানের পাশে দাঁড়াতে অনীহা দেখাচ্ছে। শক্তিশালী এই দুই বন্ধু রাষ্ট্রের এমন ‘দূরত্ব বজায় রাখা’র নীতি নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক মহলে নানা বিশ্লেষণ চলছে।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই নেপথ্য কারণগুলো উঠে এসেছে।

Manual2 Ad Code

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি একে ‘মানবিক নৈতিকতার সব নিয়মের নিষ্ঠুর লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইসরায়েলি সমকক্ষ গিডন সারকে জানিয়েছেন, ‘শক্তি দিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়’। রাশিয়া ও চীন যৌথভাবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকের আহ্বান জানালেও সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের কোনো ইঙ্গিত দেয়নি।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে একটি ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি সই হয়। এতে প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা সমন্বয়ের কথা থাকলেও ‘পারস্পরিক প্রতিরক্ষা’র (মিউচ্যুয়াল ডিফেন্স) কোনো শর্ত ছিল না।

রুশ থিঙ্কট্যাংক ভালদাই ডিসকাশন ক্লাবের সদস্য আন্দ্রে কর্টুনভ জানান, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার যে প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে, ইরানের সঙ্গে তেমনটি নেই। উত্তর কোরিয়া আক্রান্ত হলে রাশিয়া সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য, কিন্তু ইরানের ক্ষেত্রে চুক্তিতে কেবল ‘শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার’ কথা বলা হয়েছে।
এছাড়া ইউক্রেন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্যস্থতার পথ খোলা রাখতে রাশিয়া এই মুহূর্তে সরাসরি ইরানে সেনা বা অস্ত্র পাঠাতে আগ্রহী নয়। এতে তেহরানের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা তৈরি হয়েছে।

২০২১ সালে চীনের সঙ্গে ইরানের ২৫ বছর মেয়াদী একটি বড় সহযোগিতা চুক্তি হয়। তবে চীনের তসিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জোডি ওয়েন বলেন, চীন বরাবরই অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতিতে অটল। বেইজিং হয়তো তেহরানকে অস্ত্র দেবে না, তবে কূটনৈতিক মধ্যস্থতায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

পরিসংখ্যান বলছে, ইরানের বার্ষিক অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৮৭ দশমিক ২ শতাংশ যায় চীনে। ফলে ইরানের জন্য চীন অর্থনৈতিকভাবে অপরিহার্য হলেও, দেশটির বিশাল বৈশ্বিক বাণিজ্যের তুলনায় ইরান খুবই ছোট অংশীদার। সিঙ্গাপুরের নানয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ডিলান লোহ মনে করেন, চীন মূলত মধ্যপ্রাচ্যে নিজের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা এবং আঞ্চলিক বিপর্যয় ঠেকাতেই বেশি মনোযোগী।

Manual8 Ad Code

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানের পর থেকেই রাশিয়া ও চীন তাদের রাজনৈতিক ঝুঁকি পুনর্মূল্যায়ন করছে। ফলে কূটনৈতিক স্তরে তেহরানের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিলেও, যুদ্ধের ময়দানে ইরানকে আপাতত একাই লড়তে হচ্ছে।

Manual6 Ad Code

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭৩০
৩১  

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code