সচিবালয়ের সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সরকারের নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রতিপালন হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে সচিবালয়ে নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ইতোমধ্যে একটি তদারকি কমিটি গঠন করেছে। শিগগিরই আরও একাধিক কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সচিবালয়ের প্রতিটি ভবনে থাকা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে আলাদা আলাদা কমিটি গঠন করা হবে। এসব কমিটিতে একজন অতিরিক্ত সচিব বা যুগ্ম সচিবকে প্রধান করে উপসচিব ও সিনিয়র সহকারী সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তাদের মূল দায়িত্ব হবে অফিস কক্ষগুলোতে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত তদারকি করা।
Manual5 Ad Code
বিশেষ করে লাইট, ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনারসহ অন্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির যথাযথ ও সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এসব কমিটি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ইতোমধ্যে এ ধরনের কমিটি গঠনের নির্দেশনা দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এদিকে জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে গতকাল সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সরকারি কর্মচারীদের আনা-নেওয়ার জন্য স্টাফ বাস ছাড়ার নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করে একটি সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে স্টাফ বাস চলাচলের নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের আগে ছাড়লে ব্যবস্থা নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
Manual7 Ad Code
বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের জারি করা সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বোর্ডের নিজস্ব ও বিআরটিসি থেকে ভাড়া নেওয়া সব স্টাফ বাসকে অফিস শুরুর অন্তত ১৫ মিনিট আগে, অর্থাৎ সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে সচিবালয়ের গেটসহ নির্ধারিত স্টপেজে পৌঁছাতে হবে। এ ছাড়া অফিস শেষে প্রতিটি বাস নিজ নিজ যাত্রাস্থান থেকে বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।
Manual7 Ad Code
নির্ধারিত সময়ের আগে কোনো বাস ছেড়ে গেলে সংশ্লিষ্ট চালকের বিরুদ্ধে চাকরি বিধি অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনস্বার্থে জারি করা এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিআরটিসি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়টি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
এর আগে বৈশ্বিক জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিশ্চিত করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ২৯ মার্চ একটি অফিস আদেশ জারি করে নিজস্ব ‘বিদ্যুৎ সাশ্রয় তদারকি কমিটি’ গঠন করে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিবকে (প্রশাসন) আহ্বায়ক করে গঠিত এই কমিটিতে বিভিন্ন অধিশাখার উপসচিব, সিনিয়র সহকারী সচিব, আইসিটি সেলের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
কমিটির দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে অফিস কক্ষে বিদ্যুৎ ব্যবহারে আগে জারি করা নির্দেশনা বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা এবং এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন মাসিক সমন্বয় সভায় উপস্থাপন করা।
এদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় একই দিন (২৯ মার্চ) জারি করা আরেক নির্দেশনায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য কঠোর কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
Manual3 Ad Code
এতে বলা হয়েছে, প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিজ নিজ কক্ষে বাধ্যতামূলক অবস্থান করতে হবে এবং এ সময়সূচি ব্যাহত হয়, এমন কোনো দাপ্তরিক কর্মসূচি নির্ধারণ করা যাবে না।
দিনের বেলায় প্রাকৃতিক আলো ব্যবহারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহার পরিহার করতে হবে। প্রয়োজন ছাড়া লাইট, ফ্যান ও এয়ার কন্ডিশনার চালু রাখা যাবে না। এয়ার কন্ডিশনারের তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার ওপরে রাখতে হবে।
এ ছাড়া অফিস কক্ষ ত্যাগের সময় সব ধরনের বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ করা, করিডর ও সিঁড়িতে অপ্রয়োজনীয় আলো ব্যবহার না করা এবং অফিস সময় শেষে কম্পিউটার, প্রিন্টারসহ সব ডিভাইস বন্ধ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি অনুমতি ছাড়া আলোকসজ্জাও নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
শুধু বিদ্যুৎ নয়, জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী আচরণ এবং অফিসের সার্বিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে নির্দেশনায়। পাশাপাশি এসব নির্দেশনা বাস্তবায়ন ও মনিটরিংয়ের জন্য প্রতিটি দপ্তর, সংস্থা ও কার্যালয়কে নিজস্ব ভিজিল্যান্স টিম গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।