ক্ষমতায় আসার প্রথম ছয় মাসে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। সিনিয়র সচিব, সচিব ও অতিরিক্ত সচিব পদে বদলি, বাধ্যতামূলক অবসর, ওএসডি এবং চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের পাশাপাশি ‘সংযুক্ত’ করার ঘটনাও ঘটেছে এ সময়ে। সরকারের পক্ষ থেকে এসব পদক্ষেপকে প্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত ও দক্ষ করে তোলার উদ্যোগ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। কিন্তু প্রশাসনের ভেতরের কর্মকর্তা ও সাবেক আমলাদের একটি অংশ বলছে, পদ্ধতিগতভাবে খুব বেশি পরিবর্তন আসেনি। বরং দীর্ঘ ১৭ বছর ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের অনুসৃত চর্চারই পুনরাবৃত্তি ঘটছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, বিএনপি সরকারও কি আওয়ামী লীগের পথে হাঁটছে?
অথচ বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে প্রশাসন সংস্কারের বিষয়টি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। মেধা, দক্ষতা, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রশাসন পরিচালনার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সরকারের প্রথম ছয় মাসে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে কর্মকর্তাদের যেভাবে সরানো, বদলি বা অবসরে পাঠানো হয়েছে, তাতে সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
Manual5 Ad Code
প্রশাসনের বর্তমান ও সাবেক বিভিন্ন কর্মকর্তা মনে করেন, দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে কর্মকর্তাদের মূল্যায়নের প্রবণতা অব্যাহত থাকলে প্রশাসনে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা আসবে না। তাদের আশঙ্কা, সরকারের সঙ্গে প্রশাসনের সম্পর্কের জায়গায় যদি রাজনৈতিক আনুগত্য মুখ্য হয়ে ওঠে, তাহলে রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সরকারের ছয় মাসে ৪৪ সচিবের নিয়োগ
বর্তমানে কর্মরত ৮৯ জন সচিবের মধ্যে অন্তত ৪৪ জনকে বিএনপি সরকার নিয়োগ দিয়েছে। তাদের মধ্যে ১৬ জন চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকারসহ বর্তমানে ২১ জন সচিব চুক্তিভিত্তিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। শীর্ষ প্রশাসনে এত বড় পরিবর্তনের পরও কেন প্রত্যাশিত গতিশীলতা দেখা যাচ্ছে না? Ñএ প্রশ্নের জবাবে সরকার ঘনিষ্ঠ সাবেক একজন সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘দলীয় অনুগত ব্যক্তিদের মন্ত্রী করা যেতে পারে, কিন্তু তারা প্রশাসন চালাতে পারেন না। কয়েকজন কর্মকর্তা দীর্ঘদিন সিভিল সার্ভিসের মূলধারার বাইরে ছিলেন, অবসরের পর তাদের কেউ কেউ সক্রিয়ভাবে দলীয় রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। তাদের কয়েকজন এখন চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে রয়েছেন। সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন উঠেছেÑ কোনো কর্মকর্তার রাজনৈতিক আনুগত্য কি তার প্রশাসনিক দক্ষতার বিকল্প হতে পারে?
সরকার যে যুক্তি দেখাচ্ছে
গত ১৭ আগস্ট একটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ও সাবেক আমলা ইসমাইল জাবিহুল্লাহ বলেছেন, ‘বিগত ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ স্বৈরাচারী শাসকদের প্রতি অনুগত ও দলীয় কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে প্রশাসন থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।’ এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
সরকারের অবস্থান থেকে বোঝা যায়, প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে অতীত সরকারের সঙ্গে কর্মকর্তাদের সম্পর্ক এবং তাদের রাজনৈতিক ভূমিকা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাবেক এক মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো সরকারের সময়ে উচ্চ পদে কাজ করলেই সবাই সেই সরকারের রাজনৈতিক অনুগত হয়ে যান না।’ তার এই বক্তব্য বর্তমান প্রশাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কের একটি দিক তুলে এনেছে আর তা হলোÑ একটি সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনে পরিবর্তন প্রয়োজন হতে পারে, কিন্তু সেই পরিবর্তনের মানদণ্ড কী হবে? রাজনৈতিক পরিচয় নাকি প্রমাণিত দক্ষতা ও কাজের রেকর্ড?
শীর্ষ পদে ঘন ঘন পরিবর্তন
চলতি বছর ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে একের পর এক পরিবর্তন আনা হয়েছে। গত ১ মার্চ তৎকালীন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ানকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। তার স্থলাভিষিক্ত হন রফিকুল ই মোহাম্মদ। তিনি বিএনপি সরকারের আগের মেয়াদে বগুড়ার জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। কিন্তু গত ১০ আগস্ট রফিকুলকে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জনবিভাগে বদলি করা হয়। এর কয়েকদিন পর ২১ আগস্ট তাকে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব করা হয়।
প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, শীর্ষ পর্যায়ে এমন ঘন ঘন বদলি শুধু কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত অবস্থানকেই অনিশ্চিত করে না; সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাজেও প্রভাব ফেলে। কারণ দীর্ঘমেয়াদি নীতি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন ধারাবাহিকতা, যা এই প্রক্রিয়ার কারণে ব্যাহত হয়।
চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের যৌক্তিকতা কোথায়
অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নতুন কোনো বিষয় নয়। কিন্তু নতুন সরকারের কয়েকটি নিয়োগের ক্ষেত্রে এর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মো. আবদুন নাসের খান ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব হিসেবে অবসর নেওয়ার কয়েকদিন পর ১৬ এপ্রিল তাকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। অর্থাৎ তিনি যে মন্ত্রণালয় থেকে সচিব হিসেবে অবসর নিয়েছেন, সেখানেই তাকে রাখা হয়নি। এর প্রায় আড়াই মাস পর তাকে আবার শিল্প মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়। এ ধরনের কার্যক্রমে প্রশ্ন উঠেছে, যদি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের প্রধান কারণ হয় বিশেষায়িত অভিজ্ঞতা, তাহলে একজন কর্মকর্তাকে অল্প সময়ের মধ্যে এক মন্ত্রণালয় থেকে আরেক মন্ত্রণালয়ে সরানোর প্রয়োজন কেন হলো?
অবশ্য জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘সরকার প্রয়োজন মনে করলেই কর্মকর্তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিচ্ছে। আইনের বাইরে কিছু করা হচ্ছে না।’
Manual8 Ad Code
প্রশাসনে নতুন সংযোজন ‘সংযুক্তি’
প্রশাসনের পুরনো চর্চা হিসেবে পরিচিত বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওএসডি) পাশাপাশি এবার নতুনভাবে ‘সংযুক্তি’ও আলোচনায় এসেছে। গত ৯ জুন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব ওবায়দুর রহমানকে তার পদ থেকে সরিয়ে দুই মাসের জন্য পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়। পরে ৬ আগস্ট তাকে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়। এর আগে ২৫ মার্চ বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের সচিব সিরাজুন নূর চৌধুরী এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেককে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছিল। চার দিন পর সেই আদেশ বাতিল করা হয়। এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সচিব পদে পদোন্নতি পাওয়া ১০ জন কর্মকর্তাকেও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়। তাদের অন্তত সাতজনের চাকরির মেয়াদ তখনও এক থেকে দুই বছর বাকি ছিল। প্রশ্ন উঠছে, প্রশাসনে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার ঘাটতি থাকার কথা যখন সরকার নিজেই বলছে, তখন কর্মরত অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের দায়িত্বের বাইরে রাখার নীতি কতটা কার্যকর?
এক পদে মাত্র পাঁচ মাস
সর্বশেষ সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলাকে কোনো দায়িত্ব না দিয়ে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে। মাত্র পাঁচ মাস আগে তিনি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তার পরবর্তী দায়িত্ব বা পদায়ন কোথায় হবে তা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ই নির্ধারণ করবে। এর আগে গত বছরের ১৪ জুলাই তিনি সচিব পদে পদোন্নতি পান। এরপর প্রায় সাড়ে আট মাস সংসদ সচিবালয়ে দায়িত্ব পালন করেন।
শাস্তি নাকি সম্মানজনক বিদায়
গত ছয় মাসে একজন সচিব ও ৩২ জন অতিরিক্ত সচিবকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। সরকারের যুক্তি, আগের সরকারের সময় দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা রাজনৈতিক আনুগত্যের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের প্রশাসন থেকে সরানো প্রয়োজন। সরকার-সংশ্লিষ্ট ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তারা মনে করেন, যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতি বা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
কয়েকজন কর্মকর্তা বলেছেন, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারে জড়িত বিতর্কিত কর্মকর্তাদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর অর্থ অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত শাস্তির পরিবর্তে ‘সম্মানজনক বিদায়’-এর ব্যবস্থা করা। আবার গত কয়েক বছরে কিছু দক্ষ ও নিরপেক্ষ কর্মকর্তাকেও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। অর্থাৎ একই ব্যবস্থার মধ্যে দুটি ভিন্ন বাস্তবতা রয়েছেÑ একদিকে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের সরিয়ে প্রশাসন শুদ্ধ করা, অন্যদিকে রাজনৈতিক বিবেচনায় দক্ষ কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়ার ঝুঁকি।
যে প্রশ্ন বারবার ফিরে আসে
Manual7 Ad Code
বাংলাদেশের প্রশাসনে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে কর্মকর্তাদের ভাগ্য বদলে যাওয়ার সম্পর্ক অনেকদিনের। ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় ৩০ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৬০। উভয় সরকারের সময়ই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও প্রায় ১০০ কর্মকর্তাÑ যাদের মধ্যে ১৫ জন সিনিয়র সচিব ছিলেনÑ বাধ্যতামূলক অবসর অথবা ওএসডির শিকার হন। এখন বিএনপি সরকারের আমলেও একই ধরনের পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে। অর্থাৎ তালিকা বদল হচ্ছে কিন্তু প্রশাসনের সংস্কৃতি আগের মতোই আছে।
‘আগে যা হয়েছে, এখন কি তা-ই হচ্ছে?’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক এক মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের সামনে পেশাদারত্ব অক্ষুণ্ন রেখে প্রশাসন গড়ার বড় সুযোগ আছে। বিশেষ করে পাঁচ বছরের লক্ষ্য নির্ধারণ করে পরিকল্পিতভাবে প্রশাসন পুনর্গঠন করা খুবই সহজ ছিল। কিন্তু সরকারের ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মসূচিতে সেই সুযোগ কাজে লাগানো হয়নি।’
তিনি বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শুরুর দিকেও অনেক যোগ্য কর্মকর্তা হয়রানির শিকার হয়েছিলেন। সরকার-অনুগত নয়Ñ সেই সন্দেহে কয়েকজন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরেও পাঠানো হয়েছিল। গণঅভ্যুত্থানের পরও একই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সেই একই পদ্ধতি নতুন সরকারের সময়ও প্রয়োগ করা হলে, ক্ষমতার সঙ্গে প্রশাসনিক আনুগত্যের কেন্দ্র পরিবর্তন হতে পারে।
Manual2 Ad Code
‘প্রতিশোধ দিয়ে প্রশাসনে স্বস্তি আসবে না’
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক সচিব আনোয়ার ফারুক বলেন, ‘প্রশাসনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে প্রতিশোধের পথ থেকে বের হতে হবে। অভিজ্ঞ ও যোগ্য কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসাতে হবে। একই সঙ্গে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িতদের যথাযথ তদন্ত ও শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’
তার যুক্তি, অনেক কর্মকর্তা দীর্ঘ সময় ধরে সিভিল সার্ভিসের মূলধারার বাইরে ছিলেন। তাদের কেউ কেউ উপসচিব বা যুগ্ম সচিব হিসেবে অবসর নিয়েছেন। ফলে একটি মন্ত্রণালয় পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতা না থাকার পরও যদি শুধু রাজনৈতিক যোগাযোগের কারণে কাউকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাহলে তা সরকারের জন্যই ক্ষতিকর হতে পারে। কারণ প্রশাসনের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান। একজন কর্মকর্তার বহু বছরের অভিজ্ঞতা এক দিনে তৈরি হয় না।
এ বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এমপি বলেছেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের পর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে শুধু প্রশাসন নয়, পুরো দেশেরই কিছুটা সময় লাগবে। সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী যোগ্য ও দক্ষ কর্মকর্তাদের উপযুক্ত জায়গায় পদায়নের চেষ্টা করছে এবং পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি ঘটছে।’ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার প্রয়োজন মনে করেই এসব নিয়োগ দিচ্ছে। আইনের সীমার বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না।’