পাকিস্তানের ভারত ম্যাচ বয়কট: ৬ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি
পাকিস্তানের ভারত ম্যাচ বয়কট: ৬ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি
editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬, ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ
Manual7 Ad Code
স্পোর্টস ডেস্ক:
Manual1 Ad Code
বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়া বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে টুর্নামেন্ট বয়কটের আভাস দিয়েছিল পাকিস্তান। তবে পুরো বিশ্বকাপ নয়, শুধু ভারত ম্যাচ বয়কট করবে তারা। আর ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ আট-দশটা খেলার মতো নয়, এটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের আর্থিক আয়ের প্রধান চালিকাশক্তি। তাই এই একটি ম্যাচ না হলে আইসিসির আর্থিক কাঠামোতে যে কত বড় ধাক্কা লাগবে, তা অকল্পনীয়।
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারত ও পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলে না। তবে বৈশ্বিক ইভেন্ট এলেই দুই দলকে এক গ্রুপে রাখা হয়। কারণ এই বহুল আকাঙ্ক্ষিত ম্যাচ যে আইসিসির আয়ের খনি। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই থেকে বিশ্ব ক্রিকেট সংস্থার রাজস্ব খাত যে পরিমাণে উপচে ওঠে, তা আলোচনার বিষয়। আর আইসিসিকে ‘শায়েস্তা’ করতেই যেন এই একটি ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান।
ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি-র দাবি, ভারত-পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি ম্যাচের মূল্য অন্তত ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (৪,৫০০ কোটি রুপি), বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। সম্প্রচার স্বত্ব, বিজ্ঞাপনের প্রিমিয়াম, স্পনসরশিপ সক্রিয়করণ, টিকিট বিক্রি এবং আইনি বেটিং ও অন্যান্য নিম্নমুখী বাণিজ্যিক কার্যক্রমগুলোকে একত্র করে এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ক্রিকেটের অন্য কোনো একক ম্যাচ এর ধারেকাছেও থাকে না, যেখানে বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচের অভ্যন্তরীণ মূল্য আনুমানিক ১৩৮.৭ কোটি টাকা। সম্প্রচারকদের কাছে তাই ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ অনেকটা ‘ক্রাউন জুয়েল’।
Manual4 Ad Code
ভারত-পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি ম্যাচের বিজ্ঞাপনের হার সাধারণত প্রতি ১০ সেকেন্ডের জন্য ২৫-৪০ লক্ষ টাকা হয়ে থাকে, যা অন্য শীর্ষ দলগুলোর বিরুদ্ধে ভারতের নকআউট ম্যাচগুলোকেও ছাপিয়ে গেছে। সুতরাং এই ম্যাচটি সরিয়ে নিলে নিঃসন্দেহে টুর্নামেন্টের সম্পূর্ণ আর্থিক কাঠামোই বদলে যাবে।
Manual6 Ad Code
সবচেয়ে তাৎক্ষণিক আঘাতটি পড়বে স্বত্বাধিকারীর ওপর। শুধুমাত্র ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের বিজ্ঞাপন থেকে আয় আনুমানিক ৩০০ কোটি টাকা। সম্প্রচারকারীরা নিশ্চয়তার জন্য অর্থ প্রদান করে। মাঝপথে একটি বড় ম্যাচ নাই হয়ে যাওয়া কেবল সূচির অসুবিধা নয়— এটি মূল্যের চরম লংঘন। আর্থিক ক্ষতির কারণে জিও-স্টার ইতোমধ্যেই আইসিসির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ছাড় বা রিবেট চেয়েছে।
একবার সম্প্রচারকারীরা তাদের টাকা ফেরত নেওয়া শুরু করলে, সাধারণত আইসিসি সেই ধাক্কাটি কাটিয়ে নিলেও পরে তা অন্যদের ওপর চাপিয়ে দেয়। কেন্দ্রীয় রাজস্ব কমে যাওয়া মানে সদস্য বোর্ডগুলোর জন্য বরাদ্দ বণ্টন কমে যাওয়া, যা কেবল ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সহযোগী এবং ছোট পূর্ণ সদস্য দেশগুলো, যারা আইসিসির অর্থপ্রদানের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, তারা তাৎক্ষণিকভাবে এই টানাটানির মধ্যে পড়বে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ম্যাচটি না হলে উভয় বোর্ডই সরাসরি ও পরোক্ষ রাজস্ব বাবদ তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় ২০০ কোটি টাকা করে লোকসানের সম্মুখীন হবে। ভারতের জন্য এই ধাক্কা সামাল দেওয়া সম্ভব। পাকিস্তানের জন্য এটি অস্তিত্ব রক্ষার হিসাব। পিসিবি মোট আইসিসি রাজস্বের ৫.৭৫ শতাংশ পায়, যা বছরে প্রায় ৩৪.৫১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই অর্থের প্রবাহ নির্ভর করে নিয়ম মেনে চলা, নির্ভরযোগ্যতা এবং অংশগ্রহণের ওপর।
সবচেয়ে ক্ষতি এককালীন শাস্তি নয়— বরং ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে। সম্প্রচারকারীরা অনিশ্চয়তা অপছন্দ করে। আর এই ম্যাচ বর্জন পাকিস্তানের ভবিষ্যতের ম্যাচগুলোকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ’ হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে। এ কারণে পরবর্তীতে পাকিস্তান সম্পর্কিত সম্প্রচার মূল্য কমিয়ে দিতে পারে তারা। পাকিস্তান ম্যাচের সঙ্গে যুক্ত স্পনসরশিপের আগ্রহও কমতে পারে। বছরের পর বছর ধরে রাজস্ব হ্রাসের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে এই ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত।
Manual7 Ad Code
ভক্তদের কথাও ভাবতে হবে। হাজার হাজার ভক্ত রয়েছে যারা বিশেষভাবে এই ম্যাচের জন্য ফ্লাইট, হোটেল ও টিকিট বুক করেছিলেন। তাদের জন্যও এই ক্ষতি তাৎক্ষণিক, ব্যক্তিগত এবং অপূরণীয়।