ঋণের অর্থ ছাড়ের আগে শর্ত পর্যালোচনায় আসছে আইএমএফ প্রতিনিধিদল
ঋণের অর্থ ছাড়ের আগে শর্ত পর্যালোচনায় আসছে আইএমএফ প্রতিনিধিদল
editor
প্রকাশিত এপ্রিল ৬, ২০২৫, ০৭:০৫ পূর্বাহ্ণ
Manual6 Ad Code
স্টাফ রিপোর্টার:
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণের চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তির অর্থ ছাড়ের আগে বিভিন্ন শর্তের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে সংস্থাটির একটি প্রতিনিধিদল ঢাকায় আসছে। শনিবার প্রতিনিধিদলটি ঢাকায় আসার কথা রয়েছে।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আইএমএফ প্রতিনিধিদলটি ঋণ শর্তের অধীনে বিভিন্ন কাঠামোগত সংস্কার পর্যালোচনায় আগামীকাল (রোববার) থেকে দুই সপ্তাহ ঢাকায় সরকারের মূল সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবে।
Manual5 Ad Code
এ ছাড়া অর্থ বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, বাংলাদেশ জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ কমিশন এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করবেন আইএমএফ কর্মকর্তারা।
দলটি প্রথম দিন ৬ এপ্রিল এবং শেষ দিন ১৭ এপ্রিল বৈঠক করবে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে।এরপর সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে প্রতিনিধিদলটির সফর শেষ হবে।
Manual1 Ad Code
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে চলমান ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ কর্মসূচি থেকে কিস্তি পেতে বাংলাদেশ যে প্রথমবারের মতো হোঁচট খেয়েছে, এ দফায় তা থেকে উত্তরণ ঘটতে পারে চলতি মাসে। আর এই অর্থছাড়ের আগে বিভিন্ন শর্ত পর্যালোচনা করতেই প্রতিনিধিদলটির এই ঢাকা সফর। শর্ত পর্যালোচনা শেষ হলে আইএমএফের কাছ থেকে বাংলাদেশ ২৩৯ কোটি ডলার কিস্তির অর্থ পাবে।
Manual6 Ad Code
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে জানা গেছে, ঋণের চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তির অর্থ ছাড়ের আগে বিভিন্ন শর্ত পালনের অগ্রগতি পর্যালোচনায় আইএমএফের দলটির এই ঢাকা সফর।
২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি আইএমএফের সঙ্গে ঋণ কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর তিনটি কিস্তির অর্থ পেয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ওই বছরেই আইএমএফের কাছ থেকে প্রথম কিস্তির ৪৭ কোটি ৬৩ লাখ, দ্বিতীয় কিস্তির ৬৮ কোটি ১০ লাখ ডলার পায় বাংলাদেশ। আর ২০২৪ সালের জুনে তৃতীয় কিস্তির ১১৫ কোটি ডলার পেয়েছে। তিন কিস্তিতে প্রায় ২৩১ কোটি ডলার পেয়েছে। ঋণের অর্থছাড় বাকি আছে ২৩৯ কোটি ডলার। বিপত্তি দেখা দেয় চতুর্থ কিস্তির অর্থ ছাড়ের আগে। যদিও সরকার আশা করছে আগামী জুনে চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তির অর্থ একসঙ্গে পাওয়া যাবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইএমএফের ঋণের দুই কিস্তির অর্থ একসঙ্গে পেতে বাংলাদেশের সামনে মোটাদাগে তিনটি বাধা রয়েছে। সেগুলো হলো— মুদ্রা বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করা, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) দশমিক ৫ শতাংশ হারে বাড়তি রাজস্ব আদায় ও এনবিআরের রাজস্ব নীতি থেকে রাজস্ব প্রশাসনকে আলাদা করা।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার গত ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেওয়ার পর আইএমএফের বড় কোনো দলের ঢাকায় এটি দ্বিতীয় সফর হবে।