নবীগঞ্জ প্রতিনিধি :
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে আসামী ধরতে গিয়ে পুলিশের উপর সংঘবদ্ধ হামলা, সরকারি যানবাহন ভাঙচুর ও আসামী ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে। অভিযানে আটক করা হয়েছে ৮ জনকে। রবিবার দুপুরে এ অভিযান চালানো হয়।
পুলিশ জানায়, শনিবার (২৮ জুন) ভোররাতে নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ গজনাইপুর গ্রামে এজহারভূক্ত আসামী নজর উদ্দিনকে (৪০) গ্রেফতারে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে নেতৃত্ব দেন নবীগঞ্জ থানার ওসি শেখ মো. কামরুজ্জামান। এসময় মসজিদের মাইকে গ্রামে ‘ডাকাত প্রবেশের’ ঘোষণা দিয়ে গুজব ছড়ানো হয়। মাইকিং শুনে গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের উপর হামলা চালায়। তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং আসামী নজর উদ্দিনকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়।
গ্রামবাসীর হামলায় পুলিশ কনস্টেবল শাহ ইমরান (২৭), মোজাম্মেল হক (২৫) ও পল্টন চন্দ্র দাশ (২৫) আহত হন। তাদেরকে নবীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
হামলার সময় দুর্বৃত্তরা পুলিশের একটি ভ্যানগাড়ি এবং দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর করে। ঘটনার খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আতিকুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
Manual5 Ad Code
এই ঘটনার পরদিন রবিবার দুপুরে (২৯ জুন) জনতার বাজার এলাকা ও আশপাশে সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে চিরুনি অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ১৩ জনকে আটক করা হলে পরে যাচাই-বাছাই শেষে ৫ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ৮ জনকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
বানিয়াচং সেনা ক্যাম্পের সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হারুনুর রশিদ জানান, অভিযানে সেনাবাহিনীর একটি দল র্যাব ও পুলিশকে সহায়তা করেছে। আটককৃতদের নবীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান বলেন, এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তারের সময় পুলিশের ওপর সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। এতে আমাদের তিন সদস্য আহত হয়েছেন, সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় নিয়মিত মামলা হয়েছে এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৩১ মে নবীগঞ্জ উপজেলার জনতার বাজার পশুর হাট সরানোকে কেন্দ্র করে ইউএনও রুহুল আমিনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে বাধা দেওয়ায় একটি মামলায় ৩৪ জনকে আসামি করা হয়। নজর উদ্দিন সেই মামলার অন্যতম আসামি ছিলেন।