স্টাফ রিপোর্টার:
সিলেট মহানগরীর ইলেক্ট্রিসাপ্লাই এলাকার বাসিন্দা আব্দুল ওদুদ (৪২)। বেকার এই মানুষটি গত ১০ বছর ধরে বেঁচে আছেন ডায়াবেটিস-কোলস্টেরলসহ আরও নানান শারীরিক সমস্যার সঙ্গে লড়াই করে।
Manual5 Ad Code
তার এ লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি অবদান ছিল সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতাল থেকে পাওয়া বিনামূল্যের সরকারি ওষুধ। গত ৩/৪ বছর ধরে এই হাসপাতালে ডায়াবেটিস রোগী হিসাবে রেজিস্ট্রেশন করে চিকিৎসা ও ওষুধ পাচ্ছিলেন তিনি। অন্তত ডায়াবেটিস, কোলস্টেরল, গ্যাস্ট্রিক- ইত্যাদির ওষুধ পেতেন ফ্রি।
Manual1 Ad Code
তবে গত দুইমাস ধরে হতাশা আর অনিশ্চয়তায় হাবুডুবু খাচ্ছেন ওদুদ। কারণ, ওষুধ নেই। ডায়াবেটিস চিকিৎসায় ব্যবহৃত প্রধান ওষুধ মেটফরমিনজাতীয় ট্যাবলেট সরবরাহ বন্ধ। সঙ্গে কোলস্টেরলেরও ওষুধ নেই। নেই আরও কয়েকটি ওষুধের সাপ্লাই।
Manual6 Ad Code
শুধু আব্দুল ওদুদই নয়, এমন সমস্যায় পড়েছেন সিলেটের আরও অনেক রোগী। আয় একেবারেই অল্প, বেকার বা নিম্ন আয়ের লোকজন যারা সরকারি ওষুধের উপর নির্ভরশীল ছিলেন তারা এখন মহাবিপাকে। গত দুই মাস ধরে চরম ওষুধ সংকটে ভোগছে শহীদ শামসুদ্দীন হাসপাতালসহ অনেক হাসপাতাল।
Manual3 Ad Code
হাসপতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, সরকারি এ ওষুধ পাওয়া যেত একটি প্রকল্পের আওতায়। অন্তবর্তী সরকারের আমলে প্রকল্পটি বন্ধ হওয়ায় এই সংকট।
শামসুদ্দিন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের চাহিদা পাঠিয়েছিলেন মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু সাপ্লাই নেই। তাই হাসপাতালে এসে ডাক্তারের পরামর্শ মিললেও মিলছেনা ওষুধ।
আম্বরখানা এলাকার রহিমা বেগম (৫৮)। বিধবা এই নারীও কয়েক বছর ধরে সরকারি ওষুধের উপর নির্ভরশীল। ডায়াবেটিস কোলস্টেরলের সঙ্গে লড়াই চলছে তারও।
বৃহস্পতিবার হাসপাতাল করিডোরে এই প্রতিবেদকের সাথে আলাপ হয় রহিমা বেগমের। বললেন, কিতা আর কইতামরে বাপ। ঔ লাগাইয় দুই মাস, ওষুধ নাই। তারা থইয়া দেরনা. না কিতা বুঝিয়ার না। অথচ আগে একদিনে আইয়া এক মাসর ওষুধ লইয়া গেছি।
এ ব্যাপারে সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মিজানুর রহমান জানান, গত সরকারের আমলে প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আর ওষুধ আসেনি। আমরা ঠিকমতো চাহিদা পাঠিয়েছি। এ নিয়ে প্রতিদিন রোগীদের অনেক অভিযোগ শুনতে হচ্ছে।