সিলেটে গরম আর বিদ্যুতের বৈরিতা নিয়েই এসএসসি পরীক্ষায় বসছে তারা
সিলেটে গরম আর বিদ্যুতের বৈরিতা নিয়েই এসএসসি পরীক্ষায় বসছে তারা
editor
প্রকাশিত এপ্রিল ২১, ২০২৬, ০৪:৫৯ পূর্বাহ্ণ
Manual8 Ad Code
নিজস্ব প্রতিবেদক:
এখন গ্রীষ্মকাল। চলছে বৈশাখ মাস। এই প্রচন্ড গরম, তো একটু পর কালবৈশাখী ঝড়-বৃষ্টি। সঙ্গে বিদ্যুতের চরম বৈরিতা। প্রচণ্ড অস্বস্তির মধ্যদিয়েই যে পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে, সেকথা বলাই বাহুল্য। সিলেটে এখন বিদ্যুতের জন্য হাহাকার চলছে- এমন কথা বলা না গেলেও সংকট দিনে দিনে চরমে, একথা বলা যায় অনায়াসে।
এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) জীবনের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় বসছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সিলেটের ৮৯ হাজার ৪২১ জন পরীক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ছাত্র ৩৫ হাজার ৫৩০ জন হলেও ছাত্রীর সংখ্যা ৫৩ হাজার ৮৯১।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকালে সিলেট মহানগরীর পূর্ব জিন্দাবাজায় এলাকায় টানা কয়েক ঘন্টা বিদ্যুৎ ছিলনা। সন্ধ্যার পরও যথারীতি বিদ্যুৎ ছিল যাতায়েতের মাঝে। এই এলো, তো কিছু সময় পর আবার গেল। গেলোতো গেলই, রীতিমতো লাপাত্তা।
একই দিন নগরীর ইলেক্ট্রি সাপ্লাই এলাকায় ১১ টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছিলনা। নাহ. টানা নয়। মাঝে একবার দু’বার এসে আবার মিনিট কয়েক পর হাওয়া।
শহরের অবস্থা যখন এমন, তখন গ্রামাঞ্চলের অবস্থা যে কতটা ভয়াবহ পর্যায়ে তা সহজেই অনুমেয়।
সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার রবিউল ইসলাম জানিয়েছেন তার এলাকায় প্রায় দুই লাখ ৩৫ হাজার গ্রাহকের জন্য পিক আওয়ারে (সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা) বিদ্যুতের চাহিদা ৪৫ থেকে ৫০ মেগাওয়াট। আর সরবরাহ করা হচ্ছে ১৮ থেকে ২৫ মেগাওয়াট।
Manual7 Ad Code
এ অবস্থায় ওই এলাকায় যে ১০/১২ ঘন্টার বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছেনা, তা যেমন অনুমান করা যাচ্ছে, তেমনি স্থানীয়রাও তা স্বীকার করেছেন।
আব্দুল হাফিজ (৫৫) নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর অভিভাবক বললেন, ই যে অবস্থা কোনো উপায় নাই। ফুড়িয়ে পরীক্ষা কিলা দিতো লেখাপড়াউবা কিলা করতো, আল্লায় জানইন। আমার অবশ্য ব্যাকআপ লাইট আর কারেন্ট না থাকলেও যেতা টেবিল ফ্যান চলে, অতাদি চেষ্টা করিয়ার। কিন্তু অবস্থা খুব খারাপ ভাইসাব।
এমন খবরই আসছে গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারসহ সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতাভুক্ত এলাকাগুলো থেকে।
Manual7 Ad Code
এ অবস্থায় মঙ্গলবার থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সিলেটের এসএসসি পরীক্ষার্থীরা বসছেন ২২৫টি কেন্দ্রে।
পরীক্ষা চলাকালীন কেন্দ্রগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হবে কি না, তা নিয়েও শঙ্কা আছে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে।
Manual4 Ad Code
তবে তাদের দাবি, অন্তত পরীক্ষার এই একটি মাস যেন লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে রেখে পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে সংশ্লিষ্টরা সহযোগীতা করেন।