নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেটের সীমান্তবর্তী জকিগঞ্জ উপজেলার উত্তরকুল সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশের পর থেকে ২৫ দিন ধরে নিখোঁজ হওয়া ডিপজলের এখন পর্যন্ত কোনো হদিস পাওয়া যায় নি। বিএসএফের সাথে বিজিবির কয়েক দফা পতাকা বৈঠকের পরও কোনো খবর মেলেনি তার। এদিকে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় ডিপজল নিখোঁজের একটি সাধারণ ডায়েরি অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক।
তিনি জানান, সোমবার (১৫ জুন) রাতে জকিগঞ্জ উপজেলার বারঠাকুরী ইউনিয়নের দিগালিগ্রামের বাসিন্দা ডিপজল আহমদ নিখোঁজ হন। এর ৪-৫দিন পর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় নিখোঁজের একটি সাধারণ ডায়েরি অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। সাধারণ ডায়েরিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জকিগঞ্জ উপজেলার বারঠাকুরী ইউনিয়নের দিগালিগ্রামের বাসিন্দা ডিপজল আহমদসহ ৪-৫ জন লোক সীমান্তে কাজ করতে যান। পরবর্তীতে ডিপজল ছাড়া বাকি সবাই ফিরে আসেন। কিন্তু ডিপজলের কোনো খবর পাওয়া যায় নি।
Manual3 Ad Code
জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, নিখোঁজ ডিপজলের অনুসন্ধানে পুলিশ কাজ করছে। সিলেটসহ বাংলাদেশের প্রত্যেকটি স্থানের প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
Manual8 Ad Code
অন্যদিকে জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (১৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জুবায়ের আনোয়ার বলেন, ‘ডিপজলের নিখোঁজের বিষয়ে কেউ আইনিভাবে অভিযোগ করেননি। তবে, নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় বিএসএফের সঙ্গে বিজিবির কয়েক দফা পতাকা বৈঠক হয়েছে। সর্বশেষ বৈঠকটি আড়াই ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে বিএসএফ জানিয়েছে, সীমান্তের ওপারে কোনো গুলির ঘটনা কিংবা ডিপজলের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।’
Manual6 Ad Code
তিনি আরও বলেন, ‘ডিপজলের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য জানতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বিএসএফও বিষয়টি অনুসন্ধান করবে বলে জানিয়েছে।’
Manual6 Ad Code
উল্লেখ্য, এর আগে গত সোমবার (১৫ জুন) রাতে জকিগঞ্জ উপজেলার বারঠাকুরী ইউনিয়নের দিগালিগ্রামের বাসিন্দা ডিপজল আহমদসহ কয়েকজন যুবক ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। ফেরার পথে বিএসএফ সদস্যরা তাদের ধাওয়া করলে অন্যরা বাংলাদেশে ফিরে আসতে সক্ষম হলেও ডিপজল নিখোঁজ হন। তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে স্থানীয়রা বলছেন, বিএসএফের গুলিতে ডিপজল নিহত হয়েছেন। তবে বিএসএফ এ অভিযোগ অস্বীকার করছে। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভারতের এক নাগরিককে সীমান্ত এলাকা থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। পরে বুধবার (১৭ জুন) বিজিবির মাধ্যমে তাকে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়।