‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ নামে প্রথমবারের মতো আয়োজিত প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি ইতোমধ্যে বিয়ানীবাজারে বেশ সাড়া ফেলেছে। তৃণমূল পর্যায় থেকে যেন নতুন ক্রীড়াবিদ উঠে আসেন, সেদিকেই দেওয়া হয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। বিয়ানীবাজার উপজেলা প্রশাসনের নিবিড় তদারকিতে স্থানীয়ভাবে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ বেশ সফল হয়েছে।
এই প্রতিযোগীতার মাধ্যমে বিয়ানীবাজারে বেশ কয়েকজন প্রতিভাবান খেলোয়াড় পাওয়া গেছে।
Manual7 Ad Code
গত ২ মে শুরু হওয়া এই আয়োজনের পর্দা নামে ২৭ জুলাই। বিয়ানীবাজারের অন্তত: শতাধিক কিশোর-কিশোরী আটটি ডিসিপ্লিনে অংশ নিয়ে নিজেদের প্রতিভা প্রদর্শনের সুযোগ পেয়েছে।
১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলায় তৈরি হয় এক ধরনের উৎসবের আমেজ। উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিস্ট বিভাগগুলোর সক্রিয়তা এবং ইউএনও উম্মে হাবিবা মজুমদারের দৃঢ় মানষিকতায় বিয়ানীবাজারে পুরোটাই সফল হয় এই টুর্নামেন্ট।
জানা যায়, উপজেলা পর্যায়ে অনলাইন নিবন্ধন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে খেলোয়াড় বাছাই করা হয়। পরে স্থানীয় কোচদের তত্ত্বাবধানে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে জেলা, বিভাগ এবং শেষ পর্যন্ত জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের জন্য জার্সি, ক্রীড়া সরঞ্জাম ও ভাতার ব্যবস্থা করা হয়।
বিয়ানীবাজারের আদিয়ান মাসুদ নামের এক কিশোর ফুটবলার সিলেট বিভাগীয় ফুটবল দলে প্রতিদ্বন্ধিতা করে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে চ্যাম্পিয়ন পুরষ্কার গ্রহণ করে। ফুটবল নিয়ে বড় লক্ষ্য আদিয়ানের। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনতে চান নতুন এই প্রতিভাবান খেলোয়াড়। তিনি বলেন, ‘আমি ভালো খেলোয়াড় হতে চাই। দেশের প্রধানমন্ত্রী, ক্রীড়ামন্ত্রী যখন আমার মাথায় হাত রেখে দোয়া করেছেন, তখন আমার পিছিয়ে পড়ার সুযোগ নেই। আমি এগিয়ে যেতে চাই।’
আমিনুল ইসলাম নামের এক ক্ষুদে ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্টানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে খেলায় অংশ নেয়।
এছাড়াও যারা অংশ নিয়েছে, তাদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনার কমতি ছিল না। পুরো আয়োজনজুড়ে তাদের উচ্ছ্বাস ছিল দেখার মতো।
বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে হাবিবা মজুমদার বলেন, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের প্রথম আয়োজন শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়; তৃণমূল থেকে নতুন ক্রীড়াবিদ খুঁজে বের করার সম্ভাবনাময় একটি যাত্রারও শুরু। খেলার মাঠে উঠে আসা এই খুদে প্রতিভাদের যথাযথ পরিচর্যা করা গেলে ভবিষ্যতে তারাই হয়ে উঠতে পারে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের নতুন মুখ।
Manual3 Ad Code
তিনি বলেন, ‘নতুন কুঁড়ি খেলার মাধ্যমে খুদে ক্রীড়াবিদদের মধ্যে সাড়া পড়েছে। নতুন করে উদ্যম শুরু হয়েছে। আমরা এটা প্রতি বছর করতে চাই। যেন খুদে খেলোয়াড়েরা খেলার মধ্যে থাকে।’
Manual4 Ad Code
তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি নিয়মিত খেলার মধ্যে থাকলে মাদক, কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাস থেকে দূরে থাকা যায়। সুস্থ জাতি গঠনে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। একটা জাতির অন্যতম পরিচয় হতে পারে খেলার মাধ্যমে।’