অত্যাধুনিক সাজসজ্জা। পর্দা-গøাস লাগানো ছোট-ছোট কক্ষ। ভেতরে আবছা অন্ধকার। আলো-আঁধারির মধ্যে প্রেমিক-প্রেমিকা জুটিদের আড্ডা-খুনসুঁটি, আরোও কাছে যাওয়ার চেষ্টা। হঠাৎ কেউ ডুকলে মনে হবে কৃত্রিমভাবে তৈরী গুহায় প্রবেশ করেছেন তিনি। বিয়ানীবাজারের ডেটিংগুহা হিসেবে পরিচিত সেরকম কয়েকটি ক্যাফেতে অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। তাদের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করা হয়েছে। গøাসের স্টিকার, ভিতরের পর্দা খুলে ফেলার আলটিমেটাম দিয়েছেন বিয়ানীবাজারের ইউএনও উম্মে হাবিবা মজুমদার ও ওসি আবু জাফর মো: মাহফুজুল করিম। বিষয়টি এখন উপজেলার টক অব দ্যা টাউন।
Manual2 Ad Code
সূত্র জানায়, বিয়ানীবাজার পৌরশহরে এরকম ক্যাফে আছে প্রায় ডজনখানেক। এগুলোতে হাল আমলের প্রেমিক-জুটির আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়রা ভিন্ন চোখে দেখে। প্রশাসনের কানেও বহুবার অভিযোগ পৌছাঁয়। বিশেষ করে ভোর ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এসব ক্যাফে জমজমাট থাকে। এগুলোতে চটপটি, ফুচকা, কফি, আইসক্রিম আর অন্যান্য মুখরোচক খাবারের দাম আকাশছোঁয়া। একেশটি সিঙ্গারা, সমুছার দাম ৮০-৯০ টাকা। এসব ক্যাফেতে কারা যায় তা খুঁজতে গিয়ে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাই এখানকার মূল গ্রাহক। তার পাশাপাশি উঠতি বয়সী ছেলেমেয়েদের আগমনের ফলে দিনের বেলা কর্মচারীদের কোন ফুরসত নেই।
ভ্রাম্যমাণ পান সিগারেট ব্যবসায়ী জামিল মিয়া বলেন, আমি অনেকদিন এই রাস্তায় ব্যবসা করি। গত কয়েকমাস ধরেই এ জায়গাটা জমজমাট হয়ে গেছে। দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কম বয়সী ছেলেমেয়েদের বেশি দেখা যায়। অনেকে কলেজের ড্রেসও পরা থাকে। একের পর এক জুটি ভিতরে ডুকে আর তিন চার ঘণ্টা পর বের হয়।
Manual1 Ad Code
এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে সোমবার রাতে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এ সময় কয়েকটি ক্যাফে থেকে ৩১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
Manual4 Ad Code
বিয়ানীবাজারের ইউএনও উম্মে হাবিবা মজুমদার বলেন, ক্যাফেগুলোর ভিতরের পরিবেশ রহস্যজনক মনে হয়েছে। এগুলোর সামনের গøাসের স্টিকার ও ভিতরের পর্দা সরাতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার তৈরীর সামগ্রী থাকায় জরিমানা করা হয়।