প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

২৫শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১০ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১২ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

রোহিঙ্গাদের ঢল নেমেছিল ৯ বছর আগে: প্রত্যাবাসন এখনও দুঃস্বপ্ন

editor
প্রকাশিত আগস্ট ২৫, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
রোহিঙ্গাদের ঢল নেমেছিল ৯ বছর আগে: প্রত্যাবাসন এখনও দুঃস্বপ্ন

Manual5 Ad Code

 

প্রজন্ম ডেস্ক:

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প সফরের পর একটা আশা জেগেছিল আশ্রিত এই জনগোষ্ঠীর বুকে। হয়তো মিয়ানমার তাদের দ্রুত ফিরিয়ে নেবে। পরবাসী রোহিঙ্গারা ভেবেছিল হয়তো পরবর্তী ঈদ করবে তারা নিদের বাড়িতে গিয়ে। বাস্তবে তা হয়নি, বরং আশা এখন দুঃস্বপ্নে রূপ নিয়েছে। নিজ দেশে প্রত্যাবাসন এক অনিশ্চয়তায় পরিণত হয়েছে। কেউ জানে না—আসলে কত বছর লাগবে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিজ দেশে ফেরত যেতে। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট বাংলাদেশের সীমান্ত অভিমুখে নেমেছিল রোহিঙ্গাদের ঢল। আজ সেই দিনটির ৯ বছর পূর্ণ হলো।

২০১৭ সালের এই দিন থেকে মিয়ানমারের রাখাইনে সেনা অভিযান ও নির্যাতনের মুখে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় লাখো রোহিঙ্গা। পুরোনোদেরসহ বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের ৩২টি শরণার্থী শিবিরে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর’র তথ্য অনুযায়ী, গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত নিবন্ধিত রোহিঙ্গা নাগরিকদের সংখ্যা ১২ লাখ ২ হাজার ২৪ জন। এর মধ্যে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে জুলাই পর্যন্ত নতুন নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১ লাখ ৫৪ হাজার ৬৯০ জন। অর্থাৎ তারা নতুন করে প্রবেশ করেছেন।

Manual2 Ad Code

বছরের পর বছর কাঁটাতারের ভেতর বন্দি জীবন কাটাতে কাটাতে রোহিঙ্গাদের কাছে এখন বড় আকাঙ্ক্ষা একটাই—নিজ ভূমি আরাকানে নিরাপদ ও সম্মানজনকভাবে ফিরে গিয়ে আবারও পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করা। তবে মাঠের বাস্তবতা ভিন্ন। ২০২৩ সাল থেকে রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তীব্র যুদ্ধ চলছে, বর্তমানে রাখাইনের বেশিরভাগ অঞ্চল আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফলে প্রত্যাবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মানবিক সংকটের সঙ্গে বাড়ছে উদ্বেগ

সংকটের মানবিক দিক আরও গভীর হচ্ছে। জাতিসংঘের তথ্যের বরাতে সেভ দ্য চিলড্রেন জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে নৌকায় পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা গত বছরের তুলনায় ৯০ শতাংশ বেড়েছে। গত জুলাই মাসে মালয়েশিয়ার পথে মানবপাচারকারীদের নৌকায় যাত্রা করা অন্তত ৫৩০ রোহিঙ্গা প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ রয়েছেন—যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় সমুদ্র ট্র্যাজেডি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অপরদিকে ইউএনএইচসিআর বলছে, বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রার চেষ্টা করা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ২০২৫ সাল ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর। ২০২৫ সালে আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে প্রায় ৯০০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী মারা গেছেন বা নিখোঁজ রয়েছেন। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) তথ্যমতে, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সমুদ্রপথে চলাচলের ক্ষেত্রে এটি এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর। ওই বছর ৬ হাজার ৫০০-এরও বেশি রোহিঙ্গা ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথ পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেন—যাদের প্রতি সাত জনে একজন নিখোঁজ বা মৃত বলে জানা গেছে— যা শরণার্থী ও অভিবাসীদের যেকোনও প্রধান সমুদ্রপথের মধ্যে বিশ্বে সর্বোচ্চ মৃত্যুহার। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই পথে যাত্রা করা মানুষদের অর্ধেকেরও বেশি ছিলেন নারী ও শিশু। এই ধারা ২০২৬ সালেও অব্যাহত রয়েছে—জানুয়ারি থেকে গত ১৩ এপ্রিলের মধ্যে ২ হাজার ৮০০-এরও বেশি রোহিঙ্গা বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রা করেছেন।

প্রত্যাবাসন এখনও দুঃস্বপ্ন

Manual5 Ad Code

প্রথমবারের মতো ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত চুক্তি সই করেন। এরপর ১৯ ডিসেম্বর যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন ও এর কার্যপ্রণালি ঠিক করা হয়। পরের বছরের ১৬ জানুয়ারি মাঠপর্যায়ের চুক্তি ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট চূড়ান্ত ও স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী শর্ত ছিল, মিয়ানমার প্রতিদিন ৩০০ করে প্রতি সপ্তাহে দেড় হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে এবং দু’বছরের মধ্যে এই রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শেষ করা হবে।

Manual7 Ad Code

কিন্তু, সেই চুক্তি মোতাবেক কিছুই হয়নি। তিন বছর স্থবির থাকে প্রত্যাবাসন, একজনকেও ফেরত পাঠানো যায়নি। এরপর আবার প্রত্যাবাসনের আলো জ্বালানো হয়। মিয়ানমারের সামরিক সরকার রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে আগ্রহ প্রকাশ করে। পরিচয় যাচাই করে তাদের ফেরত নেওয়া হবে বলে ২০২২ সালে মিয়ানমারের জান্তা সরকার জানায়। কিন্তু, কবে নাগাদ প্রত্যাবাসন শুরু হবে সেই সম্পর্কে কোনও ধারণা তখনও পাওয়া যায়নি।

এর আগে ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর প্রত্যাবাসনের তারিখ ঘোষণা করেছিল দু’দেশ। কিন্তু রোহিঙ্গারা ‘যেতে রাজি না’ হওয়ায় সেটা পণ্ড হয় যায়। একইভাবে ২০১৯ সালের ২২ আগস্ট থেকে প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও নাগরিকত্বের বিষয়টি সুরাহা না হওয়ায় রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় ফিরতে চাইনি। রাখাইনে স্বেচ্ছায় ফেরার বিষয়ে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আলোচনার দায়িত্বে ছিল ইউএনএইচসিআর। পরিচয় যাচাই-বাছাই করে ওইবার সাড়ে তিন হাজার রোহিঙ্গার তালিকা ইউএনএইচসিআরকে দিয়েছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রোহিঙ্গারা যে সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে দেশ ছেড়ে এসেছে, সেই অবস্থায় এই পরিচয় যাচাইয়ের বিষয়টি মিয়ানমারকে শিথিল করতে বলে চীন।

১২ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে, মানছে না মিয়ানমার

বাংলাদেশে মিয়ানমারের রাখাইন থেকে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের তথ্যকে সঠিক নয় বলে দাবি করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই প্রসঙ্গে প্রতিবেদন প্রকাশের পর গত ১৫ আগস্ট এক বিবৃতিতে এই দাবি করেছে মিয়ানমার। এতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি এবং অন্যান্য দেশে সাগর পাড়ি দিয়ে অভিবাসিত, পাশাপাশি বাংলাদেশের কক্সবাজারের ক্যাম্পে বসবাসকারীদের বিভিন্ন বিবরণ উপস্থাপন করেছে। লক্ষ করা গেছে যে এই প্রতিবেদন, প্রকাশনা এবং সম্প্রচারগুলো একতরফা এবং ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে। তাই মিয়ানমার রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের প্রকৃত হিসাব নিম্নরূপ পরিষ্কার করতে চায়।

মিয়ানমার দাবি করেছে, উত্তর রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের বিষয়ে বাস্তবতা ছিল যে ২০১৬ সালের অক্টোবর এবং নভেম্বর এবং ২০১৭ সালের আগস্ট, আরসা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী উত্তর রাখাইন রাজ্যের পুলিশ ফাঁড়ি এবং ব্যাটালিয়নে একযোগে এবং সমন্বিত হামলা চালায়। এ ছাড়া সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটি সরকারি কর্মচারী ও স্থানীয় জাতিগত লোকজনকে হত্যা করেছে। একটি প্রতিরক্ষামূলক প্রতিক্রিয়ায়, তাতমাদাওকে সন্ত্রাসবিরোধী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়েছিল। আরসা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হুমকি ও আক্রমণের ফলে স্থানীয় জাতিগত লোকজন অন্যান্য শহর ও গ্রামে পালিয়ে যায় এবং বিপুল সংখ্যক ‘বাঙালি’ বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

তাদের দাবি, রেকর্ড অনুসারে, আরসা সন্ত্রাসী হামলার আগে রাখাইন রাজ্যের বুথিডং, মংডো এবং রাথেডং টাউনশিপে ৭ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি ‘বাঙালি’ বসবাস করতো। এই ঘটনার পরে, ২ লাখেরও বেশি ‘বাঙালি’ এই অঞ্চলে রয়ে যায় এবং ৫ লাখ ৪০ হাজারেও বেশি বাঙালি বাংলাদেশে পালিয়ে যায়। এসব পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে রাখাইন রাজ্য থেকে ১০ লাখেরও বেশি বাস্তুচ্যুত ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে, তা সঠিক নয়।

মিয়ানমার বলছে, বাস্তুচ্যুতদের প্রত্যাবাসনে মিয়ানমার দুই মাসের মধ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে তিনটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সম্পাদন করে। এই চুক্তি অনুসারে, মিয়ানমার তিনটি অনুষ্ঠানে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের গ্রহণ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করেছিল, তবে বাস্তুচ্যুতদের কেউই মিয়ানমারে ফেরেননি।

Manual1 Ad Code

বাংলাদেশ কর্তৃক প্রদত্ত ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ বাস্তুচ্যুত ব্যক্তির তালিকার মধ্যে, মিয়ানমার ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জন ব্যক্তিকে যাচাই করেছে। যাচাইকৃতদের মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জন ব্যক্তি রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা বলে প্রমাণিত হয়েছে। যেখানে ৪ হাজার ২৪১ জন ব্যক্তি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে প্রমাণিত হয়েছে, তবে ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনের তথ্য যাচাই করা যায়নি।

ফেরত পাঠানো চ্যালেঞ্জ, রাজনৈতিক সমাধান খুঁজছে সরকার

মিয়ানামার সরকারের এমন বিবৃতির বিরোধিতা করেছে ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মিয়ানমা‌রের দা‌বি প্রত্যাখ্যান ক‌রে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বল‌ছে, রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে উল্লেখ করা সঠিক নয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মিয়ানমার অনুবিভাগের মহাপরিচালক তৌফিক-উর-রহমান মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে বলেন, ওই বিবৃতির অনেক তথ্যই ভুল পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।

মিয়ানমারের চলমান অসন্তোষ এবং ভিত্তিহীন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রোহিঙ্গা সংকটে সরকার রাজনৈতিক সমাধান খুঁজছে, কারণ এটা শুধু মানবিক সংকট নয়, এখন এটা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় জাতীয় নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সংকটে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া কার্যত ব্যর্থ, নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক তহবিল কমে যাওয়া, মিয়ানমারের নতুন কৌশল, সমুদ্রপথে পাচার রোধে চাপকে ঘিরে রাজনৈতিক সমাধানের দিকেই ঝুঁকছে বাংলাদেশ। এই কারণে সরকার এখন শুধু মানবিক সহায়তা বা দ্বিপাক্ষিক চুক্তির ওপর নির্ভর না করে, আসিয়ান, চীন, তুরস্ক, মালয়েশিয়া ও নরওয়ের মতো দেশগুলোকে যুক্ত করে একটি রাজনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজছে—যেখানে মিয়ানমারে নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের নিশ্চয়তা থাকবে।

এই প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘‘রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান আমাদের কাছে নেই। এটি শুরু যেখান থেকে তাদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে। আমরা চাই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ, টেকসই এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন। মিয়ানমার যদি চায় আমরা অবশ্যই তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করবো।’’

এ বিষয়ে সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ূন কবির বলেন, ‘‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কেমন সময় লাগবে এটা বলা মুশকিল। এটা নির্ভর করবে রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর। তবে, আমাদের দিক থেকে আমরা চাই ওরা যত দ্রুত চলে যায়। রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে কম সময়ে সেটা সম্ভব, যদি দুপক্ষই সমস্যাটা দ্রুত সমাধান করার বিষয়ে সক্রিয় থাকে।’’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমার থেকে, এর টেকসই সমাধান শেষ পর্যন্ত মিয়ানমারের খুঁজে বের করতে হবে। এর চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে, রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছাসেবী, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবর্তন। এটি কেবল একটি নীতিগত অগ্রাধিকার নয়, এটাই একমাত্র টেকসই পথ। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী নিজেরাই বারবার দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। আমাদের অবশ্যই তাদের কথা শুনতে হবে। তাদের আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান করতে হবে। এছাড়া, একটি শরণার্থী শিবির কখনোই স্বদেশের স্থায়ী বিকল্প হওয়া উচিত নয়।

তিনি বলেন, ‘‘আমাদেরও যাচাইয়ের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। ক্যাম্পে জন্মগ্রহণকারী শিশুদের বিবেচনায় নিয়ে সম্মত দ্বিপক্ষীয় দলিলের ভিত্তিতে যাচাইকরণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে হবে। ২০১৭ সাল থেকে যারা রাখাইন থেকে এসেছেন তাদেরও বিবেচনায় নিতে হবে। সঠিক তথ্য অপরিহার্য, বিশ্বাসযোগ্য যাচাইকরণ অপরিহার্য এবং একটি বিশ্বাসযোগ্য যাচাইকরণ প্রক্রিয়া উভয়পক্ষের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ আস্থা তৈরির ব্যবস্থা হয়ে উঠতে পারে। এ জন্য বাংলাদেশ গঠনমূলকভাবে সম্পৃক্ত হতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা দ্বিপাক্ষিক চ্যানেলের মাধ্যমে, জাতিসংঘের মাধ্যমে, আঞ্চলিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এবং আমাদের আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবো।

ইউএনএইচসিআর’র মুখপাত্র শারি নিজমান বলেন, ‘‘মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতি বাংলাদেশ থেকে শরণার্থীদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই উপায়ে স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের জন্য অনুকূল নয়। প্রতিটি শরণার্থীর তাদের জন্মভূমিতে ফিরে যাওয়ার একটি অবিচ্ছেদ্য অধিকার আছে এবং এই নীতিটি অবশ্যই সমুন্নত রাখতে হবে। অনেক রোহিঙ্গা দ্রুত সময়ে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন। চূড়ান্তভাবে এই সংকটের সমাধান মিয়ানমারের মধ্যে রয়েছে। যেকোনও প্রত্যাবাসন অবশ্যই স্বেচ্ছায়, আগে থেকে অবহিত এবং নিরাপদ ও মর্যাদার সঙ্গে পরিচালিত হতে হবে।’’

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭৩০
৩১  

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code