নিত্যপণ্যের অযৌক্তিক মূল্য বৃদ্ধি রোধে মাঠে নামছে তিন সংস্থা
নিত্যপণ্যের অযৌক্তিক মূল্য বৃদ্ধি রোধে মাঠে নামছে তিন সংস্থা
editor
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬, ০৯:৩৮ পূর্বাহ্ণ
Manual2 Ad Code
Manual3 Ad Code
প্রজন্ম ডেস্ক:
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের বাজারে নজরদারি জোরদার করছে সরকার। কোন পণ্যের দাম কতটা বাড়ার যৌক্তিকতা আছে, আর কোথায় বাজার পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে, তা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে বাজার পর্যালোচনা ও তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে গবাদিপশুর খাদ্য, সয়াবিন মিল, ভুট্টা, গম, গমের ভুসি, শস্যভিত্তিক খাদ্য ও তরল দুধের দাম।
Manual2 Ad Code
অযৌক্তিক মূল্য বৃদ্ধি ঠেকাতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগ এমন সময়ে এসেছে, যখন ২১ সেপ্টেম্বর থেকে সব ধরনের জ্বালানি তেলের খুচরা দাম বাড়ানো হয়েছে লিটারে ২০ টাকা। জ্বালানির এই মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব পরিবহন, সেচ, উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহের ব্যয়ে পড়তে পারে। ফলে মূল্যস্ফীতি কমানোর চলমান প্রচেষ্টার মধ্যেই নতুন করে নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে।
২১ সেপ্টেম্বর দেওয়া এক চিঠিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি), বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে বলা হয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে তাদের জমা দিতে বলা হয়েছে পর্যালোচনা প্রতিবেদন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে তাৎক্ষণিক কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিটিটিসির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অযৌক্তিক মূল্য বৃদ্ধি যাচাই করা হবে। জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধির পর ডিমের বাজার পরিস্থিতি বুঝতে ডিম উৎপাদকদের সঙ্গে বৈঠক করার কথাও রয়েছে।
এদিকে বাজার পরিস্থিতির তথ্য সংগ্রহে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে বিটিটিসি। সংস্থাটির একটি টিম দুধ উৎপাদনের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছে। সংস্থাটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, কৃষকের কাছ থেকে দুধ কী দামে কেনা হচ্ছে এবং ভোক্তাপর্যায়ে প্রকৃত দাম কতÑ এই দুই পর্যায়ের তথ্য বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে উৎপাদন ব্যয় ও বাজারদরের মধ্যে পার্থক্য বোঝার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় তরল দুধের বাজারেও বিশেষ নজর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। দুগ্ধ কোম্পানিগুলোর কাঁচা দুধ সংগ্রহ, দুধের চর্বি পৃথক করার হিসাব ও প্যাকেটজাত দুধ বিক্রির বিষয়ে বিশেষ নিরীক্ষা-নজরদারি বাড়াতে বলা হয়েছে। যৌক্তিক কারণ ছাড়া করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো যেন তরল দুধসহ নিত্যপণ্যের দাম হঠাৎ বাড়াতে না পারে, নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সে বিষয়েও।
Manual3 Ad Code
একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে বাজার তদারকি জোরদার করতে বলা হয়েছে। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে বৈঠকের আয়োজন এবং তার আগে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ শুধু দাম পর্যবেক্ষণ নয়, উৎপাদন থেকে ভোক্তাপর্যায় পর্যন্ত সরবরাহ ব্যবস্থায় কোথায় অতিরিক্ত মূল্য যোগ হচ্ছে, সেটিও যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
Manual1 Ad Code
সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ সমন্বিতভাবে বছরে অন্তত তিনবার চালু রাখা যেতে পারে। সরবরাহ ব্যবস্থার অদক্ষতার কারণে বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখে দাম বাড়ানো হচ্ছে কি না, তা বিটিটিসি, প্রতিযোগিতা কমিশন, টিসিবি, বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউট ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে নির্ধারণ করা প্রয়োজন বলেও তিনি মত দেন। তার ভাষায়, জ্বালানির দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু মূল্যস্ফীতি কমানো নয়, অযৌক্তিক মূল্য বৃদ্ধিও ঠেকানো।
এর মধ্যে দেশের মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমলেও তা এখনও উচ্চপর্যায়ে রয়েছে। আগস্টে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে নেমেছে, যা জুলাইয়ে ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। একই সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ১৬ শতাংশ থেকে কমে ৭ দশমিক ০২ শতাংশ হয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই পরিস্থিতিতে জ্বালানির বাড়তি ব্যয় মূল্যস্ফীতি কমানোর গতিকে কতটা প্রভাবিত করে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। বিশেষ করে ডিজেলের দাম বাড়ার প্রভাব পরিবহন, সেচ, পণ্য উৎপাদন ও খাদ্য বিতরণ ব্যয়ে পড়লে নিত্যপণ্যের বাজারে তার প্রতিফলন ঘটতে পারে। তবে সেই প্রভাবের বাইরে কোনো পণ্যের দাম বাড়ানো হলে তা তথ্যের ভিত্তিতে চিহ্নিত করাই সরকারের বর্তমান উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। ফলে আগামী দিনের বাজার পরিস্থিতিতে উৎপাদন ব্যয়, সরবরাহ ব্যবস্থা ও ভোক্তাপর্যায়ের দামের মধ্যে সামঞ্জস্য কতটা থাকে, সরকারি নজরদারির কার্যকারিতা অনেকটাই তার ওপর নির্ভর করবে।