প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩১শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

স্থানীয় সরকার নির্বাচন: রোডম্যাপের পর মাঠে প্রার্থীরা

editor
প্রকাশিত অক্টোবর ১৫, ২০২৬, ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ
স্থানীয় সরকার নির্বাচন: রোডম্যাপের পর মাঠে প্রার্থীরা

Manual8 Ad Code

 

Manual8 Ad Code

 

প্রজন্ম ডেস্ক:

আগামী বছরের ২১ জানুয়ারিতে শুরু করে ২৭ মের মধ্যে পাঁচ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্যে রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে এই ঘোষণার আগে থেকেই ভোটের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছিলেন প্রার্থী হতে ইচ্ছুক বিভিন্ন দলীয় ও সামাজিক পর্যায়ের প্রতিনিধিরা। রোডম্যাপ ঘোষণার পর তাদের সেই প্রস্তুতির পালে হাওয়া লেগেছে। এর মধ্যেই তারা তাদের সামাজিক প্রচার তৎপরতার গতি আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন। এবার স্থানীয় সরকার অনুষ্ঠিত হবে নির্দলীয়ভাবে। তবে অতীতের মতোই রাজনৈতিক দলের সমর্থন নিয়ে প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন অধিকাংশ প্রার্থী। দলগুলোর পক্ষ থেকেও দলীয় নেতাকর্মীদের একক প্রার্থী বেছে নিয়ে তৎপর হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে রোডম্যাপ ঘোষণা হতে না হতেই মাঠ পর্যায়ের রাজনীতিতে গতি এসেছে।

প্রসঙ্গত, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। দেশের বিভিন্ন জায়গায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা তৎপরও হয়ে ওঠেন। গত সোমবার ইউপি নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করে ইসি। ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ীÑ ২১ জানুয়ারি প্রথম, ৪ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয়, ২৯ এপ্রিল তৃতীয়, ১৩ মে চতুর্থ এবং ২৭ মে শেষ ধাপের নির্বাচন হবে। ওইদিন নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ইসি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, ‘এবারের জাতীয় নির্বাচন স্মরণকালের সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ হয়েছে। আমরা মনে করি না বাংলাদেশ আর কোনো সংঘাতময় নির্বাচনের পথে হাঁটার জন্য প্রস্তুত আছে। আমরা আশা করব, আমরা যে ভালো নির্বাচনের সংস্কৃতি শুরু করেছি, সেই সংস্কৃতি বলবৎ রাখব। এজন্য সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডার আমাদের সহায়তা করবেন।’ সারা দেশে প্রায় চার হাজার ৩০০টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

Manual5 Ad Code

জামায়াতের একক প্রার্থী, বিএনপির একাধিক

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অধিকাংশ ইউনিয়ন পরিষদে সরকারি দল বিএনপির একাধিক প্রার্থী প্রচার তৎপরতা শুরু করেছেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এগোচ্ছে মূলত একক প্রার্থী নিয়ে। জামায়াত ২০২৫ সালের শুরুতেই বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, সিটি করপোরেশন এবং পৌরসভার কোনটিতে কে দলীয় প্রার্থী হবেন, তা নির্ধারণ করে রেখেছে। তারা জনসংযোগও শুরু করেছে।

 

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, চট্টগ্রাম জেলার আটটি উপজেলার ১০৭টি ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী অন্তত ৩৫৩ জন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর ১০৮ জন। অন্যদিকে এনসিপির ১৩ ও স্বতন্ত্র ৪৫ জন সম্ভাব্য প্রার্থী রয়েছেন। উপজেলাভিত্তিক হিসাবে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী সবচেয়ে বেশি পটিয়ায়, ১৭ ইউনিয়নে ৮৫ জন। রাউজানের ১৪ ইউনিয়নে ৭০ এবং ফটিকছড়ির ১৮ ইউনিয়নে ৫৪ জন। আনোয়ারার ১১ ইউনিয়ন ও সাতকানিয়ার ১৭ ইউনিয়নে ৩৬ জন করে সম্ভাব্য প্রার্থী আছেন। বাঁশখালীর ১৪ ইউনিয়নে ৩১, সীতাকুণ্ডের ৭ ইউনিয়নে ২২ ও লোহাগাড়ার ৯ ইউনিয়নে ১৯ জন। জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী ফটিকছড়িতে ১৮, পটিয়া ও সাতকানিয়ায় ১৭ করে, রাউজানে ১৪, বাঁশখালীতে ১৩ এবং আনোয়ারায় ১১ জন। সীতাকুণ্ড ও লোহাগাড়ায় রয়েছেন ৯ জন করে। এনসিপির সম্ভাব্য প্রার্থী আনোয়ারায় ১১ ও লোহাগাড়ায় ২ জন। স্বতন্ত্র সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আনোয়ারা ও পটিয়ায় ২০ জন করে এবং ফটিকছড়িতে ৫ জন।

এ ছাড়া টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন পরিষদে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী দাঁড়িয়েছে ৩২ জন। অন্যদিকে দুটি বাদে প্রতিটি ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর একজন করে মোট প্রার্থী ১০ জন। একইভাবে ঝিনাইদহে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি তাদের প্রার্থিতা ঘোষণা না করলেও জামায়াতে ইসলামী তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। সদর উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের মধ্যে প্রতিটি ইউনিয়নে একক প্রার্থী ঘোষণা করেছে দলটি। খুলনার ৯টি উপজেলা ও ৬৮ ইউনিয়নে বিএনপির একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠে রয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী একক প্রার্থী নির্ধারণ করে অনেক আগেই প্রচার-তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এনসিপি অবশ্য এখনও তাদের প্রার্থিতা চূড়ান্ত করেনি।

তফসিলের পর প্রার্থী ঘোষণা করবে বিএনপি

Manual6 Ad Code

ইসির পক্ষ থেকে রোডম্যাপ ঘোষণা করা হলেও জানানো হয়েছে যে, তফসিল ঘোষণা হবে স্থানীয়ভাবে। নির্বাচনের কমপক্ষে ছয় সপ্তাহ আগে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা তফসিল ঘোষণা করবেন। এ প্রসঙ্গে বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি ও বগুড়া সদর আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা বলেন, ‘ইউপি নির্বাচন ঘিরে প্রার্থী মনোনয়নের ব্যাপারে কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তফসিল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত এ ব্যাপারে দলীয় পর্যায়ে কোনো আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে প্রার্থিতা চান, এমন অনেক নেতাকর্মী অভ্যন্তরীণ প্রচার চালাচ্ছেন।’

Manual1 Ad Code

নিরপেক্ষতায় জোর বিশেষজ্ঞদের

আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও ইসির সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলী বলেন, ‘সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা ছাড়া সুষ্ঠুভাবে ভোট নেওয়া কঠিন হবে।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচন নির্দলীয় প্রতীকে হলেও রাজনৈতিক দল, মন্ত্রী-এমপি বা প্রভাবশালীরা প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে কোনো প্রার্থীকে সমর্থন দিলে নির্বাচনী মাঠে তার প্রভাব পড়বে। একই দলের একাধিক প্রার্থী থাকলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।’ তবে রাজনৈতিক দলগুলো আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করলে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করলে সহিংসতা কমানো সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

নিরপেক্ষ ভূমিকায় থাকবে প্রশাসন

বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ইসির ভূমিকা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করা হলেও সরকারি দল বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, প্রশাসনকে তারা চায় নিরপেক্ষ ভূমিকায় দেখতে। সরকার আগামী জুনের মধ্যে স্থানীয় সরকারের পাঁচ ধরনের নির্বাচন শেষ করতে চায় মন্তব্য করে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিন্দুমাত্র বিতর্ক বা কলঙ্কের দায় নিতে চায় না সরকার। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো প্রার্থী যাতে বিশেষ সুবিধা না পান, সেজন্য সবার সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী।

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪
৫৭৮৯১০১১
১১৩৪১৫১৬১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৯৩০৩১  

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code