অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক সহায়তা চায় বাংলাদেশ
অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক সহায়তা চায় বাংলাদেশ
editor
প্রকাশিত অক্টোবর ১৫, ২০২৬, ১২:২১ অপরাহ্ণ
Manual1 Ad Code
প্রজন্ম ডেস্ক:
ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, ব্যাংক খাতের সংস্কার, রাজস্ব আয় বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছ থেকে বাড়তি অর্থায়ন ও সহযোগিতা পাওয়ার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা চলছে। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে অর্থায়ন নিয়ে দর-কষাকষিতে অগ্রগতি হওয়ার আশা করছে সরকার। তবে অর্থায়নের পরিমাণ, শর্ত ও ধরন এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
একই সঙ্গে বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) ও যৌথ বিনিয়োগ বাড়াতে চায় সরকার। যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিমান, জ্বালানি তেল, সয়াবিনসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির বিষয়টি তুলে ধরে দেশটির কাছে বাড়তি সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের এ অবস্থানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো একমত হয়েছে। তবে প্রত্যাশিত সহযোগিতার পরিমাণ ও ধরন এখনো নিশ্চিত হয়নি।
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে গতকাল বুধবার আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভার ফাঁকে এসব আলোচনা হয়েছে। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি রাজস্ব ও ব্যাংক খাতের সংস্কার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অভিঘাত মোকাবিলায় সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে। তবে আলোচনায় অগ্রগতি হলেও তা এখনো চূড়ান্ত অর্থায়নের নিশ্চয়তায় পৌঁছায়নি।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর গতকাল সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশ যে ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে, তা বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগসহ বিভিন্ন বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সংস্থা ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনায় তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও কাঠামোগত সংস্কারে সরকারের নিজস্ব পরিকল্পনার প্রতিও অংশীদাররা আস্থা প্রকাশ করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
তিতুমীরের ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনায় ব্যাংক খাতের সংস্কার, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, দারিদ্র্য হ্রাস এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে তৈরি হওয়া নতুন চাপ মোকাবিলার কৌশল গুরুত্ব পেয়েছে। সরকারের নেওয়া কর্মসূচিগুলোকে বাস্তবসম্মত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীর সঙ্গে আলোচনা চলছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে দর-কষাকষির মাধ্যমে অগ্রগতি হতে পারে। তবে অর্থায়নের পরিমাণ, শর্ত কিংবা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা দেননি তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বাড়তি সহযোগিতা চায় সরকার
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের অগ্রগতি এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পণ্য আমদানির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশের আরও সহযোগিতা পাওয়া উচিত।
Manual4 Ad Code
বৈঠকে ঋণ ব্যবস্থাপনা, মার্কিন সহায়তা এবং দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিম ব্যাংক ও সহায়তাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গেও কথা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিমান, জ্বালানি তেল, সয়াবিনসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি করছে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাড়তি সহযোগিতা আসা উচিত বলে বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মত দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এ অবস্থানের সঙ্গে একমত হলেও সহায়তার পরিমাণ ও ধরন এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
সরকারের অর্থনৈতিক নীতিতে ঋণনির্ভরতা কমিয়ে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ ও যৌথ বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর মতে, বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনার সুযোগ তৈরি হবে।
কর না বাড়িয়ে রাজস্ব আয় বৃদ্ধির পরিকল্পনা
অর্থনৈতিক সংস্কার পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য হলো করের হার না বাড়িয়ে কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি করা। ড. তিতুমীরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগের সরকারের আমলে কর প্রশাসনে পৃষ্ঠপোষকতা ও অলিগার্কিক ব্যবস্থার কারণে রাজস্ব আহরণ কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। ফলে দেশের কর-জিডিপি অনুপাত ৭ শতাংশের নিচে ছিল।
বর্তমান সরকার কর-ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ, হয়রানিমুক্ত ও প্রযুক্তিনির্ভর করার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান তিনি। করের আওতা সম্প্রসারণ, কর ফাঁকি রোধ এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে রাজস্ব আয় বাড়াতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে কর প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে ডিজিটাল রূপান্তরের কাজ চলছে।
রাজস্ব নীতিনির্ধারণ ও রাজস্ব আহরণের দায়িত্ব পৃথক করার উদ্যোগেও অগ্রগতি হয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা। এ বিষয়ে গঠিত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। সরকার নীতিগতভাবে সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে তা কার্যকরের উদ্যোগ চলছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সরকারের প্রত্যাশা, এসব সংস্কার বাস্তবায়িত হলে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়বে এবং সরকারি আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষা সহজ হবে। তবে এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে বাস্তবায়ন, কর ফাঁকি নিয়ন্ত্রণ ও রাজস্ব প্রশাসনে জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর।
ব্যাংক খাতে সংস্কার ও বিনিয়োগে জোর
অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পথে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ ব্যাংক খাতের দুর্বলতা। খেলাপি ঋণ কমানো, ব্যাংকগুলোর আর্থিক বিবরণী পরিষ্কার করা এবং অনিয়মে দুর্বল হয়ে পড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে সময়সীমাভিত্তিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ড. তিতুমীর।
তিনি বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা তাদের অর্থ ফেরত পেতে শুরু করেছেন। আমানতকারীদের ওপর সম্ভাব্য আর্থিক চাপ কমাতেও সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যাংক খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।সরকারি সেবা
বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা ও মুদ্রানীতির কার্যকারিতা প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাজে সরাসরি হস্তক্ষেপ না করে রাজস্বনীতি ও মুদ্রানীতির মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়ানোর পরিবেশ তৈরি করাও জরুরি।
এদিকে বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানা চালু করা এবং বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রায় ৬২ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ অর্থায়ন প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। সরকারের প্রত্যাশা, এ অর্থায়নের মাধ্যমে উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে গতি আসবে, বিনিয়োগ বাড়বে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
মূল্যস্ফীতির চাপে দারিদ্র্য মোকাবিলা
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পায়, যার প্রভাব পড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে। ফলে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দেওয়াও সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
ড. তিতুমীর বলেন, মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দিতে ফ্যামিলি কার্ড ও ফারমার্স কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও কৃষকদের সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
Manual3 Ad Code
বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনের উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, মূল্যস্ফীতির চাপে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাওয়ার বিষয়টি সেখানে উঠে এসেছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক সুরক্ষা এবং উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
জ্বালানি খাতের বাড়তি চাপ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক, এডিবি, ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীর অর্থায়ন কর্মসূচি রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী এসব সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং অর্থায়ন বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা চলছে।
বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বাড়ছে চাপ
বাংলাদেশ যখন অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে, তখন বিশ্ব অর্থনীতির আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়েও সতর্ক করেছেন আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা।
ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভায় তিনি বলেন, সরকারি বন্ডের সুদের হার বাড়ছে এবং ক্রমবর্ধমান ঋণের বোঝা সামলাতে সরকারগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে। আর্থিক ব্যবস্থার দুর্বলতা আরও প্রকট হওয়ার আগেই সরকারি আয় ব্যবস্থাপনায় জরুরি সংস্কার প্রয়োজন।
Manual5 Ad Code
জর্জিয়েভা রাজস্ব আয় বাড়ানো, সরকারি ব্যয়ে যৌক্তিকতা আনা এবং সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা উন্নত করার ওপর জোর দেন। তার মতে, নানা অভিঘাত ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও বিশ্ব অর্থনীতি স্থিতিস্থাপকতা দেখালেও চাপ মোকাবিলার সক্ষমতা ক্রমেই সীমার কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে পণ্য ও সেবার উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। এর মধ্যে আইএমএফ ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আগের তুলনায় শূন্য দশমিক ১ শতাংশ পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩ দশমিক ১ শতাংশ নির্ধারণ করেছে।
Manual4 Ad Code
তবে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়লেও ঝুঁকি কাটেনি। আইএমএফের আশঙ্কা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিনিয়োগ নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তৈরি করলেও দরিদ্র দেশগুলো এর সুফল সমানভাবে পাচ্ছে না। অন্যদিকে উচ্চ জ্বালানি ব্যয় এসব দেশের অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলোর করণীয় তুলে ধরে জর্জিয়েভা বলেন, চীনকে আরও বেশি ব্যয় করতে হবে, যুক্তরাষ্ট্রকে আরও বেশি সঞ্চয় করতে হবে এবং ইউরোপকে আরও বেশি বিনিয়োগ করতে হবে।
সংস্কার বাস্তবায়নেই আস্থার পরীক্ষা
সরকারের দাবি, অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া নয়; দেশের নিজস্ব প্রয়োজন ও রাজনৈতিক অঙ্গীকারের ভিত্তিতেই তা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে ঘোষিত ইশতেহারে কর-ব্যবস্থা, ব্যাংক খাত, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সুশাসন নিয়ে সংস্কারের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছিল বলে জানান ড. তিতুমীর। সরকারের পঞ্চবার্ষিক অর্থনৈতিক কৌশল ও সংস্কার পরিকল্পনাতেও এ দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তার মতে, কাঠামোগত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা, বাস্তবায়নের পদ্ধতি নির্ধারণ এবং সুনির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আস্থা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।
তবে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আস্থা ও আলোচনার অগ্রগতি এখনো বাস্তব অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার সমান নয়। রাজস্ব সংস্কার, ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় পরিকল্পনাগুলোর কার্যকর বাস্তবায়নই হবে মূল পরীক্ষা।
সব মিলিয়ে বাংলাদেশ একদিকে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ও বাড়তি সহযোগিতা চাইছে, অন্যদিকে ঋণ-নির্ভরতা কমিয়ে বিনিয়োগভিত্তিক প্রবৃদ্ধির পথে এগোতে চায়। বৈশ্বিক ঋণঝুঁকি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক দুর্বলতার মধ্যে এ লক্ষ্য অর্জনে সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন মাসে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন নিয়ে আলোচনায় কতটা অগ্রগতি হয় এবং ঘোষিত সংস্কারগুলো বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, তার ওপরই অনেকাংশে নির্ভর করবে দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের গতি।