নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেটের বালাগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজের বাংলার প্রভাষক অহি আলম রেজা। তার ৩ বছরের ছেলেকে নিয়ে শনিবার বিকাল পৌণে ৩টার দিকে আম্বরখানা থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় উঠে বসেন। উদ্দেশ্য, শাহী ঈদগাহ যাওয়া।
ওই অটোরিকশায় ড্রাইভারের সাথে আগে থেকেই একজন যাত্রী বসেছিলেন। গাড়িটি চলতে শুরু করলে আরেকজন যাত্রী উঠে বসেন। আরেকটু সামনে যাওয়ার পর হঠাৎ তার শিশু সন্তানের পেটে চাকু ধরে কথা বলতে নিষেধ করে পাশের যাত্রী। তিনি ছেলেকে জড়িয়ে ধরলে সাথে সাথে তার পকেট হাতড়ে ওরা নগদ ২০ হাজার টাকা নিয়ে নেয়। এরপর শাহী ঈদগাহ পেরিয়ে যাওয়ার পর তাকে নামিয়ে দিয়ে দ্রুত তারা কেটে পড়ে। তিনি এয়ারপের্ট থানায় একটি জিডি করেছেন তবে এখনো এ ব্যাপারে কোনো অগ্রগতি নেই।
এই খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর সিলেটের সচেতন নগরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ প্রকাশ করছেন সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমগুলোতে। এসব অভিযোগের সারাংশ হচ্ছে, সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকদের অনেকেই ছিনতাইসহ নানান অপকর্মের সাথে জড়িয়ে পড়ছে। তারা সুযোগ বুঝে যাত্রীদের সাথে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র টাকা-পয়সা নিয়ে দিব্যি হাওয়া হয়ে যাচ্ছে।
Manual8 Ad Code
আবার অনেকের অভিযোগ, তারা নিজেদর গাড়িতে কৌশলে দেশীয় অস্ত্র বহন করে। প্রয়োজনে সেগুলো ব্যবহারও করে। অনেক সময় নিরিহ যাত্রীদের উপর হামলে পড়ে। শারীরিক নির্যাতনে নিজেদের গাড়িতে রাখা দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করছে। মোটামুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকরা এখন আর কেবলমাত্র চালকই নয়, তাদের কেউ কেউ রীতিমতো সন্ত্রাসী কাজে জড়িয়ে পড়ছেন।
সচেতন মহলের মতে, প্রশাসন এবং পরিবহনখাতের নেতৃবৃন্দ নিয়মিত অভিযান চালিয়ে গাড়িগুলো পরীক্ষা নিরীক্ষা করলে অস্ত্র রাখার বিষয়টির প্রমাণ পেতে পারেন। এতে এই প্রবণতা হ্রাস পেতে পারে।
Manual7 Ad Code
আর ছিনতাই কাজে সংশ্লিষ্ট চালকদের ব্যাপারে ব্যাপক খোঁজ-খবর নিয়ে প্রমাণসাপেক্ষ তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও তাদের।
Manual5 Ad Code
সিএনজিচালিত অটোরিকশায় অস্ত্র রাখা ও চালকদে অপরাধমূলক কাজে জড়িত থাকার বিষয়টি প্রতিরোধে সিলেট মহাননগর পুলিশের পদক্ষেপ জানতে রবিবার রাতে মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. মনজুরুল আলমকে কল দিলেও তিনি তা রিসিভ করেন নি।
আর সিলেট জেলা পবিরহণ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. জাকারিয়ার কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গাড়িতে দেশীয় অস্ত্র রাখার বিষয়টি আমাদের নজরে আসেনি। যাত্রীদের সঙ্গে তাদের আচরণ নিয়ে আমরা কাউন্সেলিং করাই। আর ছিনতাইকাজে আমাদের সমিতি বা ইউনিয়নভুক্ত কোনো সদস্য জড়িত নয়। এমন কোনো অভিযোগ আামাদের কাছে আসেওনি। যদি এরকম কেউ করে থাকে সেটা হতে পারে বাইরে থেকে আসা কেউ। আমরা এ ব্যাপারে কঠোর। প্রয়োজনে পুরো বিষয়গুলো খোঁজ নিয়ে সত্যতা পেলে অবশ্যই আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Manual2 Ad Code
তবে তিনি যাত্রীদেরও আরও সচেতন এবং সুন্দর ব্যবহারের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। বলেন, অনেক যাত্রী ড্রাইভারকে অযথা বসিয়ে রাখেন। কিছু বললে দুর্ব্যবহার করেন। এতে হতশাগ্রস্ত হয়ে অনেক চালক খারাপ ব্যবহার করতে বাধ্য হয়। এসব ব্যাপারে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান তার।