প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

১লা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

রিজার্ভে হাত না দিয়ে দেড় বিলিয়ন ডলার ঋণ কীভাবে শোধ হলো

editor
প্রকাশিত অক্টোবর ২১, ২০২৪, ১২:৩৭ অপরাহ্ণ
রিজার্ভে হাত না দিয়ে দেড় বিলিয়ন ডলার ঋণ কীভাবে শোধ হলো

Manual3 Ad Code

 

Manual5 Ad Code

প্রজন্ম ডেস্ক:

 

দেশের ব্যাংকগুলোতে টাকার সংকট থাকলেও এখন ডলারের সংকট নেই। অর্থপাচার ঠেকানোর পাশাপাশি দুর্নীতি কমায় আন্তব্যাংকে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রিজার্ভে হাত না দিয়ে গত দুই মাসে আন্তব্যাংক থেকে ডলার নিয়ে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের দেড় বিলিয়ন ডলার বকেয়া পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, আগে ব্যাংকগুলোতে ডলারের সংকট ছিল। এখন অধিকাংশ ব্যাংকে ডলারের মজুত বেড়েছে। তিনি বলেন, টাকার সংকট থাকলেও ব্যাংকগুলোতে এখন ডলারের সংকট নেই। তিনি উল্লেখ করেন, প্রবাসীরা মূলত ব্যাংকে ডলার পাঠায় রেমিট্যান্স আকারে। রফতানি আয়ের টাকাও প্রথমে ব্যাংকেই জমা হয়। অর্থাৎ ডলার প্রথমে ব্যাংকগুলোতেই জমা থাকে। তারপর প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাংকগুলো এলসি খোলে অথবা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ডলার বিক্রি করে দেয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনে রিজার্ভে জমা করে।

আহসান এইচ মনসুর বলেন, ব্যাংকগুলো থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কিনে, আবার বিক্রিও করে। কিন্তু আমি রিজার্ভ থেকে কোনও ডলার বিক্রি করছি না।

Manual8 Ad Code

যেভাবে দেনা পরিশোধ করা হলো তার ব্যাখ্যায় গভর্নর বলেন, ধরেন ইসলামী ব্যাংকে প্রচুর রেমিট্যান্স আসার কারণে সেখানে উদ্বৃত্ত ডলার আছে। কিন্তু তাদের কাছে টাকা নেই। আমরা সোনালী ব্যাংককে বা রূপালী ব্যাংককে বলেছি সমপরিমাণে টাকা দিয়ে ইসলামী ব্যাংক থেকে ডলার নিয়ে সারের বকেয়া পরিশোধ করতে। তারা তাই করেছে। আগে বাংলাদেশ ব্যাংক সোনালী বা রূপালী ব্যাংককে রিজার্ভ থেকে ডলার দিতো। এই দুই মাসে রিজার্ভে হাত দিতে হয়নি। তিনি বলেন, ডলার সংকটের কারণে আগের গভর্নরের সময়ে আদানি, কাফকোসহ, শেভরন ও বিপিসিকে সরবরাহকারী বেশকিছু বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে বকেয়া পড়ে যায় সোয়া দুই বিলিয়ন ডলারের ওপরে। গত দুই মাসে আন্তব্যাংক থেকে ডলার নিয়ে দেনা পরিশোধ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এখনও ৪০০ মিলিয়ন ডলার দেনা আছে। আশা করছি, অচিরেই এই দেনাও পরিশোধ হবে রিজার্ভে হাত না দিয়েই। অর্থপাচার ঠেকানোর পাশাপাশি দুর্নীতি কমেছে এই কারণে আন্তব্যাংকে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, এখন ডলারের চাইতে টাকার দাম বেশি। যে কারণে ডলারের প্রতি মানুষের এখন আগ্রহ কম। টাকার প্রতি আগ্রহ বেশি। ডলারের তুলনায় টাকাতে এখন বেশি সুদ পাওয়া যাচ্ছে। তিনি মূল্যস্ফীতি কমতে শুরু করেছে। এছাড়া অনিশ্চয়তা কাটতে শুরু করেছে তেল, গ্যাস, সারসহ দরকারি পণ্য আমদানিতে।

Manual5 Ad Code

গভর্নর জানান, ডিসেম্বরের মধ্যে সব দায় মেটানোর পর, আরও ইতিবাচক ধারায় ফিরবে অর্থনীতি। বিনিয়োগ, প্রবৃদ্ধি নিয়ে এই মুহূর্তে চিন্তা না করে, ধৈর্য ধরার পরামর্শ দেন তিনি।

প্রসঙ্গত, জ্বালানি তেল, গ্যাস, কয়লাসহ যাবতীয় পেট্রোলিয়াম পণ্যের প্রায় পুরোটাই আমদানি করতে হয় বিভিন্ন উৎস থেকে। যার পেছনে সবশেষ অর্থবছরে ব্যয় হয় প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার। এছাড়া, বিদ্যুৎ ও সারের ক্ষেত্রেও নির্ভরতা বাড়ছে প্রতিনিয়ত। কিন্তু, গেলো বছর দুয়েক ধরে ডলার সঙ্কট শুরু হলে, সেই ব্যয় পরিশোধ করা যায়নি সময়মতো। আদানি, কাফকোসহ, শেভরন ও বিপিসিকে সরবরাহকারী বেশকিছু বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে বকেয়া পড়ে যায় সোয়া দুই বিলিয়ন ডলারের ওপরে। তবে, গেলো দুই মাসে রিজার্ভে হাত না দিয়েই, সেই বকেয়ার দেড় বিলিয়ন পরিশোধ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাকি অংশও মাস দুয়েকের মধ্যে মিটিয়ে দেওয়ার আশা গভর্নরের।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ২.৫ বিলিয়নের মতো অনাদায়ী, অনিষ্পন্ন দায় ছিল সরকারের। সেটা ছিল ডলারের। সেটা আমরা কমিয়ে ৪০০ মিলিয়নে নিয়ে এসেছি। সারের জন্য প্রচুর টাকা দেওয়া হয়েছে, বিদ্যুতের জন্য দেওয়া হয়েছে, আদানি-শেভরনকে দেওয়া হয়েছে। সবার দেনাটা কিছুটা কমিয়ে আনা হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য আগামী দুই মাসের মধ্যে দেনা জিরোতে নামিয়ে আনবো। তখন বাজারে লিকুইডিটি আরও বাড়বে।

গভর্নর বলেন, এসব বকেয়া পরিশোধের পর, চাপ কমবে আর্থিক ব্যবস্থাপনায়। যা গতি বাড়াবে সার্বিক কর্মকাণ্ডে। একই সঙ্গে, প্রস্তুতি চলছে বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে আরও প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার ঋণ সংগ্রহের।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেন, যদি আমি আইএমএফ থেকে ২ থেকে ৩ বিলিয়ন অতিরিক্ত পাই, এর সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের আরও ২ বিলিয়ন পাই। তাহলে অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও কিছুটা গতিশীল পাবে।

Manual6 Ad Code

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১
২৩৪৫৭৮
৯১০১১১১৩৪১৫
১৬১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৯
৩০  

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code