আগামী পাঁচ বছরে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা রেকর্ড পরিমাণে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। সংস্থাটির মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের এই অভিঘাত সবচেয়ে বেশি ভোগাবে বাংলাদেশের মতো জলবায়ু-সংবেদনশীল দেশগুলোকে।
আজ বুধবার প্রকাশিত ডব্লিউএমওর এক নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে অন্তত একটি বছর হবে ২০২৪ সালের চেয়েও বেশি উষ্ণ।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালকেই ইতোমধ্যে ইতিহাসের সর্বোচ্চ উষ্ণ বছর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
Manual3 Ad Code
প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা প্রাক-শিল্প যুগের তুলনায় ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ৭০ শতাংশ। একই সময়কালে অন্তত একটি বছর বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ৮০ শতাংশ।
এই উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে সাগরের পানি উত্তপ্ত হচ্ছে, মেরু অঞ্চলের বরফ গলছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে এবং অতি বর্ষণ, খরা ও দাবদাহের মতো চরম আবহাওয়া ক্রমেই ঘন ঘন ঘটছে—বলা হয় প্রতিবেদনে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের মতো নিচু এলাকার দেশগুলো ইতোমধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি ও গভীর প্রভাবের মুখে রয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের গড় তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি ছাড়িয়ে গেলে, এসব অঞ্চলে বন্যা ও লবণাক্ততা আরও বাড়বে, কৃষি উৎপাদনে পড়বে বিরূপ প্রভাব, এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়বে বহু গুণে।
ডব্লিউএমও আরও জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ এশিয়ায় গড় বৃষ্টিপাত বেড়েছে, এবং এই প্রবণতা ২০২৫ থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। তবে সব মৌসুমে এই বৃদ্ধির ধারা একই রকম নাও হতে পারে।
Manual5 Ad Code
Manual1 Ad Code
প্রতিবেদনে আর্কটিক অঞ্চল নিয়েও সতর্ক করা হয়েছে। বলা হয়েছে, পরবর্তী পাঁচটি শীত মৌসুমে (নভেম্বর থেকে মার্চ) ওই অঞ্চলের তাপমাত্রা বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় ৩.৫ গুণ বেশি, অর্থাৎ প্রায় ২.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়বে। পাশাপাশি ব্যারেন্ট সাগর, বেরিং সাগর ও ওখোতস্ক সাগরে বরফের পরিমাণ কমবে।
Manual3 Ad Code
ডব্লিউএমওর উপ-মহাসচিব কো ব্যারেট বলেন, ‘গত ১০টি বছর ছিল ইতিহাসের সর্বোচ্চ উষ্ণ বছর। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই প্রতিবেদন ভবিষ্যতের জন্য কোনো স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে না। এর অর্থ হলো আমাদের অর্থনীতি, জীবনযাত্রা, বাস্তুসংস্থান ও পৃথিবী আরও চাপে পড়বে।’
প্যারিস চুক্তির আওতায় বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে এবং সম্ভব হলে ১.৫ ডিগ্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার বিষয়ে দেশগুলো অঙ্গীকার করেছিল। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন, ১.৫ ডিগ্রি সীমা অতিক্রম করলে জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহতা অনেকগুণ বেড়ে যাবে এবং চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি হবে আরও মারাত্মক।
এই পরিস্থিতিতে চলতি বছরের কপ-৩০ সম্মেলনে জলবায়ু বিষয়ক হালনাগাদ কর্মপরিকল্পনা (এনডিসি) গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হতে যাচ্ছে। প্যারিস চুক্তির লক্ষ্য পূরণে এটি হবে একটি বড় পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।