প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

১৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
২৮শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি পূরণে সক্ষমতা কম

editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬, ০৮:৫২ পূর্বাহ্ণ
নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি পূরণে সক্ষমতা কম

Manual3 Ad Code

 

প্রজন্ম ডেস্ক:

অভাবের অর্থনীতি। সরকারি কোষাগারে ভাটার টান। রাজস্ব আয় হচ্ছে না ঠিকমতো। ব্যবসা-বিনিয়োগ-কর্মসংস্থান নেই।
বেকারত্ব বাড়ছে। একের পর এক বন্ধ হচ্ছে কারখানা। বেসরকারি খাতের বিনিয়োগকারীরা আস্থাহীনতায় হাত গুটিয়ে বসে আছেন। এডিপিও স্থবির।

জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশের ঘরে ঘুরপাক খাচ্ছে। সরকারই চলছে ঋণে ভর করে। অর্থাৎ অর্থনীতিটা খুঁড়িয়ে চলছে। এটি যে এগোবে এমন রসদ বলতে গেলে সীমিত।

নতুন সরকারকে ক্ষমতা নিয়ে আগেই অর্থনীতির পুনর্গঠন, ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের আস্থা ফেরানো, নীতি-সহায়তা দিয়ে বিনিয়োগ চাঙ্গা করার চাপ থাকবে। এরপর যখন ব্যবসা ও অর্থনীতি গতি ফিরে পাবে, সরকারের হাতে টাকা আসবে, তখনই বড় বড় প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেওয়া যাবে। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে বিএনপি ও জামায়াতের মতো বড় দলগুলো যেসব প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়ি দিচ্ছে—তার বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টা এমন যে ঘরে ডাল-ভাত খাওয়ার আয়োজন নেই, অথচ ঘি খাওয়ার পরিকল্পনা! তথ্য-উপাত্ত বলছে, বড় দলগুলোর ইশতেহার অনেকটা এ রকমই উচ্চাভিলাষী। কিন্তু বাস্তবতা অনেক কঠিন।

 

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ভোটের মাঠে নেই। ফলে এখন প্রতিদ্বন্দ্বিতা মূলত বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। দুই দলের শীর্ষ নেতারাই গলদঘর্ম হয়ে কেন্দ্র থেকে প্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছেন।

 

দুই দলই ভোটারদের মন জয় করতে বাহারি সব স্বপ্ন দেখাচ্ছে। নেতাদের প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়ির শেষ নেই। ভোটের মাঠ থেকে তাঁদের আনুষ্ঠানিক ইশতেহার—সবকিছুতেই বড় বড় প্রতিশ্রুতি।

 

বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে একটি আধুনিক উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তর ও এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অন্যদিকে জামায়াত নির্বাচনী ইশতেহারে ২০৪০ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে দুই ট্রিলিয়ন ডলার ও মাথাপিছু আয় ১০ হাজার ডলারে উন্নীত করার আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরেছে।

 

Manual6 Ad Code

বিএনপি আরো বলছে, তারা জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে সাড়ে ৮ শতাংশ। আর জামায়াত আরো এক ধাপ এগিয়ে ৯.৭০ শতাংশ অর্জন করবে বলছে। বিদায়ি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৩.৯৭ শতাংশ। এটি হয়তো চলতি অর্থবছরে সাড়ে ৪ শতাংশ অর্জন হতে পারে। করোনা মহামারির আগে ২০১৯ সালে প্রবৃদ্ধি ছিল ৮ শতাংশের বেশি। দল দুটির ইশতেহারের লক্ষ্য পূরণ করতে হলে অর্থনীতিকে চরমভাবে চাঙ্গা করতে হবে। চারদিকে বিনিয়োগ-কর্মসংস্থানের রমরমা অবস্থা হতে হবে। এডিপির বাজেট আরো বড় এবং তা পুরো বাস্তবায়ন করতে হবে। ব্যবসা-বাণিজ্য চরম চাঙ্গা থাকলে রাজস্ব আয়ের বর্তমান লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বড় লক্ষ্য অর্জন হবে। সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগের ফলে মানুষের আয় যখন অনেক বেড়ে যাবে, তখনই কেবল দলগুলোর কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব। সেটি শিগগিরই সম্ভব নয়।

 

বিএনপি বেকারদের ছয় মাস ভাতা দেবে, ১০ হাজার টাকা কৃষিঋণ মওকুফ করবে, ফ্যামিলি কার্ড দেবে—এ রকম আরো বহু প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। জামায়াতও এর চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। বরং অনেক ক্ষেত্রে তাদের প্রতিশ্রুতি আরো বেশি।

 

তবে অর্থনৈতিক বাস্তবতায় দলগুলোর এ লক্ষ্য অর্জন অনেক চ্যালেঞ্জিং বলে মনে করছেন বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘বিএনপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের। জামায়াতের প্রতিশ্রুতি ২০৪০ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতির আকার দুই ট্রিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়া। জামায়াতের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হলে ডলারের অঙ্কে প্রতিবছর প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে ৯.৭০ শতাংশ। অন্যদিকে বিএনপির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হলে ডলারের অঙ্কে প্রবৃদ্ধি লাগবে ৮.৩০ শতাংশ। অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এসব অনেক উচ্চাভিলাষী।’

 

ড. জাহিদ হোসেন আরো বলেন, ‘নির্বাচনী ইশতেহারের মূল উদ্দেশ্য স্বপ্ন দেখানো। স্বপ্নের ক্ষেত্রে তো সম্ভবের কথা কেউ ভাবে না। সম্ভবের কথা ভাবতে হলে সব হিসাব-নিকাশ করতে হয়। সব একবারে হবে নাকি ধাপে ধাপে হবে, তা বাজেটের মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্য কি না তা দেখতে হয়। নির্বাচনের আগে দুই জোটের পক্ষ থেকেই যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে, বাস্তবায়নযোগ্যতার মানদণ্ডে কোনো পক্ষেরটাই পাস করবে না।’

 

বিএনপির প্রধান প্রতিশ্রুতি ‘ফ্যামিলি কার্ড’। প্রতিটি পরিবারের একজন নারীর নামে এই কার্ড দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে ৪০ লাখ পরিবারকে এর আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতি মাসে দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা নগদ অর্থ অথবা চাল, ডাল, তেল, লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সমমূল্যের প্যাকেজ দেওয়া হবে।

 

প্রতিশ্রুতিটি শুনতে সুন্দর হলেও সমস্যাটা মূলত বাস্তবায়নে। বাংলাদেশ বর্তমানে সামাজিক সুরক্ষায় বছরে প্রায় এক লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে, যা জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ। বিএনপির ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি পুরো দেশে চালু করতে বছরে আনুমানিক এক লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা লাগবে। সর্বশেষ বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ ছিল এক লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ১৪.৭৮ শতাংশ। সে হিসাবে সামাজিক সুরক্ষায় ব্যয় বাড়িয়ে দ্বিগুণ করতে হবে।

 

অন্যদিকে জামায়াত জোটের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে একটি জেলায় জেলায় বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা। একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ করতে বাংলাদেশের বাস্তবতায় খরচ হবে আড়াই হাজার কোটি টাকারও বেশি। সে হিসাবে দেশের ৬৪ জেলায় বিশেষায়িত হাসপাতাল তৈরি করতে হলে সরকারের খরচ হবে এক লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা। অথচ সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য বাজেটে বরাদ্দ ছিল প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা।

 

সে হিসাবে টানা চার বছর স্বাস্থ্য খাতে অন্য কোনো ধরনের ব্যয় করার সুযোগ নেই। এ ছাড়া পাঁচ বছরের নিচে শিশু ও ৬০ বছরের বেশি বয়সের মানুষের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবার কথাও এসেছে প্রতিশ্রুতিতে। এ জন্যও প্রয়োজন বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি।

 

বিএনপির প্রতিশ্রুতি ১৮ মাসে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি। সেই সঙ্গে শিক্ষিত বেকারদের চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত দেওয়া হবে আর্থিক সহায়তা। এ ছাড়া আট লাখ আইটি চাকরি ও পেপ্যালসহ আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অন্যদিকে জামায়াত পাঁচ বছরে এক কোটি তরুণকে প্রশিক্ষণ, প্রতিটি উপজেলায় ইয়ুথ টেক ল্যাব, জেলা পর্যায়ে জব ব্যাংক, ৫০ লাখ চাকরি সংযোগ, পাঁচ লাখ উদ্যোক্তা ও ১৫ লাখ ফ্রিল্যান্সার তৈরির কথা বলছে। স্নাতক বেকারদের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত মাসে ১০ হাজার টাকা সুদমুক্ত ঋণের প্রস্তাবও আছে দলটির।

 

কার্ডভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষার বাইরে সবচেয়ে বড় টান তরুণ ভোটারদের দিকে। বাংলাদেশের ১২ কোটি ৭০ লাখ ভোটারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তরুণ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে কলেজ শিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্ব ১৩.৫ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় আট লাখ ৮৫ হাজার স্নাতক কর্মহীন। সামগ্রিক বেকারত্ব ৪.৬৩ শতাংশ। দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এসব চাকরির ক্ষেত্র তৈরির জন্য ৮ থেকে ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ও ব্যাপক বিনিয়োগ প্রয়োজন। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিস্থিতি খুবই নাজুক।

 

বিএনপি তাদের প্রতিশ্রুতিতে বলেছে, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হবে। এ ছাড়া দলটি যুক্ত করেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি সহায়তা। মিড ডে মিল চালুর ঘোষণাও তারা দিয়েছে। শিক্ষা খাতে প্রতিশ্রুতি কাছাকাছি হলেও কিছুটা কৌশলী অবস্থানে জামায়াত। তারা শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার ও পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বর্তমানে সকল স্তরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা তিন কোটি ৫০ লাখ থেকে চার কোটির মতো। সর্বশেষ অর্থবছরে শিক্ষা খাতের বাজেটে বরাদ্দ ছিল প্রায় ৯৬ হাজার কোটি টাকা। এই বাজেটের মধ্যে সীমিতসংখ্যক শিক্ষার্থী বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছে।

 

দেশে বেসরকারি বিনিয়োগ দীর্ঘদিন ধরে জিডিপির ২২ থেকে ২৩ শতাংশের মধ্যেই আটকে আছে। কর-জিডিপি অনুপাত ৭ শতাংশের নিচে, যেখানে ভারতে তা প্রায় ১২ শতাংশ এবং পাকিস্তানে ১০ শতাংশ। অর্থনীতিবিদদের মতে, মৌলিক সেবা টেকসইভাবে চালাতে এই অনুপাত অন্তত ১৫ শতাংশ হওয়া দরকার।

 

এসব প্রতিশ্রুতি পূরণে প্রয়োজন প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান। তার মূল উৎস রাজস্ব আদায়। রাজস্ব আদায় নিয়ে বিএনপি তামাক ও দূষণকারী জ্বালানিতে কর আরোপ করে জিডিপির অতিরিক্ত ২ শতাংশ আয়ের কথা বলেছে। প্রশাসন সংস্কারের মাধ্যমে মধ্য মেয়াদে ১০ শতাংশ রাজস্ব বাড়ানো, রাজস্ব খাতে ন্যায্যতা, অপ্রয়োজনীয় কর ছাড় বাতিল, সম্পত্তি ও সম্পদ কর আরোপের কথা বলেছে। অন্যদিকে করপোরেট কর ক্রমান্বয়ে ২০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা, কাস্টমস ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, রাজস্ব আয় বাড়িয়ে ঋণ নির্ভরশীলতা কমানো, করমুক্ত আয়সীমা পাঁচ লাখ টাকা করা ও কর-জিডিপি অনুপাত ১৪ শতাংশ করার কৌশল হাতে নিয়েছে জামায়াত।

 

সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সাত লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেন। সেখানে পাঁচ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা পরিচালন ব্যয় ও দুই লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা উন্নয়ন ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে পাঁচ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা। এই বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ দুই লাখ ২১ হাজার কোটি টাকা।

 

Manual6 Ad Code

রাজস্ব আয়ের ৮৫ শতাংশের জোগান আসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে। তবে দেশের অর্থনীতির দুরবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দাভাব, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, মানুষের আয় কমে যাওয়া, কর্ম হারানোসহ বিভিন্ন কারণে রাজস্ব আদায়ে ধস নেমেছে। সর্বশেষ তথ্য-উপাত্ত বলছে, অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ছিল দুই লাখ ৩১ হাজার ২০৫ কোটি টাকা। অথচ এ সময় রাজস্ব আয়ের তিনটি খাতে রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে ৪৫ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা।

 

নির্বাচনী ইশতেহারে দলগুলোর প্রতিশ্রুতি পূরণের ক্ষেত্রে আর্থিক সক্ষমতা, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার মতো বড় তিনটি চ্যালেঞ্জ দেখছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ‘সরকারের আর্থিক সক্ষমতা খুবই কম। উচ্চাভিলাষী বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করতে গেলে অর্থের জোগান লাগবে। অনেক ক্ষেত্রেই হয়তো সেটা অনুপস্থিত। এখন রাজস্ব আদায়ের সঙ্গে সংগতি রেখে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। এ ছাড়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা। অনেক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গোষ্ঠীস্বার্থ থাকবে, প্রতিরোধ তৈরির সামাজিক-রাজনৈতিক উপাদান আছে, তারা এটা আকটাতে চেষ্টা করবে। এ জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা দরকার। আরেকটি জায়গা হলো প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা। অনেক সময় রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকে কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা থাকে না।’

Manual8 Ad Code

 

Manual8 Ad Code

বিশ্লেষকরা মনে করেন, দলগুলোর উচিত হবে, ক্ষমতা নেওয়ার পরই বাস্তবতার ভিত্তিতে প্রথম ১০০ দিনের পরিকল্পনা করা। যেসব পরিকল্পনায় অগ্রাধিকার থাকবে ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করে বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগ ও ব্যবসার প্রসার ঘটানো। মানুষের আয় বর্ধনমূলক কর্মকাণ্ড নেওয়া ও মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনা। তারপরই বড় বড় উদ্যোগ নিয়ে সার্বিক অর্থনীতিকে শক্ত ভিত্তি দিতে হবে। না হলে কোনো প্রতিশ্রুতিই আলোর মুখ দেখবে না।

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code