মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে সাময়িক বিরতিতে কিছুটা স্বস্তিতে এসেছে পুরো বিশ্বে। ১০ দফা শর্ত দিয়ে এই সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। এই যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের সবগুলো দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে সফলভাবে হামলা চালিয়েছে ইরান। হরমুজ প্রণালীর টোল আদায়ের নিয়ন্ত্রণ থাকবে দেশটির হাতেই। এই মুহূর্তে সামরিক ও আর্থিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে দেশটি।
Manual1 Ad Code
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, ইরান তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ এখনো ছাড়েনি। তবে ওমানের সঙ্গে যৌথভাবে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ভাগাভাগি করতে চায়। এমনকি প্রতিটি জাহাজ থেকে ২০ লাখ ডলার টোল আদায়ের পরিকল্পনাও করছে ইরান। যদি এটি কার্যকর হয়, তবে যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটবে। আগে যা ছিল একটি মুক্ত জলপথ, এখন সেখানে ইরান হয়ে উঠবে একচ্ছত্র রক্ষক, যা তাদের আয়ের এক বিশাল নতুন উৎস তৈরি করবে।
সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে নিজেদের সামরিক ঘাঁটি পরিচালনা করে এতদিন যুক্তরাষ্ট্র একধরনের নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করেছিল। কিন্তু ইরান সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক হামলা করে গুঁড়িয়ে দেয়। এগুলো রক্ষায় নিজেদের পারদর্শিতা দেখাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। বরং এই যুদ্ধে তাদের নিরাপত্তা কাঠামোয় দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠছে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নিরাপত্তা দিতে যুক্তরাষ্ট্র ব্যর্থ কি না। কেননা, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক ঘাঁটিগুলোর যে নিরাপত্তা দিতে পারছে না, তা ইরান আক্রমণ করে বুঝিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, এই অঞ্চলে যদি ইরান নতুন শক্তি হিসেবে সামনে আসে, তাহলে সেখানে রাশিয়া ও চীন তাদের নিজেদের নিরাপত্তাবলয় তৈরি করবে।
Manual6 Ad Code
এদিকে যুদ্ধবিরতি ক্ষণস্থায়ী হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বুঝে গেছে যে তাদের প্রতিপক্ষ ইরান এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনকে চরম বিপদে ফেলার পরীক্ষিত ক্ষমতা এখনে ইরানের হাতে। এই অনিশ্চয়তার কারণে উপসাগরে আটকে থাকা শত শত জাহাজ বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও নতুন করে কোনো জাহাজ সেখানে প্রবেশে ভয় পাবে। এ ছাড়া ইরানকে টোল দেওয়া মার্কিন নিষেধাজ্ঞার লঙ্ঘন হবে কি না, তা নিয়ে জাহাজমালিকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ রয়েছে।
দেখা গেছে, যুদ্ধের প্রায় ৪০ দিনে ট্রাম্প ক্রমাগত ভয়ংকর সব হুমকি দিয়েছিলেন। তার ধারণা ছিল, এই হুমকিতে তেহরান শেষ মুহূর্তে হয়তো নতি স্বীকার করবে। কিন্তু ট্রাম্পের সেই কৌশল কাজে লাগেনি। কূটনৈতিক আলোচনার ভিত্তি হিসেবে ট্রাম্পের দেওয়া ১৫ দফা গুরুত্ব না পেলেও ইরানের দেওয়া ১০ দফা পরিকল্পনাকেই গ্রহণ করা হয়েছে। আগের দিন ইরানের যে প্রস্তাবকে ট্রাম্প সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, পরে সেটিই আলোচনার জন্য কার্যকর ভিত্তি হিসেবে মেনে নিয়েছেন।
Manual3 Ad Code
তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ। বুধবার (৮ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ আশা করছে সংঘর্ষে যুক্ত সব পক্ষ এই বিরতি মেনে চলবে এবং স্থায়ী ও টেকসই সমাধানের জন্য এই সুযোগটি ব্যবহার করবে, যাতে পুরো অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা যায়। বাংলাদেশ সরকার কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় যুক্ত সব পক্ষের প্রশংসা করেছে, যারা অস্ত্রবিরতির সূচনা ও কার্যকারিতায় ভূমিকা রেখেছেন। বাংলাদেশ পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, সব বিরোধ শান্তিপূর্ণভাবে সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সমাধান করা যায় এবং করা উচিত।