প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

৩রা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৯শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২০শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

যুদ্ধের আগুনে জ্বলছে দেশের জ্বালানি খাত

editor
প্রকাশিত মার্চ ৩, ২০২৬, ০৯:২৬ পূর্বাহ্ণ
যুদ্ধের আগুনে জ্বলছে দেশের জ্বালানি খাত

Manual3 Ad Code

 

প্রজন্ম ডেস্ক:

Manual8 Ad Code

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের জ্বালানি খাত বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। কারণ অপরিশোধিত তেল, পরিশোধিত জ্বালানি, এলএনজি ও এলপিজি সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের আমদানি নির্ভরতা মূলত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক।

সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বাড়ছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির দুই পাশে শত শত তেলবাহী জাহাজ আটকা পড়ে আছে বলে জানা গেছে।

Manual8 Ad Code

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি পণ্যের দামও ঊর্ধ্বমুখী। ব্যারেলপ্রতি অপরিশোধিত তেলের দাম বর্তমানে ৭০ ডলারের আশপাশে থাকলেও তা ১০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশের অপরিশোধিত তেলের প্রধান উৎস সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। পরিশোধিত জ্বালানির বড় অংশও আসে একই অঞ্চল থেকে। এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি রয়েছে কাতার ও ওমানের সঙ্গে। এছাড়া এলপিজি আমদানিও মূলত মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর।

এমন বাস্তবতায় সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ঝুঁকি বাড়বে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

Manual8 Ad Code

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ম. তামিম বলেন, এমন সংবেদনশীল অঞ্চলে যুদ্ধের প্রভাব বিশ্বব্যাপী পড়বে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে উন্নয়নশীল ও দরিদ্র দেশগুলো। আমাদের দেশে সরবরাহ ঘাটতি ও মূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। স্বল্পমেয়াদে আমরা ১৫ থেকে ২০ দিন পরিস্থিতি সামাল দিতে পারব, কিন্তু সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হতে পারে।

এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব) এর সহ-সভাপতি হুমায়ুন রশীদ বলেন, বিকল্প উৎস থেকে আমদানির জন্য নেগোসিয়েশন সম্ভব হলেও জাহাজ প্রাপ্যতা বড় চ্যালেঞ্জ। সুয়েজ খাল বন্ধ থাকলে জ্বালানি পরিবহনে সময় ও ব্যয় দুইই বেড়ে যাবে।

তবে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা সত্ত্বেও বিকল্প উৎস থেকে সরবরাহ অব্যাহত রাখার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

Manual6 Ad Code

প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানান, চীন, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন বন্দর থেকে জুন পর্যন্ত সরবরাহ চুক্তি করা আছে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির চালান ইতোমধ্যে আসছে, বাকিগুলোও নির্ধারিত সময়েই পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা গেলেও আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি দেশীয় বাজার ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

তবে সোমবার (২ মার্চ) ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ইরান, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলেও বর্তমানে দেশে খাদ্যপণ্য ও জ্বালানি সরবরাহে কোনো সংকট দেখা দেবে না। পর্যাপ্ত মজুত থাকায় বাজারদরেও কোনো প্রভাব পড়বে না বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

সব মিলিয়ে, পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতির ওপর তাৎপর্যপূর্ণ চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭৩০
৩১  

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code