দীর্ঘ সময়ের মন্দা কাটিয়ে হঠাৎ করেই ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে দেশের রপ্তানি খাত। টানা আট মাস পতনের পর এপ্রিল মাসে এককভাবে ৩৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি রেকর্ড হয়েছে, যা ব্যবসায়ীদের জন্য স্বস্তির বার্তা হলেও সামগ্রিক চিত্র এখনও সতর্কতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
Manual8 Ad Code
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০১ কোটি ডলারে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এই উল্লম্ফনের ফলে অন্তত সাময়িকভাবে নেতিবাচক প্রবণতা থেমেছে।
Manual3 Ad Code
তবে বড় ছবিটা এখনো পুরোপুরি ইতিবাচক নয়। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) মোট রপ্তানি আয় আগের বছরের তুলনায় কমেছে। অর্থাৎ, এপ্রিলের সাফল্য সামগ্রিক ঘাটতি পূরণ করতে পারেনি।
Manual5 Ad Code
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রবৃদ্ধির বড় অংশ এসেছে মৌসুমি চাহিদা থেকে, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে। এপ্রিলে মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশই এসেছে এই খাত থেকে, যা আবারও দেশের রপ্তানি কাঠামোর একমুখী নির্ভরতার বিষয়টি সামনে এনেছে।
একই সঙ্গে গত বছরের এপ্রিল মাসে ঈদের ছুটির কারণে উৎপাদন কম থাকায় তুলনামূলক কম ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই এবারের উচ্চ প্রবৃদ্ধি এসেছে- যাকে অর্থনীতির ভাষায় ‘বেস ইফেক্ট’ বলা হয়। ফলে এই প্রবৃদ্ধিকে দীর্ঘমেয়াদি পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত হিসেবে দেখার আগে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে সামনে নতুন চ্যালেঞ্জও দেখা দিচ্ছে। মে মাসে আবারও ঈদের ছুটির কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতি, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতাও রপ্তানি খাতকে প্রভাবিত করতে পারে।
যদিও তৈরি পোশাকের পাশাপাশি কৃষিপণ্য, ওষুধ, চামড়া ও পাটজাত পণ্যের মতো খাতেও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে, তবু টেকসই উন্নয়নের জন্য বহুমুখীকরণ এখন সময়ের দাবি বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।