প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১০ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৪ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

বাংলাদেশি পণ্যে শুল্ক কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

editor
প্রকাশিত জুলাই ৩১, ২০২৫, ০৯:০৪ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশি পণ্যে শুল্ক কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

Manual6 Ad Code

 

Manual7 Ad Code

প্রজন্ম ডেস্ক:

বাংলাদেশের নিকট প্রতিবেশী ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সঙ্গে রাশিয়া, চীন ও ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যের শাস্তি দেওয়ারও হুমকি দিয়েছেন তিনি। এরই মধ্যে ইরানের জ্বালানি তেল কেনার সঙ্গে জড়িত ৬টি ভারতীয় কোম্পানির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। তবে ওয়াশিংটনে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনার পর বাংলাদেশি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাঁরা শুল্ক ১০ থেকে ২০ শতাংশের মধ্যে রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন। এ বিষয়ে সরাসরি কোনো নিশ্চয়তা না পাওয়া গেলেও শুল্ক ৩৫ শতাংশ থেকে কমানোর ব্যাপারে স্পষ্ট ‘ইতিবাচক ইঙ্গিত’ পাওয়া গেছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপে ভারসাম্য রক্ষা ও বাংলাদেশকে অনুকূল অবস্থানে আনার লক্ষ্যে ২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজ অর্ডার, ৭ লাখ টন গম, এলএনজি, তুলা, ওষুধ, মূলধনী যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক কাঁচামাল ও কৃষিজ পণ্য আমদানির ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা। গত সোমবার পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা দেয়।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রস্তাব ছিল—যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া পণ্যের ওপর শুল্কহার যেন ১০ থেকে ২০ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। এই প্রস্তাবের পেছনে রয়েছে আন্তর্জাতিক নজির—ভিয়েতনাম ২০ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইন ১৯ শতাংশ, জাপান ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ১৫ শতাংশ এবং যুক্তরাজ্য ১০ শতাংশ হারে এমন সমঝোতায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশের দাবি, এই পরিসরেই একটি যৌক্তিক ও প্রতিযোগিতামূলক হার নির্ধারণ সম্ভব।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আলোচনার চূড়ান্ত দফার দ্বিতীয় দিনের বৈঠকে আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি হয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য প্রায় সম্পূর্ণ নিরসন হয়েছে বলে দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। আলোচনায় থাকা একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত শুল্ক হার ও প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে একটি বাস্তবসম্মত এবং পরিপূর্ণ সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা এখন ‘প্রবল।’

বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ‘পাল্টা শুল্ক কমার বিষয়টি শুধু নিশ্চিতই নয়’, বরং এটি হবে ‘সন্তোষজনক মাত্রায়।’ আলোচনায় যুক্ত এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘যেখানে দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা শেষ হয়েছিল দ্বিধায়, সেখানে এই তৃতীয় ও চূড়ান্ত ধাপ একটি পরিষ্কার সংকেত দিচ্ছে—আমাদের অবস্থান মূল্যায়ন পেয়েছে।’

Manual8 Ad Code

এর আগে, প্রথম দিনের আলোচনায় বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ৩৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক কমানোর বিষয়ে ‘ইতিবাচক ইঙ্গিত’ পাওয়া গেছে। ফলে, সব মিলিয়ে আশা করা যাচ্ছে, বাংলাদেশের ওপর মার্কিন শুল্ক ভারতের তুলনায় কম হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে, ভারত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এখনো কোনো বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি। আর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির ওপর ন্যূনতম ২৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করে দিয়েছেন। পাশাপাশি, তাঁর দেশ ভারতের ৬টি কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছে।

Manual5 Ad Code

এই ঘোষণার আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ১ আগস্ট থেকে ভারতীয় পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক ও অতিরিক্ত জরিমানা আরোপ করা হবে। এর কারণ হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি ও ভারতের রাশিয়া থেকে তেল কেনার বিষয়টি উল্লেখ করেন। ট্রাম্প তাঁর পোস্টে আরও বলেন, তিনি বিশ্বের বহু দেশের নেতার সঙ্গে বাণিজ্য নিয়ে কথা বলেছেন। তাদের সবাই চান যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব খুশি’ হোক।

যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে ভারতের ওপর আরোপিত শুল্ক খুব একটা কমার সম্ভাবনা নেই বলেই মনে করে আর্থিক ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান নমুরা। প্রতিষ্ঠানটি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে বলছে, ‘সবচেয়ে ভালো ফল হলেও হয়তো শুল্ক ১৫ থেকে ২০ শতাংশে গিয়ে দাঁড়াবে।’ এর কারণ উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ভারত অনেক আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে আলোচনায় রয়েছে। কিন্তু এত আলোচনার পরও যেহেতু শুল্ক কমেনি, তাই নতুন করে আলোচনার মাধ্যমে ভারত সেই বাধা কাটিয়ে উঠতে খুব একটা সফল হবে—এমনটা মনে করে না নমুরা।

Manual2 Ad Code

অপরদিকে, ইরানের পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য বাণিজ্যের অভিযোগে ছয় ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব ভারতীয় কোম্পানি ইরানি তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য কেনাবেচায় ‘গুরুত্বপূর্ণ লেনদেনের’ সঙ্গে জড়িত। তারা ইচ্ছা করেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা পাওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আছে ভারতের প্রখ্যাত কিছু পেট্রোকেমিক্যাল ব্যবসায়ী। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে আলকেমিক্যাল সলিউশনস প্রাইভেট লিমিটেডের বিরুদ্ধে। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—গ্লোবাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল কেমিক্যালস লিমিটেড, জুপিটার ডাই কেম প্রাইভেট লিমিটেড, রমনিকলাল এস গোসালিয়া অ্যান্ড কোম্পানি, প্রেসিডেন্ট পেট্রোকেম প্রাইভেট লিমিটেড ও কাঞ্চন পলিমারস।

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪৫
৭৮৯১০১১১১৩
৪১৫১৬১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৯৩০  

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code