প্রধান উপদেষ্টার একবছরে ১১ দেশ সফর; অনন্য উচ্চতায় বাংলাদেশ
প্রধান উপদেষ্টার একবছরে ১১ দেশ সফর; অনন্য উচ্চতায় বাংলাদেশ
editor
প্রকাশিত আগস্ট ৯, ২০২৫, ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ
Manual6 Ad Code
প্রজন্ম ডেস্ক:
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস গত এক বছরে ১১টি দেশ সফর করেছেন। যদিও বেশিরভাগ সফরই ছিল বহুপক্ষীয় বৈঠকে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে, তবে অনেক ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও হয়েছে।
এছাড়া, এসব সফরে বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্র, আজারবাইজান, মিশর, সুইজারল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, কাতার, থাইল্যান্ড, ভ্যাটিকান সিটি, জাপান এবং যুক্তরাজ্য সফর করেন। এসব সফরের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার হয়েছে। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি নতুন চুক্তি ও সমঝোতা সই হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র:
২০২৪ সালের ২৩-২৮ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনে যোগদানের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের প্রথম বিদেশ সফর শুরু হয়। তবে প্রথম সফরেই তিনি চমক দেখাতে সক্ষম হন। বিগত সরকারের আমলে প্রতি বছর জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগদানকালে সরকার প্রধানের সঙ্গে থাকতো বিশাল সফরসঙ্গীর বহর।
জাতিসংঘের ৭৩তম এবং ৭৪তম অধিবেশনে ৩৪৪ জন ও ৩৩৫ জন ছিল সংখ্যা। এরপর করোনার জন্য ৭৫তম অধিবেশন হয়েছে ভার্চ্যুয়ালি। কোভিডের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ৭৬তম অধিবেশনে ১০৮ জন, ৭৭তম অধিবেশনে ১৩৮ জন এবং কোভিড পরবর্তী যখন ব্যয় সংকোচন বলা হচ্ছিল তখনও ৭৮তম অধিবেশনে ১৪৬ জন গেছেন। তবে প্রধান উপদেষ্টার বহরে সফরসঙ্গীর সংখ্যা ছিল মাত্র ৫৭ জন। সফরসঙ্গী কমিয়ে একটি চমক দেখান প্রধান উপদেষ্টা।
প্রধান উপদেষ্টা জাতিসংঘের সাধারণ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি সেই সময়ের মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সঙ্গে বৈঠক করেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এছাড়া ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট, বিশ্ব ব্যাংকের প্রধান এবং এডিবির শীর্ষকর্তার সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি।
Manual8 Ad Code
আজারবাইজান:
Manual5 Ad Code
আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে গত বছর ১১-২২ নভেম্বর জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনে অংশ নেন প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। জলবায়ু সম্মেলনের ফাঁকে প্রধান উপদেষ্টা বেশ কয়েকজন বিশ্বনেতার সঙ্গে বৈঠক করেন। বিশেষ করে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক ছিল উল্লেখযোগ্য।
Manual3 Ad Code
মিশর:
মিশরের কায়রোতে গত বছর ১৮-২০ ডিসেম্বর ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেন ড. ইউনূস। ডি-৮ সম্মেলনের ফাঁকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন তিনি। কায়রোতে প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) মহাসচিব হুসেইন আল শেখ প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এছাড়া প্রধান উপদেষ্টা আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তব্য দেন।
সুইজারল্যান্ড:
সুইজারল্যান্ডের ডাভোস চলতি বছর ২১-২৫ জানুয়ারি বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের ফাঁকে তিনি বিশ্বের বেশ কয়েকজন সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাত:
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে ১৩-১৪ ফেব্রুয়ারি ওয়ার্ল্ড গভর্নমেন্ট সামিটে যোগ দেন। সামিটের ফাঁকে ড. ইউনূস সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী আব্দুর রহমান বিন মোহাম্মদ আল ওয়াইস, বাণিজ্যমন্ত্রী থানি বিন আহমেদ আল জেওয়াদিসহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর থেকে ভিসা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আরও বাংলাদেশি কর্মী নিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
চীন:
Manual8 Ad Code
চলতি বছর ২৬-৩০ মার্চ চীনের হাইনান প্রদেশ এবং রাজধানী বেইজিং সফর করেন প্রধান উপদেষ্টা। এ সময় তিনি হাইনানে বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়া সম্মেলনে যোগ দেন। পরে বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন ড. ইউনূস। প্রধান উপদেষ্টার চীন সফরে সেদেশের সরকার ও চীনা কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে ২১০ কোটি মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ, ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি পায় বাংলাদেশ। এর মধ্যে দেশটির প্রায় ৩০টি কোম্পানি বাংলাদেশের বিশেষ চীনা শিল্প অর্থনৈতিক অঞ্চলে এক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের অঙ্গীকার করে। এছাড়া এই সফরে বাংলাদেশের বিদ্যমান শুল্ক ও কোটামুক্ত রপ্তানি সুবিধা আরও দুই বছর বহাল রাখার ঘোষণা দেয় চীন।
থাইল্যান্ড:
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস চলতি বছর ৩- ৪ এপ্রিল বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেন। এসময় তিনি বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। এর মধ্যে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পাইতংতার্ন সিনাওয়াত্রা, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহীম ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক নিয়ে প্রথম দিকে অনিশ্চয়তা থাকলেও শেষ পর্যন্ত বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
কাতার:
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস চলতি বছর ২১- ২৫ এপ্রিল কাতারের রাজধানী দোহায় আর্থনা সম্মেলনে যোগ দেন। সম্মেলনের ফাঁকে ড. মুহাম্মদ ইউনূস কাতারের আমিরের মা এবং কাতার ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন শেখ মোজা বিনতে নাসেরের সঙ্গে বৈঠক করেন। এছাড়া প্রধান উপদেষ্টা কাতার ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্টের চেয়ারপার্সন শেখ থানি বিন হামাদ বিন খলিফা আল-থানির সঙ্গেও এক বৈঠকে যোগ দেন।
ভ্যাটিকান সিটি:
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস চলতি বছর ২৬ এপ্রিল কাতার থেকেই ভ্যাটিকান সিটিতে পোপ ফ্রান্সিসের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দেন। পোপ ফ্রান্সিসের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শেষে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ক্যাথলিক চার্চের শীর্ষস্থানীয় দুই নেতা কার্ডিনাল সিলভানো মারিয়া তোমাসি এবং কার্ডিনাল জ্যাকব কুভাকাড।
জাপান:
জাপানের টোকিওতে চলতি বছর ২৮ মে থেকে ১ জুন ৩০তম নিক্কেই ফোরাম ফিউচার অফ এশিয়া সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনে যোগ দেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পর ৩০ মে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন তিনি।
বৈঠকে উভয় নেতা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি নিয়ে আলোচনা করেন এবং জাতিসংঘ সনদের মূলনীতি মেনে চলার মাধ্যমে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সহযোগিতা জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দেন। উভয়পক্ষ নিয়মভিত্তিক বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার এবং গণতন্ত্রের প্রতি তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়।
যুক্তরাজ্য:
১০-১৩ জুন লন্ডন সফরে গিয়ে রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে বাকিংহাম প্যালেসে একান্ত বৈঠক করেন ড. ইউনূস। এছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গেও একান্ত বৈঠক হয় তার। তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়নি। লন্ডনে তিনি পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরতের বিষয়ে সহযোগিতা চান।
প্রধান উপদেষ্টার এসব সফর অত্যন্ত সফল ও ফলপ্রসূ ছিল বলে মন্তব্য করেছেন তার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, এই সফরগুলোর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।