প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১০ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

বাংলাদেশের সমরশক্তির উন্নতি চায়না ভারত

editor
প্রকাশিত জানুয়ারি ১০, ২০২৬, ০৯:০৯ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশের সমরশক্তির উন্নতি চায়না ভারত

Manual2 Ad Code

 

প্রজন্ম ডেস্ক:

ভারতের বর্তমান চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) অনিল চৌহান হচ্ছেন চার তারকার সেনা জেনারেল। তিনি ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর এ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সেই জেনারেল চৌহান অতি সম্প্রতি এ কথা নিশ্চিত করেছেন যে, ভারত বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে, বিশেষ করে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীকে, পঙ্গু করে রাখতে চায়। ভারত চায় না যে, বাংলাদেশ প্রাচ্য বা পাশ্চাত্য থেকে কোনো যুদ্ধবিমান কিনুক।

প্রতিরক্ষাবিষয়ক মার্কিন পোর্টাল গ্লোবাল ডিফেন্স কর্পের (জিডিসি) বিশ্লেষণ অনুযায়ী বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীকে পঙ্গু করে রাখার বিষয়ে ভারতের বর্তমান সরকারি অভিপ্রায়ের সবচেয়ে স্পষ্ট প্রমাণ এটি।

Manual8 Ad Code

ইদানীংকালের বিভিন্ন প্রতিবেদনে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, কূটনৈতিক সম্পর্ক টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে গেলেও ভারতের সামরিক অবস্থান মূলত আক্রমণাত্মক, যার লক্ষ্য নিজের সীমান্ত ও গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অঞ্চলÑ যেমন, শিলিগুড়ি করিডর এবং সেভেন সিস্টার রাজ্যগুলো নিরাপদ রাখা। নিরাপত্তার নামে আক্রমণাত্মক অবস্থানের অংশ হিসেবে ভারত দীর্ঘদিন ধরে তাদের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ (RAW)-এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছে এবং বাংলাদেশের সেনাবাহিনী ধ্বংস করার প্রচেষ্টা চালিয়েছে।

 

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতার পুরনো একটি আনুষ্ঠানিক কাঠামো রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে যৌথ সামরিক মহড়া, প্রশিক্ষণ এবং বাংলাদেশকে মানহীন ভারতীয় সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ। সহযোগিতার ওই কাঠামো বাংলাদেশে ভারতীয় প্রধান মিত্র শেখ হাসিনার শাসনকালে গড়া। শেখ হাসিনার রেজিম ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সহায়তায় হাজার হাজার বাংলাদেশিকে হত্যা ও নির্যাতন করার পর, কূটনৈতিক সম্পর্ক বর্তমানে চরম নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে ভারতের প্রধান মিত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ এবং নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

উত্তেজনা বাড়ার পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্য ও সমর্থকরা, পাশাপাশি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের কিছু অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা ভারতবিরোধী বক্তব্য সমর্থন করছেন। এর মধ্যে রয়েছে পাকিস্তান-বাংলাদেশ সামরিক জোট গঠনের প্রস্তাব, যার উদ্দেশ্য হবে ভারতের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশকে রক্ষা করা।

ভারত সংবেদনশীল শিলিগুড়ি করিডর (যা ‘চিকেনস নেক’ নামেও পরিচিত) সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় সেনা উপস্থিতি বাড়িয়েছে এবং সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছে। এই করিডরটি ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোর সংযোগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি সম্ভাব্য বহিরাগত হস্তক্ষেপের আশঙ্কা থেকে নেওয়া একটি কৌশলগত প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ।

Manual1 Ad Code

বাংলাদেশের সেনাবাহিনী ও সরকারের ভেতরে এমন কিছু পক্ষ রয়েছে, যারা দেশের কৌশলগত অবস্থান ভারত থেকে দূরে সরিয়ে নিতে চান। তবে পরিস্থিতির অবনতি সত্ত্বেও ভারতীয় কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকদের অনেকেই সাধারণত কৌশলগত সংযমের পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মতে, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান মূলত এমন একটি ফাঁদ, যার মাধ্যমে বাইরের শক্তিগুলো ভারতের ওপর দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত চাপিয়ে দিতে চায়।

Manual8 Ad Code

সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত সরকার বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদকে ‘অপেক্ষা করে পার হয়ে যেতে’ চায় এবং ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে আগ্রহী।

এদিকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক যোগাযোগ সাম্প্রতিককালে বেড়েছে। দুই দেশের মধ্যে প্রতিনিধিদল বিনিময়ের সংখ্যাও বেড়েছে। বাংলাদেশের শীর্ষ পর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান কিছুদিন আগেই পাকিস্তানের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেছেন তারা।

Manual5 Ad Code

বাংলাদেশ নৌবাহিনীও কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবার পাকিস্তানে আয়োজিত বহুজাতিক নৌ-মহড়া ‘আমান-২০২৫’-এ অংশগ্রহণ করেছে। দুই দেশের মধ্যে একটি সম্ভাব্য দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা চুক্তি, সামরিক চুক্তি এবং কৌশলগত সমন্বয় নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন যদি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ে, তাহলেও পাকিস্তানের সম্পৃক্ততা প্রায় নিশ্চিতভাবেই পরোক্ষ থাকবে এবং কূটনৈতিক অবস্থান গ্রহণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

সাম্প্রতিক এসব ক্রিয়াকলাপের অর্থ হলো, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে হোয়াইট হাউস ও পশ্চিমাবিশ্বে ভারতের দুর্বল অবস্থানের সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশ লাভবান হবে।

এদিকে, চীনের পক্ষ থেকে শিলিগুড়ি করিডরের কাছাকাছি অবস্থিত লালমনিরহাট বিমানঘাঁটি উন্নত করার বিষয়টি ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। বাংলাদেশে যেকোনো ধরনের নিরাপত্তা বিঘ্ন বা সামরিক উন্নয়ন ভারতের অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং চীনের সঙ্গে সংবেদনশীল সীমান্ত অঞ্চলে ভারতের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

বাংলাদেশ যতদিন সামরিকভাবে দুর্বল থাকবে, ততদিন ভারত চীনের সীমান্তে বেশি মনোযোগ দিতে পারবে। তবে উত্তেজনা তীব্র হলেও ভারতের পদক্ষেপগুলোকে এখন পর্যন্ত প্রতিরক্ষামূলক এবং নিজস্ব নিরাপত্তা-স্বার্থ রক্ষার অংশ হিসেবেই বর্ণনা করা হয়েছে বিভিন্ন রিপোর্টে। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক যুদ্ধ শুরু করার বা পুরো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ‘পঙ্গু’ করে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনার কথা কোনো রিপোর্টে বলা হয়নি।

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০  

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code