আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঘুরেফিরে প্রধান দুই দলের নেতৃত্বাধীন জোটের দিকেই আবর্তিত হচ্ছে জনসমর্থন। জোটের ভোটে এ নিয়ে বেশ চাপেও আছে তারা। দলীয় শৃঙ্খলা ভেঙে মাঠে নামা বিদ্রোহী প্রার্থীরা ঘাম ঝরাচ্ছেন বিএনপির।
রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামে থাকা শরিক দলগুলোকে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫টি আসনে ছাড় দিয়েছে বিএনপি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে ধর্মভিত্তিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। তাদের একাংশকে চারটি ও অন্য অংশকে একটি আসন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ১৫টি আসনের মধ্যে নয়জন নিজ দলীয় প্রতীকে এবং ছয়জন ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করছেন। কিন্তু ১২টি আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় অস্বস্তিতে পড়েছে বিএনপি এবং তাদের মনোনীত জোটের প্রার্থীরা। কারও কারও জন্য জয় পাওয়া অনেকটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভোটের সমীকরণে আবার এসব বিদ্রোহী প্রার্থীর কয়েকজনের অবস্থান বেশ শক্ত। সারা দেশে ৭৯টি আসনে জোট এবং দলীয় প্রার্থীদের বিরুদ্ধে বিএনপির ৯২ জন নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে অন্তত ৩০ জন ‘শক্তিশালী’ বিদ্রোহী হিসেবে চিহ্নিত। এসব বিদ্রোহী প্রার্থী এখন দলীয় ও মিত্র প্রার্থীদের ফেলছেন শঙ্কায়।
এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটে সারা দেশে সব মিলিয়ে চারজন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। শুরুতে ১১টি আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলেও প্রার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে জোটের স্বার্থে। অবশ্য জোটের আসনে জামায়াত নেতাকর্মীদের সক্রিয় হওয়া নিয়ে এখনো কিছু দোটানা রয়েছে বলে আভাস দিচ্ছে মাঠের চিত্র। যদিও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কক্সবাজার-২ আসনে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, ‘শুরুতে সমস্যা থাকলেও এখন তা কমে এসেছে। নির্বাচনের আগে বাকি চারটি আসনের সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে আশা করছি।’
জোট শরিকদের ছেড়ে দেওয়া আসনে নিয়ে সৃষ্ট সংকট নিরসনে শুধুতেই বিএনপি হাইকমান্ড থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়। সমঝোতার চেষ্টা করা হয়। এতে কয়েকটি আসনে দলের নেতাকর্মীরা এক হয়ে কাজ শুরু করেন। কয়েকটিতে সাড়া মেলায় দেওয়া হয় কঠোর হুঁশিয়ারিও। তাতেও অনড় বিদ্রোহীরা। যে কারণে সব পদসহ বিএনপির প্রাথমিক সদস্য থেকেও বহিষ্কার করা হয় তাদের।
Manual3 Ad Code
এসব বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দল গঠিত নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘জোটের শরিকদের পাশাপাশি বিএনপির প্রার্থীদের বিরুদ্ধে খোদ দলের কিছু নেতা প্রার্থী হয়েছেন। ইতিমধ্যে কাউকে কাউকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বাকিদের নানাভাবে বোঝানোর চেষ্টা চলছে। নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত এ কাজ চলতে থাকবে। আশা করছি দলকে ভালোবেসে ভবিষ্যতের রাজনীতি করার ইচ্ছা থাকলে তারা দলের সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন। এ ছাড়া প্রার্থীদের পক্ষে কাজ না করলে বিদ্রোহী প্রার্থীদের সমর্থক নেতাদেরও বহিষ্কার করা হচ্ছে। বৃহত্তর স্বার্থে বিদ্রোহী প্রার্থীরা ছাড় দেবেন বলে আশা করছি।’
সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ উবায়দুল্লাহ ফারুক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে সিনিয়র সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে যুগ্ম মহাসচিব মনির হোসেন কাসেমী, যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মুফতি রশীদ বিন ওয়াক্কাস ও নীলফামারী-১ (ডিমলা-ডোমার) আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব (একাংশ) মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, ঢাকা-১২ আসনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, ভোলা-১ আসনে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ জোটের শরিক হয়ে নিজ দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করছেন।
শাহাদাত হোসেন সেলিম ‘বাংলাদেশ এলডিপি’ বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়ে লক্ষ্মীপুর-১ আসনে, সৈয়দ এহসানুল হুদা ‘বাংলাদেশ জাতীয় দল’ বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়ে কিশোরগঞ্জ-৫, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ ঢাকা-১৩, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ নড়াইল-২, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিয়ে রেদোয়ান আহমেদ কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা), গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান নিজ দল থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ঝিনাইদহ-৪ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে মোহাম্মদ জুনায়েদ আল হাবীব বিএনপি জোটে প্রার্থী হিসেবে খেজুর গাছ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। কিন্তু এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হাঁস প্রতীকে নির্বাচন করছেন বিএনপির আলোচিত নেত্রী রুমিন ফারহানা। তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তাকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে তিনি এ আসনে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমি এতদিন দলে ছিলাম। দলের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করেছি। কিন্তু বিএনপি আমাকে বহিষ্কার করেছে। এখন সমঝোতার আর কিছু নেই। ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী।’
শুধু এই একটি আসনে নয়; ঝিনাইদহ-৪, ঢাকা-১২, পটুয়াখালী-৩ আসনেও বিদ্রোহীদের শক্ত অবস্থানে অস্বস্তিতে শরিক দলের প্রার্থী। ঝিনাইদাহ-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রাশেদ খান হলেও শক্ত অবস্থানে রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সাইফুল ইসলাম (ফিরোজ)। তিনি স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন।
রাশেদ খান বলেন, ‘একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী দাঁড়িয়েছেন। তার সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক, আমরা একই বিশ্ববিদ্যালয়ের। তিনি যেহেতু মনোনয়ন পাননি, তাই স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা সংক্ষুব্ধ। আমি আশাবাদী, তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা হলে এই সংকটের সমাধান হয়ে যাবে।’ তবে সাইফুল ইসলাম (ফিরোজ) দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রার্থী হওয়ায় দল আমাকে বহিষ্কার করেছে। এখন আমি মুক্ত। তাই মাঠ ছেড়ে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’
একই সমস্যায় পড়েছেন ঢাকা-১২ আসনের জোটপ্রার্থী ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি নিজের দলীয় প্রতীক ‘কোদাল’ নিয়ে লড়ছেন। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন সাইফুল আলম (নীরব)। তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক। এ আসনে তার শক্ত অবস্থান রয়েছে।
Manual5 Ad Code
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাইফুল হক বলেন, ‘শরিক দলের যেখানে সমঝোতা হয়েছে, সেখানেও এমন অবস্থা! আবার বিএনপি যেখানে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করছে, সেখানেও কিছু বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন। ফলে এটি বিএনপির জন্য এখনো কিছুটা গলার কাঁটা হয়ে আছে। আমার মনে হয় অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ সংকটের সমাধান হবে।’
পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী নুরুল হক নুর। তার শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ভোটে আছেন বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন। তিনি একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যসহ বিএনপির প্রাথমিক সদস্য থেকেও তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে ভোটারদের ধারণা, এ আসনে হাসান মামুনের জয় পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
নুরুল হক নুর বলেন, ‘বহিষ্কার না করে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে যদি তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করানো যায়, সেই আহ্বান জানিয়েছি। যারা দাঁড়িয়েছেন, দলে তাদের ত্যাগ আছে এবং তারা মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। তাদের একটা আবেগ আছে।’
Manual8 Ad Code
সিলেট-৫ (কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ) আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুককে জোটের একক প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। তবে তিনি নির্বাচন করছেন দলীয় প্রতীক খেজুর গাছ নিয়ে। কওমি মাদ্রাসা অধ্যুষিত এ আসনটিতে দলটির উল্লেখযোগ্য ভোটব্যাংকও আছে। অতীতে সেখান থেকে দলটির প্রার্থী বিজয়ী হওয়ারও রেকর্ড আছে। তবে এবার জোটের প্রার্থী হয়েও তিনি স্বস্তিতে নেই। একাংশের সমর্থন পেলেও এখনো মাঠে রয়েছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী (বহিষ্কৃত) মামুনুর রশিদ (চাকসু) মামুন।
নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের নেতা মুফতি মনির হোসেন কাসেমী। অবশ্য তিনি দলটির একটি অংশের সমর্থন পেয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তবে তার গলার কাঁটা হিসেবে মাঠে রয়ে গেছেন বিএনপির দুই নেতা শাহ আলম ও গিয়াস উদ্দিন।
যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনে প্রথমে বিএনপির পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয় দলের উপজেলা সভাপতি শহীদ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেনকে। পরে জোটের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের একাংশের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মুফতি রশীদ বিন ওয়াক্কাসকে মনোনয়ন দেয় বিএনপি। এতে বিএনপির নেতাকর্মীরা উপজেলা সদরে ব্যাপক বিক্ষোভ করেন। সেখানে স্বতন্ত্র হয়ে নির্বাচনে রয়েছেন ইকবাল। তবে এ আসনটিতে এসব নানা কারণে জামায়াতের অবস্থান শক্ত হয়েছে বলে মনে করছেন ভোটাররা।
ভোলা-১ আসনে আন্দালিব রহমান পার্থ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে জোনায়েদ সাকি, নীলফামারী-১ (ডোমার ও ডিমলা) আসনে মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দি, নড়াইল-২ (লোহাগড়া) আসনে ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, ঢাকা-১৩ (মোহাম্মদপুর-আদাবর) আসনে ববি হাজ্জাজ প্রচারণায় বিএনপির নেতাকর্মীদের সহযোগিতা পাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
ভোলা-১ আসনে আন্দালিব রহমান পার্থকে সমর্থন দিয়ে তার পক্ষে কাজ করার ঘোষণা দিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর। তিনি মূলত বিএনপির প্রার্থীই ছিলেন। আন্দালিব রহমানের ঢাকা-১৭ আসনে নির্বাচন করার কথা। সেখানে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচন করার কারণে পার্থকে ভোলা-১ আসনে দেওয়া হয়। ভোলার স্থানীয় বিএনপি তাকে সহজে মেনে নিয়েছে। তার জয় পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে জোনায়েদ সাকিকে প্রথমে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ঝাড়– মিছিল পর্যন্ত হয়। পরে বিএনপির হাইকমান্ডের নির্দেশে প্রার্থিতা থেকে সরে গেছেন সাবেক এমপি আবদুল খালেক। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে প্রার্থী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘অন্য প্রার্থীদের বিষয় আমি জানি না। তবে আমার আসনে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনসহ জোটের অন্য নেতাকর্মীদের সহযোগিতা পাচ্ছি।’
জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটে বিদ্রোহী ৪ জন : জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটে সারা দেশে চারজন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়ে গেছেন। জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা বিদ্রোহী প্রার্থীদের সমস্যা মেটানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। শুরুতে ১১ আসনে সমস্যা থাকলেও এখন কমে তা ৪-এ নেমে এসেছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক ও নরসিংদী-২ আসনের ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী গোলাম সারোয়ার ওরফে সারোয়ার তুষারের আসনে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আমজাদ হোসাইন। নেতাকর্মীদের অসহযোগিতার ইঙ্গিত দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন এনসিপির এ নেতা। গত মঙ্গলবার গাজীপুরে ১১-দলীয় সমাবেশে সারোয়ার তুষারের হাতে শাপলা কলি প্রতীক তুলে দেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় ওই এলাকার মানুষদের শাপলা কলি প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
চট্টগ্রাম-১৪-তে এলডিপির ওমর ফারুক ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী। এ আসনে শুরুতে জামায়াতের প্রার্থী সরে গেলেও গত শুক্রবার তাকে প্রচারে দেখা গেছে। চট্টগ্রাম-৮ আসনে এনসিপির প্রার্থী জুবাইরুল হাসান আরিফ প্রচারণায় থাকলেও স্থানীয় পর্যায়ে জামায়াতের প্রার্থীর ব্যানার-ফেস্টুন দেখা গেছে। এখানে জামায়াতের প্রার্থী ডা. আবু নাসের। নিজে প্রচারে না নামলেও নেতাকর্মীরা তার পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন। এদিকে সুনামগঞ্জ-১ আসনে জামায়াতের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন তোফায়েল আহমেদ খান। বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ আসনে জোটের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে নেজামে ইসলামী পার্টির মোজাম্মেল হক তালুকদারকে।
জামায়াত নেতারা জানিয়েছেন, যেসব আসনে সমস্যা রয়েছে সেগুলোতে জামায়াত আমিরের সফর চাচ্ছেন জোট নেতারা।
নির্বাচন কমিশনের আরপিওর বিধান অনুযায়ী, এবার জোট করলেও অন্য দলের প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ নেই। আর শরিক দলগুলোর প্রতীকগুলোও ততটা পরিচিত নয়। তাই কৌশল হিসেবে কেউ কেউ নিজ দল বিলুপ্ত বা সেখান থেকে পদত্যাগ করে সরাসরি বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন নিয়েছেন। আবার কেউ কেউ বিএনপির একক সমর্থন পেলেও নির্বাচন করছেন নিজ দলের প্রতীকে। জামায়াত জোটের শরিকরা সবাই নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নিয়ে লড়ছেন।