বিয়ানীবাজারে ১০ কোটি টাকা নিয়ে উধাও আদম ব্যবসায়ী দুই ভাই, বাড়ি ঘেরাও
বিয়ানীবাজারে ১০ কোটি টাকা নিয়ে উধাও আদম ব্যবসায়ী দুই ভাই, বাড়ি ঘেরাও
editor
প্রকাশিত এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ০৯:৪৮ পূর্বাহ্ণ
Manual5 Ad Code
উধাও আদম ব্যবসায়ী দেলোওয়ার হোসেন-ফাইল ছবি/
স্টাফ রিপোর্টার:
বিয়ানীবাজার থেকে ইটালী যেতে ইচ্ছুক শতাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ১০কোটি হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়েছেন আপন দুই ভাই। তাদের একজন কাওছার হোসেন ইটালীতে বসবাস করেন। অপরজন দেলোওয়ার হোসেন দেশে অবস্থান করে এই টাকা গ্রহণ করেছেন। তারা উপজেলার জলঢুপ পাড়িয়াবহর এলাকার সফাত আলীর ছেলে। এদিকে টাকা ফেরত চেয়ে শুক্রবার ভ‚ক্তভোগীরা আদম ব্যবসায়ীদের বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে মধ্যরাতে থানা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
ভূক্তভোগীরা জানান, আদম ব্যবসায়ী কাওছার হোসেন ইটালীতে বসবাস করেন। সে সুযোগ নিয়ে তিনি প্রথমদিকে ১০-১২জন লোককে কৃষি ভিসায় ইটালী নিয়ে যান। এমন খবর সর্বত্র জানাজানি হলে ইউরোপগামী মানুষের লাইন পড়ে কাওছারের বাড়িতে। একপর্যায়ে জনপ্রতি ১৪-১৫ লক্ষ টাকা নির্ধারণ করে ইটালী যেতে রাজি হন স্থানীয়রা। এদের মধ্যে কেউ নির্ধারিত টাকার পুরোটা আবার কেউ আংশিক কাওছারের দেশে থাকা ভাই দেলোওয়ার হোসেনের কাছে তুলে দেন। যার পরিমাণ ১০ কোটি টাকার উপরে হবে বলে জানান ভ‚ক্তভোগীরা। অপরদিকে প্রায় ৪-৫ বছর ধরে ইটালী যেতে না পারা লোকজন টাকার জন্য চাপ দেন দেলোওয়ার-কাওছারকে। উপায় না পেয়ে কাওছার ইটালী থেকে অন্যত্র গিয়ে আত্মগোপন করেন। আর দেলোওয়ার হয়ে যান লাপাত্তা।
Manual4 Ad Code
তবে ভ‚ক্তভোগীরা জড়ো হয়ে শুক্রবার বিকেল থেকে ওই আদম ব্যবসায়ীদের বাড়ি ঘেরাও করে টাকার জন্য চাপ দেন। কিন্তু তারা কোন সদুত্তর না পেয়ে ক্রমেই ক্ষুব্দ হতে থাকেন। পরে পরিস্থিতির অবনতি হলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় মধ্যরাতে পুলিশ গিয়ে ভ‚ূক্তভোগীদের শান্ত করে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত লাউতা ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন জানান, আগামী সোমবার দুপুরে ইউএনও কার্যালয়ে আদম ব্যবসায়ীদের পিতা এবং ভ‚ক্তভোগীরা সমঝোতা বৈঠকে বসবেন। সেখান থেকে পাওনা টাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে।
Manual7 Ad Code
দেলোওয়ার-কাওছারের পিতা সফাত আলী জানান, ইটালী দূতাবাস বাংলাদেশীদের জন্য ভিসা প্রদান বন্ধ করে দেয়ায় আমার ছেলেরা বিপাকে পড়েছে। তারা ইটালীর নিয়োগ কর্তৃপক্ষকে মোটা অংকের টাকা অগ্রীম প্রদান করায় সমস্যা আরো প্রকট হয়েছে।
Manual3 Ad Code
বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ মো: ওমর ফারুক বলেন, পাওনা টাকার জন্য ক্ষুব্দ লোকদের শান্ত করে সমঝোতা বৈঠকের জন্য রাজি করানো হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।