প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৩ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ছয় পণ্যের দাম বেড়েছে সোয়া ১১ শতাংশ

editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬, ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ছয় পণ্যের দাম বেড়েছে সোয়া ১১ শতাংশ

Manual4 Ad Code

 

প্রজন্ম ডেস্ক:

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ৬ পণ্যের দাম গড়ে সোয়া ১১ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে মোটা চাল ৭.২৮ শতাংশ, সরু চাল ১১.৬২ শতাংশ, আটা ৯.৫৮ শতাংশ, সয়াবিন তেল ১৬.৬৭ শতাংশ, পাম অয়েলে ১৭.৯৯ শতাংশ ও মসুর ডালে ৪.৩৪ শতাংশ দাম বেড়েছে। নতুন সরকার রমজানে ভোগ্যপণ্যের বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী উদ্যোগ নেবে– এমনটাই চাওয়া সাধারণ মানুষের।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নিত্যপণ্যের দাম

Manual1 Ad Code

২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, ওই বছরের ১০ আগস্ট খুচরা বাজারে এক কেজি মোটা চাল ৪৮ থেকে ৫২ টাকায় বিক্রি হয়। পাশাপাশি প্রতিকেজি সরু চাল ৬০ থেকে ৭৮, প্রতিকেজি আটা ৪০ থেকে ৪৫, প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ১৪৫ থেকে ১৫৫ ও পাম অয়েল ১২৫ থেকে ১৩৫ এবং প্রতিকেজি মসুর ডাল ১১৫ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়।

সংস্থাটির তথ্যমতে, এই সরকারের শেষ সময়ে (গত ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) এসব পণ্যের দাম ২ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। খুচরা বাজারে মোটা চালের কেজি দাম মানভেদে ২-৮ টাকা বেড়ে ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হয়। সরু চাল মানভেদে কেজিতে ৮-১০ টাকা বেড়ে ৭০-৮৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আটার দাম ৪ থেকে ৫ টাকা বেড়ে মানভেদে ৪৪-৫০ টাকায় বিক্রি হয়। অপরদিকে মসুর ডাল কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে মানভেদে ১১০-১২০ টাকায় বিক্রি হয়। এ ছাড়া লিটারে ৩০ টাকা বেড়ে সয়াবিন তেল ১৭৫-১৮৫ টাকা ও পাম অয়েল ২৭-৩০ টাকা বেড়ে ১৫৫-১৬২ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

Manual5 Ad Code

নগরের পূর্ব নাসিরাবাদ এলাকার বাসিন্দা মো. সালামত উল্লাহ বলেন, রমজান আসলেই প্রতিবছর ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়। এই এক মাসে ব্যবসায়ীরা সারা বছরের মুনাফা করতে চান। এবারও তার ব্যতিক্রম দেখছি না। বাজারে কোনো তদারকি নেই। তাই যে যেভাবে পারছে দাম বাড়িয়ে পণ্য বিক্রির চেষ্টা করছে। আমরা আশা করি, নতুন সরকার এই বিষয়ে জোর দিবে, যাতে সাধারণ মানুষ রমজানে কষ্ট না পান।

অপরদিকে, গত ১৪ ফেব্রুয়ারির টিসিবির তথ্যে দেখা যায়, অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে এসে কমতে শুরু করে ছোলা, চিনি, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, হলুদ, শুকনা মরিচ ও আদার দাম। এসব পণ্যের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। কেজিতে ২৫-৩০ টাকা কমে ছোলা ৮০-৯৫ টাকা ও চিনি ১০০-১০৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কেজিতে ৩৬ থেকে ৪০ টাকা কমে আলু মানভেদে ২০ থেকে ২৫ টাকা, দেশি ও ভারতীয় পেঁয়াজের কেজিতে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কমে ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। রসুন কেজিতে ৩০ টাকা কমে ২০০, হলুদ কেজিতে ২০ টাকা কমে ২৮০, শুকনা মরিচ কেজিতে ১০০ টাকা কমে ৪০০ ও আদা কেজিতে ৬০ টাকা কমে ১৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

চট্টগ্রামের হামিদুল্লাহ মিয়া মার্কেট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিস বলেন, বর্তমানে আদা, রসুন ও পেঁয়াজের সরবরাহ ভালোই রয়েছে। পাশাপাশি এসব পণ্যের দামও কম রয়েছে। আশা করছি, রমজান মাসে এসব পণ্যের দাম খুব একটা বাড়বে না।

Manual3 Ad Code

ভোগ্যপণ্যের বর্তমান হালচাল

চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে টিসিবির দেওয়া তথ্যের চেয়ে আরও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে ছোলা ও মসুর ডাল। বর্তমানে খুচরায় প্রতি কেজি ছোলা ৯০ থেকে ১০০ টাকা ও মসুর ডাল ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

শুল্ক কমানোর প্রভাব পড়েনি খেজুরে

গত বছরের ডিসেম্বরে খেজুর আমদানিতে শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়। এরপরও খুচরা বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে ৮ ধরনের খেজুরের কেজিতে ৫০-১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে প্রতি কেজি বস্তা খেজুর ২২০ টাকা, জাহিদি খেজুর ২৮০ টাকা, দাবাস ৫৭০ টাকা, কালমি ৭০০ টাকা, সুক্কারি ৮০০ টাকা, মাবরুম ৮৫০ টাকা, মরিয়ম ১ হাজার ১০০-১ হাজার ৪০০ টাকা ও মেডজুল ১ হাজার ২০০-১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, শুল্ক কমার আশায় আমদানিকারকরা অনেক দিন খেজুর আমদানি করেননি। ফলে চাহিদা অনুযায়ী পণ্যটির আমদানি সম্ভব হয়নি। তাই দাম একটু বাড়তি।

ব্যবসায়ীরা যা বলছেন

পাহাড়তলী বণিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. নিজাম উদ্দীন বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে কিছু অসাধু মিলার, কর্পোরেট গ্রুপের হাতে জিম্মি ছিল চালের বাজার। তারা চালের বাজার তাদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল। এ কারণে চালের দাম বেড়ে যায়। তবে চালের দাম বাড়তে থাকলে ওই সরকার চাল আমদানি অনুমতি দিয়ে দেয়। এখন ক্রমান্বয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটির দাম কমতে শুরু করেছে। তবে সামনে নতুন চাল বাজারে আসবে। তখন দাম আরও কমে যাবে। তবে নতুন সরকারের উচিত হবে, দেশের সব ব্যবসায়ীকে ফুড গ্রেইন লাইসেন্সের আওতায় নিয়ে আসা। তাহলে ব্যবসায়ীরা অন্যায়ভাবে পণ্য মজুতের সুযোগ পাবে না।

Manual8 Ad Code

চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, ‘এবার রমজানকে কেন্দ্র করে ভোগ্যপণ্যের আমদানি ভালোই রয়েছে। তবে চট্টগ্রাম বন্দরে ধর্মঘটের কারণে আমরা অনেক শঙ্কিত ছিলাম। কারণ রমজানকেন্দ্রিক অনেক ভোগ্যপণ্য বন্দরে আটকা ছিল। বর্তমানে ধর্মঘট নেই। বন্দরে স্বাভাবিক অপারেশনাল কার্যক্রম চলছে, পণ্যের ডেলিভারিও স্বাভাবিক রয়েছে। তাই পণ্যের সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই।’ আশা করছি, রমজানে সাধারণ মানুষ ন্যায্য দামে পণ্য কিনতে পারবেন।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, রমজান তো চলেই এল। কিন্তু প্রশাসনের উচিত বাজার তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করা, অসাধু ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা। প্রশাসন যদি নীরব থাকে তাহলে অসাধু ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়ানোর সুযোগ পায়। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কখনোই দূর হবে না।

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code