প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৯ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

ঢাকার প্রবেশদ্বারে ভোগান্তি: ঈদযাত্রায় বাড়ছে শঙ্কা

editor
প্রকাশিত মার্চ ৭, ২০২৬, ০৩:৫৮ অপরাহ্ণ
ঢাকার প্রবেশদ্বারে ভোগান্তি: ঈদযাত্রায় বাড়ছে শঙ্কা

Manual4 Ad Code

 

প্রজন্ম ডেস্ক:

গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে টেকনিক্যাল মোড় রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এলাকা। জাতীয় মহাসড়কের অংশ এই রুটটি দেশের উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোর যাত্রীদের জন্য ঢাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার প্রধান পথ। প্রতিদিন লাখো মানুষ এই রুট ব্যবহার করে রাজধানীতে আসা-যাওয়া করেন। তবে বর্তমানে এ সড়কজুড়ে চলমান খোঁড়াখুঁড়ি নতুন করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। এমনিতেই বছরের অধিকাংশ সময় এই সড়কে তীব্র যানজট লেগে থাকে। তার ওপর রমজান মাস ও ঈদ সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ এই রুটে উন্নয়নকাজ শুরু করায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সড়কের প্রায় আধা কিলোমিটার অংশ খুঁড়ে রাখা হয়েছে। সেখানে মূলত পানি নিষ্কাশনের লাইন মেরামত করা হচ্ছে। কোথাও ইউটিলিটি সংযোগের কাজও চলছে। ফলে ঢাকায় প্রবেশপথে চলাচলের জন্য কার্যত এক বা দেড় লেন খোলা রয়েছে। এতে সামান্য বৃষ্টি হলেই সৃষ্টি হচ্ছে কাদা পানি। আধা কিলোমিটার সড়ক পাড়ি দিতেই সময় লাগছে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী ও দূরপাল্লার যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে।

উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের জন্য এ সড়ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রংপুর, রাজশাহী, বগুড়াসহ বিভিন্ন জেলার যাত্রীদের প্রধান যাতায়াত পথ এটি। প্রতিদিন হাজারও মানুষ ঢাকা ছাড়েন গাবতলী বাস টার্মিনাল ও টেকনিক্যাল মোড় থেকে। কিন্তু বেহাল সড়কের কারণে আসন্ন ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন হবে কি না, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা।

রাজধানীতে প্রবেশ ও বের হওয়ার অন্যতম এই রুটে দীর্ঘ যানজট তৈরি হওয়ায় আশপাশের বিকল্প সড়কেও চাপ বেড়েছে। পরিবহনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, যানজটের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে মিরপুর, শ্যামলী ও আশপাশের এলাকায়।

Manual3 Ad Code

এ সড়ক ব্যবহারকারীদের প্রশ্ন, ঈদের আগে কেন এমন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে কাজ শুরু করা হলো? অনেকেই বলছেন, ঈদের সময় সরকারি ছুটি থাকে, রাজধানী অনেকটাই ফাঁকা হয়ে যায়। তখন সড়ক মেরামত করলে কি বেশি সুবিধা হতো না?

Manual4 Ad Code

আমিনবাজার থেকে এসে শ্যামলীতে অফিস করেন মাহবুব আলম। অফিসগামী এই চাকরীজীবী বলেন, প্রতিদিন গাবতলী থেকে টেকনিক্যাল যেতে এখন এক থেকে দুই ঘণ্টা লাগছে। রোজার মধ্যে এই ভোগান্তি সহ্য করা কঠিন। ঈদের পরে যখন ঢাকা ফাঁকা থাকে, তখন কাজ করলে তো এমন কষ্ট হতো না।

স্থানীয় ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘খোঁড়াখুঁড়ির কারণে মানুষ এই পথে আসতে চান না। আবার বিকল্প ব্যবস্থাও নেই। আমাদের খোলা-বন্ধ করার সময় রয়েছে। কিন্তু জ্যামের কারণে বিক্রি কমে গেছে। ধুলা-বালির কারণে এখানে থাকা মুশকিল। কাজ করতে হলে ঈদের পরে করলেই পারত। তখন রাস্তা ফাঁকা থাকে।’

মানিকগঞ্জ নীলাচল পরিবহনের বাসচালক আব্দুল আজিজ বলেন, ‘গাবতলী থেকে টেকনিক্যাল পর্যন্ত আসতেই এক ঘণ্টার বেশি সময় লেগে যায়। যাত্রীরা আমাদের ওপর রাগ করেন, কিন্তু আমরা তো কিছু করতে পারি না। ঈদের সময় যদি এই অবস্থা থাকে, তাহলে সময়মতো ট্রিপ দেওয়া কঠিন হয়ে যাবে।’
বগুড়া থেকে কাঁচামাল নিয়ে আসেন ট্রাকচালক শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘পণ্য নিয়ে ঢাকায় ঢুকতে জ্যামে আটকে থাকলে তেল খরচ বাড়ে, সময়ও নষ্ট হয়। অনেক সময় নির্ধারিত সময়ে ডেলিভারি দেওয়া যায় না। ঈদের আগে এমন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে কাজ করায় আমরা বেশি বিপদে পড়েছি।’

Manual7 Ad Code

এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কাজ শেষ করার আশ্বাস দিলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অন্তত ঈদের আগে অস্থায়ীভাবে সড়ক চলাচলের উপযোগী করে যানজট কমানোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

এলাকাটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৪-এর আওতাধীন। এ অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) মো. মতিউর রহমান জানান, সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় খোঁড়াখুঁড়ির কারণে যানজট হওয়া স্বাভাবিক। রাস্তা খোঁড়ার আগে পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সমন্বয় সভা করা হয়েছে। তিনি বলেন, যদিও পুলিশ প্রাথমিকভাবে সড়ক খোঁড়ার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিল, তবুও পানির লাইন সচল ও সংস্কারের স্বার্থে কাজটি শুরু করতে হয়েছে। মূলত, পানির লাইনের সংস্কার ও নিচ দিয়ে প্রবাহিত খাল ব্যবস্থার উন্নয়নকাজ চলছে। এই সড়কের নিচ দিয়ে থাকা খালের মাধ্যমে মিরপুর-১ ও মিরপুর-২ এলাকার আশপাশের বাসাবাড়ির পানি নিষ্কাশন হয়।

আশা প্রকাশ করে এই কর্মকর্তা বলেন, ঈদের আগেই চলাচলের উপযোগী করে রাস্তা খুলে দেওয়া হবে। অবশিষ্ট কাজ ঈদের পর সম্পন্ন করা হবে।

Manual4 Ad Code

নগর পরিকল্পনাবিদ ও ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, উন্নয়নকাজ অবশ্যই প্রয়োজন, তবে সময় নির্বাচন ও সমন্বয়ের অভাব থাকলে জনদুর্ভোগ বাড়ে। বিশেষ করে রাজধানীর প্রবেশদ্বারের মতো স্পর্শকাতর স্থানে কাজ শুরুর আগে বিকল্প রুট, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও সময়সূচি নিয়ে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা থাকা জরুরি ছিল।

তিনি বলেন, এমনিতেই সারা বছর সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি চলে, এর মধ্যে যদি রমজান বা ঈদের সময় সড়ক খোঁড়া হয়, তাহলে মানুষের দুর্ভোগ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। একান্ত প্রয়োজন না হলে ঈদের পরেই সড়কে হাত দেওয়া প্রয়োজন।

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০  

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code