প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

২৮শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১১ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

এমপিদের গাড়ি দিতে খরচ হবে মনোরেল প্রকল্পের চেয়ে বেশি

editor
প্রকাশিত এপ্রিল ২৮, ২০২৬, ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ
এমপিদের গাড়ি দিতে খরচ হবে মনোরেল প্রকল্পের চেয়ে বেশি

Manual5 Ad Code

 

প্রজন্ম ডেস্ক:

‘পার্লামেন্টের সেকেন্ড মোস্ট জুনিয়র’ সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত (হাসনাত আবদুল্লাহ) এমপিদের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করার দাবি জানানোর পরিপ্রেক্ষিতে এ নিয়ে নানা মহলে চলছে আলোচনা। সংসদ অধিবেশনে বিরোধীদলীয় এমপির দেওয়া এই বক্তব্যের ‘একরকম সমর্থন’ করে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সংসদে বলেছেন, ‘ছোটদের আবদারে’ সব সময় ‘হ্যাঁ’ বলতে হয়।

Manual8 Ad Code

এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও আমলাদের মধ্যে কেউ কেউ জামায়াতে ইসলামীর আমিরের এ কথার সঙ্গে মিলিয়ে বলছেন, ‘ছোটদের’ আবদার মেটাতে গেলে এই খরচ মনোরেল প্রকল্পের ব্যয়কেও ছাড়িয়ে যাবে। মনোরেল প্রসঙ্গে তারা বলছেন, নতুন সরকারের উন্নয়ন ভাবনাগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে এটি।

Manual1 Ad Code

রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত মনোরোল নির্মাণে খরচ পড়বে ৭৩৪ কোটি টাকা। এদিকে সংসদ সদস্যদের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা ও আনুষঙ্গিক মিলেয়ে খরচ পড়বে প্রায় ৭৮৩ কোটি টাকা।

Manual7 Ad Code

মনোরেলের খরচ প্রসঙ্গে তারা বলছেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে মনোরেল চালুর কথা বলেছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেই এ কথা বলেছিলেন তিনি। রাজধানীর মোহাম্মদপুর, বনানীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মনোরেলকে মেট্রোরেলের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা তুলে ধরেছিলেন তিনি। এদিকে এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ির সুবিধা বাতিল করে গত রবিবার সংসদে বিল পাস হয়েছে।

জাতীয় নির্বাচনের আগে গত ২০ জানুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল ও মতবিনিময় সভায় মনোরেলের পরিকল্পনা তুলে ধরেন তারেক রহমান। এদিকে এর আগে গত জুনে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে মনোরেল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। সাড়ে ৫৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মনোরেল নির্মাণ করতে অন্তত ২৫ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। সেই হিসাবে প্রতি কিলোমিটারে মনোরেল নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় ৪৫৯ কোটি টাকা।

এদিকে বর্তমান সংসদ নেতা তারেক রহমানের উল্লেখ করা মোহাম্মদপুর (আসাদ অ্যাভিনিউ পুলিশ বক্স) থেকে মিরপুর রোড হয়ে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজার পাশ দিয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ পেরিয়ে ফার্মগেট পর্যন্ত মেট্রোরেল স্টেশনের দূরত্ব গুগল ম্যাপ অনুসারে ১ দশমিক ৬ কিলোমিটার। হিসাব অনুসারে এখানে মনোরেল নির্মাণে খরচ পড়বে ৭৩৪ কোটি টাকা।

এর সঙ্গে সংসদ সদস্যদের জন্য গাড়ি কেনার মোট ব্যয় প্রসঙ্গ টানেন বিশেষজ্ঞরা। হিসাব মেলাতে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের একটি উদ্যোগের প্রসঙ্গ তারা সামনে আনেন। বিগত অন্তর্বর্তী সরকার পরবর্তী সরকারের (বর্তমান সরকার) মন্ত্রী এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করবেন এমন কর্মকর্তাদের জন্য ২২০টি গাড়ি কেনার কথা ভেবেছিল। তখন মন্ত্রীদের জন্য ৬০টিসহ সব মিলিয়ে ২৮০টি গাড়ি কিনতে সরকারের ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৪৪৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ গড়ে প্রতিটি গাড়ির মূল্য ধরা হয়েছিল ১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। তখন সমালোচনার মুখে এই কেনা থেকে বিরত থাকে অন্তর্বর্তী সরকার। তবে বর্তমানে সংসদ সদস্যদের জন্য গাড়ি কেনা প্রসঙ্গ সামনে এলে গাড়ির দামের ভিত্তি হিসেবে এই প্রসঙ্গ টানেন তারা।

রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম অনুসারে সংসদ সদস্যরা মন্ত্রীদের চেয়ে পিছিয়ে এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের চেয়ে এগিয়ে। সে কারণে এমপিদের প্রতিটি গাড়ির মূল্য তারা ১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ভিত্তি ধরেই হিসাব কষেন।

এ প্রসঙ্গে আমলারা বলেন, এ ধরনের কেনার ক্ষেত্রে সাধারণ প্রয়োজনীয় সংখ্যার চেয়ে কিছু গাড়ি বেশিই কেনা হয়। কারণ এসব কেনাকাটা যখন তখন করা যায় না, তাই কেনার সময় কিছু বেশি কেনা হয়। এ ক্ষেত্রে ৩৫০ সংসদ সদস্যের জন্য (সাধারণ ৩০০ ও সংরক্ষিত আসন ৫০) ৪০০ গাড়ি কেনা হতে পারে বলে ধরে নেওয়া যেতে পারে। আর এই ৪০০ গাড়ি কেনা বাবদ খরচ হবে প্রায় ৬৩৬ কোটি টাকা। তবে এমপিদের পদমর্যাদা মন্ত্রীদের কাছাকাছি হওয়ায় সংসদ সদস্যদের গাড়ির দামও গড়ে হিসাব না করে শুধু মন্ত্রীদের গাড়ির কাছাকাছি ধরলে এই হিসাব আরও অনেক বেশি হয় বলেও মনে করিয়ে দেন তারা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সংসদ সচিবালয়ের সাবেক সচিব মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, গাড়ি দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে রক্ষণাবেক্ষণের খরচ। এর সঙ্গে রয়েছে ৪০০ গাড়ি রাখার জন্য আলাদা গ্যারেজের ব্যবস্থা করা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের খরচ। সঙ্গে আছে জ্বালানি ও সরকারি পে-স্কেল অনুযায়ী কমপক্ষে ৪০০ চালকের বেতন-ভাতা। গাড়ি দেখাশোনার জন্য বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকেও নিযুক্ত করতে হবে। শুধু তাই নয়, আলাদা পরিবহন পুল গঠন করতে হবে। রীতিমতো ‘ছোটখাটো’ মন্ত্রণালয়ের ‘আদল পাবে’ পুরো কর্মযজ্ঞটি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ, জ্বালানি এবং চালকের বেতন বাবদ একজন সংসদ সদস্য বর্তমানে মাসে ৭০ হাজার টাকা পরিবহন ভাতা পান। সেই হিসাবে ৩৫০ জন সংসদ সদস্যের গাড়ির পেছনে পাঁচ বছরে (৬০ মাস) খরচ হবে ১৪৭ কোটি টাকা। গাড়ি কেনা ও সেগুলোর পেছনে হওয়া খরচ মিলিয়ে হয় প্রায় ৭৮৩ কোটি টাকা।

Manual3 Ad Code

উল্লেখ্য, জাতীয় সংসদের সদস্যরা প্রতি মাসে গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ, জ্বালানি এবং চালকের বেতন বাবদ ৭০ হাজার টাকা করে পান। তবু এমপিদের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।

জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনে গত মঙ্গলবার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর এই গাড়ি চাওয়া এবং তাতে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের সমর্থনের পর বিষয়টি নিয়ে দাবি জোরালো হচ্ছে।

সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহ নিজের অবস্থান থেকে অত্যন্ত যুক্তিযুক্তভাবে এমপিদের চাহিদার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা লজ্জায় একটা কথা বলি না। পার্লামেন্টের সেকেন্ড মোস্ট জুনিয়র হিসেবে বলছি, প্রতিটি উপজেলায় ইউএনও এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের জন্য সরকারি গাড়ি থাকলেও সংসদ সদস্যদের জন্য এমন কোনো ব্যবস্থা নেই।’

উল্লেখ্য, জাতীয় নির্বাচনের কয়েক মাস আগে থেকেই এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও প্লট না নেওয়ার বিষয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিল। ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর সিলেটে দলের এক অনুষ্ঠানে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেছিলেন, ‘আগামীতে আমাদের একজনও যদি এমপি নির্বাচিত হন, তাদের কেউ সরকারি প্লট নেবেন না ও বিনা ট্যাক্সের গাড়িতে চলবেন না।’ তবে হাসনাত আবদুল্লাহর গাড়ি চাওয়ার প্রতি ডা. শফিক সংসদে সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

সমালোচনার প্রেক্ষাপটে পরদিন গত বুধবার সংসদে একটি ব্যাখ্যা দেন হাসনাত আবদুল্লাহ। গণমাধ্যমে তার বক্তব্য নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, সংসদ সদস্যরা শুল্কমুক্ত গাড়ি ও প্লট নেবেন না- এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে তিনি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র, ডিসি, ইউএনও, এসি ল্যান্ডসহ অন্য সরকারি কর্মকর্তাদের যে প্রক্রিয়ায় গাড়ি দেওয়া হয়, সংসদ সদস্যদেরও একই প্রক্রিয়ায় গাড়ি দেওয়ার কথা বলেছেন। তিনি কোনো শুল্কমুক্ত গাড়ি চাননি বলেও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন।

দেশের অর্থনীতির বাস্তব অবস্থা ভালো নয় বলে সম্প্রতি সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময়ে স্বীকার করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ইরান যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে জ্বালানি তেলসংকটের কারণে নিত্যপণ্য থেকে শুরু করে জনজীবনের সবকিছুতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুসারে স্কুলের ক্লাস অনলাইন ও সশরীরে মিলিয়ে নেওয়ার কথা বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী। আদালতও চলছে ভার্চুয়াল ও সশরীরে। গ্রামে লোডশেডিংয়ে জনজীবনে নাভিশ্বাস ওঠার মধ্যে এখন রাজধানীতেও লোডশেডিং চলছে।

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code