জকিগঞ্জ উপজেলার আটগ্রামে বিকালের শান্ত পরিবেশে এখনও জীবন্ত ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় আড়াই শতাব্দী পুরোনো সাজিদ রাজার বাড়ি।
বিশাল দীঘির পাড়, প্রাচীন স্থাপত্য আর নীরব প্রকৃতি—সব মিলিয়ে জায়গাটি প্রতিদিনই দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করছে।
স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, ১৮ শতকের শুরুতে প্রভাবশালী শাসক সাজিদ রাজা এই অঞ্চলে শাসন পরিচালনা করতেন।
Manual4 Ad Code
তিনি প্রজাদের কল্যাণে নানা উদ্যোগ নেন এবং হাতি ও কাঠের গাড়িতে চড়ে এলাকা পরিদর্শন করতেন বলেও জানান তা্রা।
অন্যতম আকর্ষণ ১৩ চালা ঘর
এই ঐতিহাসিক স্থাপনার অন্যতম আকর্ষণ ১৩ চালা বিশিষ্ট একটি কাঠ ও টিনের ঘর, যা আজও দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।
কথিত আছে, কলকাতার দক্ষ কারিগরদের দিয়ে এটি নির্মাণ করা হয়েছিল। চুন-সুরকির মেঝে ও কাঠের খুঁটি সেই সময়ের নির্মাণশৈলীর নিদর্শন বহন করছে।
বাড়ির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো তিন কক্ষবিশিষ্ট প্রাচীন বিচারালয়। মাঝের বড় কক্ষে বসতো বিচারসভা, আর দেয়ালে মোমবাতি রাখার নকশা এখনও অতীতের স্মৃতি বহন করে।
ধর্মীয় দিক থেকেও এই স্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ির সামনে একাধিক গম্বুজ বিশিষ্ট একটি পুরোনো মসজিদ রয়েছে, যা প্রজাদের নামাজের সুবিধার্থে নির্মাণ করা হয়েছিল বলে স্থানীয়দের ধারণা।
প্রায় আট একরজুড়ে বিস্তৃত বিশাল দীঘিটি এলাকাবাসীর দৈনন্দিন জীবনের অংশ। কেউ এখানে গোসল করে, কেউ পানি সংগ্রহ করে, আবার বিকালে অনেকেই সময় কাটাতে আসেন দীঘির পাড়ে। ফলে পুরো এলাকাটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, এই রাজার বাড়িকে ঘিরে ছোটবেলা থেকেই নানা গল্প প্রচলিত রয়েছে। বিশেষ করে ধনসম্পদ ও রহস্যময় সাপের গল্প প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে শোনা গেলেও বাস্তবে এর সত্যতা কেউ দেখেননি।
Manual1 Ad Code
তবে জায়গাটির শান্ত পরিবেশ তাদের শৈশবের স্মৃতিকে এখনও জীবন্ত করে রাখে, বলেন তিনি।
Manual6 Ad Code
বর্তমানে এটি একটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে আসে ইতিহাস ও প্রকৃতির সংমিশ্রণ উপভোগ করতে। অনেকেই এটিকে পারিবারিক ভ্রমণ ও অবসর কাটানোর স্থান হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।
তবে স্থানীয়দের দাবি, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি ঐতিহাসিক স্থাপনার নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণ জরুরি। আংশিক সংস্কার হলেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবে ভবিষ্যতে এর ঐতিহ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সময়ের পরিবর্তনে অনেক কিছু হারিয়ে গেলেও সাজিদ রাজার বাড়ি এখনও অতীতের গল্প বলে চলেছে—যেখানে ইতিহাস, প্রকৃতি ও মানুষের জীবন একসূত্রে গাঁথা।