প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

২রা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৯শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

‘আঙ্কেল খুব ভালো, খুব সুইট’— প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে শিশুদের উচ্ছ্বাস

editor
প্রকাশিত মে ১৯, ২০২৬, ০১:৩৫ অপরাহ্ণ
‘আঙ্কেল খুব ভালো, খুব সুইট’— প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে শিশুদের উচ্ছ্বাস

Manual2 Ad Code

 

স্টাফ রিপোর্টার:

 

‘আঙ্কেল আমার, আঙ্কেল আমার’—ছোট ছোট কণ্ঠে এমন ডাকেই মুখর হয়ে ওঠে তেজগাঁওয়ের ভূমি ভবনের ডে-কেয়ার সেন্টার। কেউ হাত বাড়িয়ে করমর্দন করছে, কেউ টেনে নিয়ে যাচ্ছে খেলনার কাছে, আবার কেউ নিজের আঁকা ছবি দেখাতে ব্যস্ত—শিশুদের এমন উচ্ছ্বাসে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ। সেই মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও যেন ফিরে যান নির্ভার শৈশবের স্মৃতিতে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) বেলা সোয়া ১১টার দিকে ভূমিসেবা মেলা-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ডে-কেয়ার সেন্টারটি পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে প্রায় ১৮ মিনিট শিশুদের সঙ্গে সময় কাটান তিনি।

Manual1 Ad Code

 

ডে-কেয়ার সেন্টারজুড়ে তখন খেলনার টুংটাং শব্দ, কচি কণ্ঠের হাসি আর আনন্দময় চিৎকার। ছোট ছোট পায়ে দৌড়ঝাঁপে মুখর ছিল পুরো পরিবেশ। প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে শিশুরাও উচ্ছ্বাসে ভরে ওঠে।

Manual3 Ad Code

 

সেন্টারে প্রবেশের পরপরই শিশুদের সঙ্গে মিশে যান সরকারপ্রধান। কয়েকজন শিশু নিজেদের হাতে আঁকা ছবি দেখালে প্রধানমন্ত্রী মন দিয়ে সেগুলো দেখেন। মুগ্ধ হাসিতে প্রশংসাও করেন। কখনো শিশুদের মাথায় আলতো করে হাত বুলিয়ে দেন, কখনো তাদের কথায় প্রাণ খুলে হেসে ওঠেন।

একপর্যায়ে শিশুদের নিয়ে কেক কাটেন প্রধানমন্ত্রী। নিজের হাতে শিশুদের চকলেট, টফি ও ললিপপ দেন। উপহার হিসেবে তুলে দেন গিফট ব্যাগও। চকলেট বিতরণের সময় প্রধানমন্ত্রী শিশুদের উদ্দেশে বলেন, ‘আর কেউ কি বাকি আছে, পেয়েছো সবাই?’

এরপর শিশুদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আজকে কার জন্মদিন বলো তো?’ এ সময় কয়েকজন শিশুকে বলতে শোনা যায়, ‘আঙ্কেল আমার, আঙ্কেল আমার।’

Manual7 Ad Code

পরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে তোমাদের সবার জন্মদিন। আসো আমরা একসঙ্গে কেক কাটি।’

শিশুদের সঙ্গে হাতে হাত রেখে কেক কাটেন তিনি। তখন করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো কক্ষ। শিশুরা আনন্দে বলতে থাকে, ‘হ্যাপি হ্যাপি, হ্যাপি ডে, হ্যাপি বার্থডে।’ এ সময় এক শিশু প্রধানমন্ত্রীকে কেক খাইয়ে দেয়।

প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে ছোট্ট শিশু আরিবা। সে বলে, ‘প্রধানমন্ত্রী আঙ্কেলকে দেখে আমি যে কি খুশি, বলতে পারছি না। আঙ্কেলের সঙ্গে মজা করে কেক খেয়েছি। আঙ্কেলও কেক খেয়েছেন। কী মজা, কী মজা। আঙ্কেল খুব ভালো, খুব সুইট।’

 

টেবিলে রাখা পুতুল, চকলেট ও ললিপপ দেখিয়ে আরিবা আরও বলে, ‘এই যে আঙ্কেল আমাদের গিফটও দিয়েছেন।’

Manual8 Ad Code

ডে-কেয়ার সেন্টারের কর্মকর্তা মাহিয়া তাসনুভ তামান্না সেখানে শিশুদের যত্ন ও কার্যক্রম সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শিশুদের কী ধরনের খাবার দেওয়া হয় এবং তাদের মানসিক বিকাশ ঠিকভাবে হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

এ বিষয়ে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয়ের অধীনে ঢাকাসহ সারা দেশে ২০টি ডে-কেয়ার সেন্টার পরিচালিত হচ্ছে। চার থেকে ছয় বছর বয়সী শিশুরা এসব কেন্দ্রে সাড়ে ১০ ঘণ্টা সেবা পেয়ে থাকে। তেজগাঁওয়ের কেন্দ্রটিতে মোট ৬০ জন শিশু রয়েছে। মঙ্গলবার উপস্থিত ছিল ৫৫ জন।

আনন্দঘন সময় শেষে শিশুদের দিকে হাত নেড়ে ‘টা-টা’ জানিয়ে বিদায় নেন প্রধানমন্ত্রী। আর শিশুরাও হাত নেড়ে ও সালাম দিয়ে তাকে বিদায় জানায়।

শিশুদের নিষ্পাপ হাসি আর ভালোবাসার ভেতর দিয়ে কিছু সময়ের জন্য যেন দায়িত্বের কঠিন বাস্তবতাও ভুলে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭৩০
৩১  

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code