প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৪ঠা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৮ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

কড়া নজরদারিতে মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী ও এমপিরা

editor
প্রকাশিত জুন ৪, ২০২৬, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ
কড়া নজরদারিতে মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী ও এমপিরা

Manual8 Ad Code

 

প্রজন্ম ডেস্ক:

 

মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও এমপিরা আসছেন কড়া নজরদারিতে। তাঁদের প্রতিদিনের কার্যক্রম ও কর্মদক্ষতা নজরদারি করতে একটি কমিটি করা হয়েছে।

খোদ প্রধানমমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে চালু হয়েছে ‘পারফরম্যান্স মনিটরিং মেকানিজম’ নামের এক অভিনব নজরদারি পদ্ধতি, যার মাধ্যমে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও এমপিদের প্রতিদিনের আমলনামা নিয়মিতভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা বিন্দুমাত্র ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রমাণ পেলে এখন কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এরই মধ্যে এই মেকানজিমের আওতায় সরকারের তিন প্রভাবশালী মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে ডেকে সরাসরি এবং কড়া ভাষায় মৌখিকভাবে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। শুধু মন্ত্রীরাই নন—নিবিড় পর্যবেক্ষণের এই রাডার থেকে বাদ যাননি দলীয় ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতারাও।
তাঁদের গতিবিধি, ফোনকল ও আর্থিক লেনদেনের ওপর নজর রাখা হচ্ছে।

Manual1 Ad Code

 

Manual3 Ad Code

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব ড. নাসিমুল গনি জানিয়েছেন, ‘সরকারপ্রধান হিসেবে পুরো ক্যাবিনেট দেখার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর। তিনি এই বিভাগেরও মন্ত্রী। কাজেই এখানে তাঁর সিদ্ধান্ত বা আদেশ বাস্তবায়নই আমাদের প্রধান কাজ। এ বিষয়ে এর বেশি বলা ঠিক হবে না।’

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মন্ত্রিসভা থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের আকস্মিক পদত্যাগসহ আরো কয়েক মন্ত্রীর কর্মকাণ্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁদের সম্পর্কে বিভিন্ন আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

 

জানা গেছে, সোমবার ১ জুন সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের টেবিলে জমা পড়ে একটি পদত্যাগপত্র। পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষরকারী ছিলেন সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। পদত্যাগপত্রে তিনি মার্জিত ভাষায় উল্লেখ করেছেন, মন্ত্রী হিসেবে দাায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নানা ধরনের শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন।

Manual1 Ad Code

এই অসুসস্থতার কারণে মন্ত্রণালয়ের দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজ এবং অর্পিত বিশাল দায়িত্ব পালন করা তাঁর জন্য দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে তারেক রহমান দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করেছেন। এর মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত সরকারের মন্ত্রিসভার একটি গুরুত্বপূর্ন পদ শূন্য হলো।

 

বিশ্লেষকরা মনে করেন, পর্দার আড়লে থাকা গল্পটি কি এতটাই সরল? তাঁরা দীপেন দেওয়ানের অসুস্থতার অজুহাতে পদত্যাগের বিষয়য়টি উড়িয়ে দিচ্ছেন। তাঁদের মতে, দীপের দেওয়ানের এই বিদায়ের পেছনে বিভিন্ন স্পর্শকাতর বিষয় থাকতে পারে।

 

জানা গেছে, মন্ত্রিসভার ভেতরে এখন আলোচনার কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নতুন এক নজরদারি উদ্যোগ ‘পারফরম্যান্স মনিটরিং মেকানিজম’। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তারেক রহমান বুঝতে পেরেছিলেন, পুরনো ধাঁচের রাজনীতি দিয়ে এই চরম সংকটময় মুহূর্তে দেশ চালানো সম্ভব নয়। তাই তিনি চালু করেছেন অভিনব এবং কঠোর মূল্যায়নব্যবস্থা। এর মাধ্যমে প্রতিটি মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও এমপিদের প্রতিদিনের আমলনামা নিয়মিতভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে এই মেকানিজমের আওতায় সরকারের তিন প্রভাবশালী মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে ডেকে সরাসরি এবং কড়া ভাষায় মৌখিকভাবে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। শুধু মন্ত্রীরাই নন, নিবিড় পর্যবেক্ষণের এই রাডার থেকে বাদ যাননি দলীয় ও সহযোগী সংগঠনের নেতারাও। তাঁদের গতিবিধি, ফোনকল এবং আর্থিক লেনদেনের ওপর রাখা হচ্ছে তীক্ষ নজর।

 

বিএনপির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা এবং দুর্নীতির দুর্নাম থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকারপ্রধান এই চরম সতর্কবার্তা জারি করেছেন। ঠিকাদারি সিন্ডিকেট, তদবির বাণিজ্য কিংবা উন্নয়ন প্রকল্পে গাফিলতি—জনস্বার্থে এসব কর্মকাণ্ড বন্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ করে যেসব এমপি নির্বাচনী এলাকায় উপস্থিত থাকছেন না, ঢাকায় বসে আয়েশি জীবন কাটাচ্ছেন কিংবা মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনিক কাজে অযাচিত হস্তক্ষেপ করে দলীয় প্রভাব খাটাচ্ছেন, তাঁদের নামের তালিকা প্রতিদিন দীর্ঘ হচ্ছে। নজরদারি কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গঠন করা হয়েছে বিশেষ এবং অতি গোপনীয় সেল। অর্থ উপদেষ্টা, মুখ্য সচিবসহ রাষ্ট্রের শীর্ষ ও বিশ্বস্ত কর্মকর্তারা সরাসরি মাঠ পর্যায়ের রিপোর্ট তদারকি করছেন এবং প্রতিদিন ব্র্রিফ দিচ্ছেন প্রধানমমন্ত্রীকে।

 

জানা গেছে, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব আব্দুস সাত্তারের নেতৃত্বে গঠিত এই সেল সরকারের মন্ত্রী এবং দলীয় সংসদ সদস্যদের কাজের মূল্যায়নবিষয়ক প্রতিবেদন তৈরি করছে এবং তা নিয়মিত প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করছে। এর বাইরেও প্রধানমন্ত্রী নিজে থেকেও সব কর্মকাণ্ড মনিটর করছেন বলেও জানা গেছে। সম্মিলিতভাবে সরকারের ১৮০ দিনের কর্মযজ্ঞ মূল্যায়ন পর্যালোচনা শেষে ব্যবস্থা নেবেন প্রধানমন্ত্রী। জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর পারফরম্যান্স মনিটরিং মেকানিজম বা মূল্যায়নব্যবস্থা একটি কঠোর ও স্বচ্ছ প্রশাসনিক সংস্কৃতির ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা মূলত যুক্তরাজ্যের সংসদীয় মডেল থেকে অনুপ্রাণিত।

 

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র নেতা সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সরকার ও দল উভয় ক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত করার দায়িত্ব তাঁর। এ জন্য তিনি যেটা ভালো মনে করবেন তাই করবেন। সরকার থেকে কাকে বাদ দেবেন আর কাকে নেবেন এটিও তাঁর একান্ত সিদ্ধান্ত।

Manual1 Ad Code

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০  

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code