হবিগঞ্জের সীমান্তে দেড় কোটি টাকার ভারতীয় জিরা জব্দ, আটক ৪
হবিগঞ্জের সীমান্তে দেড় কোটি টাকার ভারতীয় জিরা জব্দ, আটক ৪
editor
প্রকাশিত জুলাই ২, ২০২৬, ১০:১৮ পূর্বাহ্ণ
Manual7 Ad Code
নিউজ ডেস্ক:
হবিগঞ্জের সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযানে জাল কাস্টমস কাগজপত্র ব্যবহার করে অবৈধভাবে আনা প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় জিরাসহ একটি ট্রাক জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একই দিনে মাদকবিরোধী পৃথক অভিযানে ভারতীয় মদ ও ইয়াবাসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে।
বুধবার গভীর রাতে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি)।
Manual1 Ad Code
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৫৫ বিজিবির একটি আভিযানিক দল হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে তল্লাশি চৌকি স্থাপন করে। রাত আনুমানিক ১২টার দিকে সিলেট থেকে ঢাকাগামী একটি ট্রাক সেখানে পৌঁছালে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চালক ও হেলপার ট্রাকটি ফেলে পালিয়ে যায়।
Manual2 Ad Code
পরে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে ট্রাকটি তল্লাশি করে ড্যাশবোর্ড থেকে তামাবিল ল্যান্ড কাস্টমস স্টেশনের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তার স্বাক্ষরযুক্ত বিল অব এন্ট্রি ও এক্সপোর্ট সংক্রান্ত কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার মাধ্যমে যাচাই করে জানা যায়, কাগজপত্রগুলো সম্পূর্ণ জাল। ফটোকপি ও কম্পিউটারে তৈরি নথিতে কর্মকর্তার স্বাক্ষর স্ক্যান করে ব্যবহার করা হয়েছিল।
এরপর ট্রাকটি তল্লাশি করে ২০০ বস্তা ভারতীয় জিরা জব্দ করা হয়। জব্দ করা জিরা ও ট্রাকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা।
এদিকে চুনারুঘাট উপজেলার বাল্লা বিওপির টহলদল সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গোবরখোলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ১২ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ করে।
একই বিওপির আরেকটি অভিযানে টেকেরঘাট এলাকায় সীমান্ত থেকে প্রায় ৫০০ গজ ভেতরে ৫ পিস ইয়াবা ও ১ লিটার ভারতীয় মদসহ চারজনকে আটক করা হয়। আটকরা হলেন কেলো মিয়া (৪৫), শামীম মিয়া (৩০), বেলাল মিয়া (৩০) ও নুর ইসলাম (৪০)। তাদের সবার বাড়ি চুনারুঘাট উপজেলার টেকেরঘাট গ্রামে।
জব্দ করা ভারতীয় মদ হবিগঞ্জ জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে, ভারতীয় জিরা ও ট্রাক হবিগঞ্জ কাস্টমস অফিসে এবং ইয়াবা ও মদসহ আটক চারজনকে চুনারুঘাট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
Manual6 Ad Code
হবিগঞ্জ ৫৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানজিলুর রহমান বলেন, সীমান্ত দিয়ে কোনো ধরনের চোরাচালান, মাদক পাচার কিংবা জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় রাজস্ব ফাঁকির সুযোগ দেওয়া হবে না। সীমান্তে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। দেশের অর্থনীতি সুরক্ষা ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবির বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী জনসাধারণকে চোরাচালান প্রতিরোধে তথ্য দিয়ে বিজিবিকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।