প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৯ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

মানসিক রোগী দুই মেয়েকে নিয়ে ভিক্ষুক মায়ের আহাজারি

editor
প্রকাশিত জুলাই ২১, ২০২৬, ১২:৩৪ অপরাহ্ণ
মানসিক রোগী দুই মেয়েকে নিয়ে ভিক্ষুক মায়ের আহাজারি

Manual3 Ad Code

জুড়ি প্রতিনিধি :
মৌলভীবাজারের জুড়ীতে মানসিক রোগে আক্রান্ত দুই মেয়ের চিকিৎসা করাতে চান মা। কিন্তু ভিক্ষুক মায়ের সে সামর্থ্য নেই।

উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের বাছিরপুর (চাক্কাটিলা) গ্রামের মৃত মরতুজ আলীর বাড়িতে তার স্ত্রী জামিনা খাতুনের সাথে কথা বলে জানা যায়- তার স্বামী দিনমজুরের ছিলেন। তাদের সংসারে ৩ মেয়ে। প্রায় ২৫ বছর আর স্বামী মারা যান। তিনি মানুষের বাড়ি কাজ করে ও ভিক্ষা করে সংসার চালান, মেয়েদের লালন-পালন করে বড় করেন। বড় মেয়ে আফিয়া খাতুনকে বিয়ে দিয়েছিলেন বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ এলাকায়। বিয়ের বছর যেতেই তার মৃত সন্তান জন্ম হয়। এনিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় ভোগতে শুরু করেন। কিছু দিনের মধ্যে তার মানসিক সমস্যা দেখা দেয়।

Manual6 Ad Code

তখন স্বামী তার কোনো চিকিৎসা না করিয়ে তাকে মায়ের কাছে পাঠিয়ে দেন এবং পরে তালাক দেন। এতে করে আফিয়ার মানসিক সমস্যা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে তা বড় আকার ধারণ করে। তিনি বাধ্য হয়ে মেয়েকে শিকলবন্দী করেন।

Manual1 Ad Code

দ্বিতীয় মেয়ে রোবেনা বেগম ছিল সহজ-সরল। তাকে একই ইউনিয়নের পশ্চিম হরিরামপুর (মইজন নগর) গ্রামে বিয়ে দেন। বছরান্তে তার সন্তান প্রসবের সময় হলে তাকে স্থানীয় একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে সিজারিয়ান অপারেশনে তার মৃত সন্তান হয়। একথা শুনে স্বামী ও শ^শুর বাড়ির লোকজন তাকে হাসপাতাল রেখে পালিয়ে যান। পরে মা ভিক্ষা করে ও জমি বিক্রি করে হাসপাতালের বিল পরিশোধ করে মেয়েকে বাড়ি নিয়ে যান। সেই থেকে রোবিনা মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। মা বাধ্য হন তাকেও বেঁধে রাখতে। কেননা, একটু সুযোগ পেলেই সে দৌঁড়ে তার স্বামীর বাড়িতে চলে যায়। যদিও এর মধ্যে স্বামী তাকে তালাক দেয়। মেয়ে দু’টিকে কোনো এক চিকিৎসকের নিকট চিকিৎসা করালে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসা বন্ধ করে দেয়া হয়। অর্থাভাবে ও সঠিক জানার অভাবে উন্নত চিকিৎসা করানো হয়নি। সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক প্রদত্ত প্রতিবন্দী পরিচয়পত্র মতে আফিয়া খাতুন মাঝারি ধরণের বুদ্ধি প্রতিবন্দী এবং রোবেনা বেগম মাঝারি ধরণের দীর্ঘস্থায়ী মানসিক অসুস্থতাজনিত প্রতিবন্দী।

Manual7 Ad Code

সরমিন দেখা যায় জামিনা খাতুনের মুলঘরের সাথে একচালা একটি কক্ষে মাটির মধ্যে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দুই বোন শিকলবন্দী অবস্থায় আছেন। মাঝে মধ্যে শিকল খুলে দিয়ে দরজা বাহিরে থেকে বেঁধে রাখা হয়। যাতে তারা বের হয়ে যেতে না পারে। বৃদ্ধা মা যতটুকু সম্ভব মেয়েদের পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করেন। তবে ইচ্ছা থাকলেও সকল সময় সেটা সম্ভব হয় না। ভালো কোনো পোশাক তাদের পরানোর সামর্থ্য মায়ের নেই।

জামিনা খাতুন বলেন- ‘ভিক্ষা করে পেটের ভাত যোগাইতে কষ্ট হয়। চিকিৎসা কী দিয়ে করব? তাছাড়া ভালো ডাক্তার কই আছে আমিতো জানিনা। আমি একা মানুষ এই পাগল মেয়েদের নিয়ে যাইতেও পারব না। আপনারা সহযোগিতা করে চিকিৎসা করালে হয়তো আমার মেয়েগুলো ভালো হইতো।’

আফিয়া ও রোবেনার চিকিৎসার বিষয়ে কথা বলা ও আর্থিক সহযোগিতা পাঠাতে পারেন ০১৭৮৫-৬৬৬০১০ এই বিকাশ (জামিনা খাতুন) নম্বরে।

জানতে চাইলে পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন- এই পরিবারটির অসহায়ত্বের শেষ নেই। জামিনা খাতুন বিধবা ভাতা পান। তার মেয়ে আফিয়া আগে থেকে প্রতিবন্দী ভাতা পায় এবং ছোট মেয়ে চলতি বছর থেকে প্রতিবন্দী ভাতা পাচ্ছে। এছাড়া ঘর মেরামতের জন্য টিন ও আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে। আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকেও যথাসাধ্য সহযোগিতা দেয়া হয়। মেয়েদের চিকিৎসার বিষয়ে কেহ উদ্যোগ নিলে আমরা পাশে থাকবো।

জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ সমরজিৎ সিংহ বলেন- মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা করালে এরকম রোগী ভালো থাকে। চিকিৎসা খুব বেশী ব্যয়বহুল না হলেও দীর্ঘ মেয়াদে ওষুধ সেবন করতে হয়। সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মানসিক ইউনিট রয়েছে। সেখানে গেলে ওরা ভালো চিকিৎসা পাবে।

Manual3 Ad Code

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪
৫৭৮৯১০১১
১১৩৪১৫১৬১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৯৩০৩১  

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code