প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

২৪শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৯ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১১ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

রাষ্ট্র পরিচালনায় পদে পদে প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তনের বার্তা

editor
প্রকাশিত আগস্ট ২৪, ২০২৬, ০৯:৫৮ পূর্বাহ্ণ
রাষ্ট্র পরিচালনায় পদে পদে প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তনের বার্তা

Manual8 Ad Code

 

Manual7 Ad Code

প্রজন্ম ডেস্ক:

২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার দিন রাজধানীর পূর্বাচলে লাখো মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে তারেক রহমান বলেছিলেন, ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে তার সেই উচ্চারণকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল নানা প্রত্যাশা। মাত্র ১৮০ দিনের ব্যবধানে সরকারপ্রধান হিসেবে তার কর্মকাণ্ডে সময়ানুবর্তিতা, মিতব্যয়িতা, প্রশাসনিক জবাবদিহি, পরাজিত রাজনৈতিক শক্তির প্রতি সহনশীলতা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের যে প্রবণতা দৃশ্যমান হয়েছে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন করে আলোচনা। সমর্থকদের মতে, কথার চেয়ে কাজে পরিবর্তনের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

Manual2 Ad Code

২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। প্রচলিত রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার বাইরে জনগণের সামনে উন্মুক্ত স্থানে শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়েই তার নেতৃত্বের ধরনে আলাদা মাত্রা তৈরি হয়। এরপর সরকারের প্রথম কয়েক মাসে একের পর এক এমন কিছু সিদ্ধান্ত ও ব্যক্তিগত আচরণ সামনে এসেছে, যা প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতির বাইরে সংযমী ও মিতব্যয়ী নেতৃত্বের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Manual3 Ad Code

দীর্ঘ রাজনৈতিক নিপীড়ন ও নির্বাসনের অভিজ্ঞতা থাকলেও ক্ষমতায় এসে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার রাজনীতিকে প্রাধান্য না দেওয়ার বার্তাই দিয়েছেন তারেক রহমান। সংসদ থেকে মাঠে রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখার পাশাপাশি সহাবস্থান, সহনশীলতা ও জাতীয় সম্প্রীতির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

সমর্থকদের মতে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে ক্ষমতার পালাবদলের পর প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার যে সংস্কৃতি দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত, তার বিপরীতে পরাজিত রাজনৈতিক শক্তির প্রতিও সহনশীল থাকার বার্তা রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ঢাকার যানজট ও জনভোগান্তির অন্যতম কারণ হিসেবে ধরা হতো ভিভিআইপি প্রটোকল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই ধারা ভেঙে সাধারণের মতো চলাচল শুরু করেন। তার এই ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্তের সুফল সড়কে মিলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রাজধানীতে চলাচলের সময় দীর্ঘক্ষণ সড়ক বন্ধ না রেখে স্বাভাবিক যান চলাচল অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সীমিত গাড়িবহর নিয়ে চলাচলের বিষয়টিও মানুষের নজর কেড়েছে।

কখনো কখনো সাধারণ মানুষ বুঝতেই পারেন না যে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর পাশ দিয়ে চলে যাচ্ছে। পথে সাধারণ মানুষের দিকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানানোর দৃশ্যও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তা বজায় রেখেও জনগণের ভোগান্তি কমানোর এই উদ্যোগকে প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে নতুন বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

Manual3 Ad Code

প্রধানমন্ত্রীর প্রকাশ্য বক্তব্যেও ব্যক্তিগত আক্রমণের পরিবর্তে রাষ্ট্র, গণতন্ত্র ও জনগণের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিরোধী মতকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচনা এবং বক্তব্যে সংযম ও সৌজন্য বজায় রাখার বিষয়টি তার রাজনৈতিক শৈলীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠছে।

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমালোচনার জবাবেও ব্যক্তিগত আক্রমণের পরিবর্তে নীতি, রাষ্ট্রীয় স্বার্থ ও জনগণের প্রত্যাশাকে সামনে রাখার প্রবণতাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তার সমর্থকরা।

সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার পরও ব্যক্তিগত জীবনযাপনে অতি আনুষ্ঠানিকতা ও আড়ম্বর এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেছেন তারেক রহমান। রাষ্ট্রীয় বাসভবনের পরিবর্তে নিজের গুলশানের ব্যক্তিগত বাসভবনে অবস্থান, সীমিত আনুষ্ঠানিকতা এবং সাধারণ মানুষের কাছাকাছি থাকার আচরণ তার নেতৃত্বের সরলতার বার্তা দিচ্ছে।

বিদেশ সফর কিংবা বিমানবন্দরে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত আনুষ্ঠানিকতা ও ভিড় এড়িয়ে চলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় ব্যয়ে সংযমের পাশাপাশি সচিবালয়ে নিজ কক্ষে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সতর্ক থাকার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

প্রশাসনের কাজের ক্ষেত্রে সময়ানুবর্তিতাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অফিসের পরিবর্তে সচিবালয়ে নিয়মিত অফিস করা, নির্ধারিত সময়ে মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের উপস্থিতির ওপর জোর দেওয়া এবং ছুটির দিনেও দাপ্তরিক কাজ করার মাধ্যমে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে দায়িত্বশীলতার বার্তা দেওয়ার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে।

একই সঙ্গে দায়িত্বে গাফিলতির ক্ষেত্রেও কঠোর অবস্থানের নজির তৈরি হয়েছে। ঈদের পর রাজধানীতে কোরবানির বর্জ্য ও জমে থাকা ময়লা যথাসময়ে অপসারণ না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে প্রশাসনের প্রতি স্পষ্ট বার্তা যায় দায়িত্বে অবহেলা করলে জবাবদিহি করতেই হবে।

বাবা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উন্নয়ন দর্শনের ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সারা দেশে খাল খননের মতো জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। কর্মসূচির উদ্বোধনে ঝুম বৃষ্টিকেও উপেক্ষা করে তিনি সরাসরি মাঠে উপস্থিত হয়েছেন। কখনো বিমানে, কখনো বুলেটপ্রুফ লাল বাসে চড়ে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন তিনি। শুধু আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনেই সীমাবদ্ধ না থেকে মাঠপর্যায়ে কাজের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। খাল খননের সময় তার হাতে-পায়ে কাদা লাগার দৃশ্যও মানুষের নজর কেড়েছে।

সরকারি অর্থের ব্যবহারে মিতব্যয়িতার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের খাবারের বাজেট কমিয়ে আনা, রাষ্ট্রীয় ইফতার সীমিত করা এবং রেওয়াজ অনুযায়ী বাজেট-পরবর্তী রাতের আপ্যায়ন বাতিল করা হয়েছে।

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সচিবালয়ে নিজের কক্ষে অর্ধেক বাতি ব্যবহার এবং এসির তাপমাত্রা ২৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নির্ধারণ করে জনগণকে নতুন বার্তা দেওয়ার মতো উদ্যোগগুলোকে ব্যয়সংকোচন নীতির দৃশ্যমান উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের আরেকটি আলোচিত দিক হলো মাঠপর্যায়ে সরাসরি নজরদারি। কাগজে-কলমে প্রতিবেদন বা কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে তিনি নিজেই বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। ছুটির দিনেও নিজেই গাড়ি চালিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও এলাকার পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি দেখার ঘটনা এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে।

ঈদের দিন কোরবানির বর্জ্য নির্ধারিত সময়ে অপসারণ নিশ্চিত করা, রাজধানীর বিভিন্ন সড়কের পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি দেখা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও ঢাকার প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেছেন তিনি। কোথাও দায়িত্বে গাফিলতি বা অব্যবস্থাপনা চোখে পড়লে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিকভাবে জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনাও সামনে এসেছে। কাগজে-কলমে প্রতিবেদনের পরিবর্তে সরাসরি বাস্তব পরিস্থিতি দেখার এই প্রবণতা প্রশাসনিক কাজের নতুন সংস্কৃতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সুবিধাবঞ্চিত, মেধাবী ও প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগও তার জনসম্পৃক্ততার অংশ হয়ে উঠেছে। ৩০ জুলাই সচিবালয়ে প্রবেশের সময় তিনজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির হাতে প্রধানমন্ত্রী নিজে নিয়োগপত্র তুলে দেন। কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তাদের আত্মনির্ভরশীল করার এই উদ্যোগ সামাজিক অন্তর্ভুক্তির বার্তা বহন করছে।

শিশু ও তরুণদের সঙ্গেও তার সহজ সম্পর্ক নজর কেড়েছে। শিশুদের সঙ্গে সময় কাটানো, শিশু শিল্পীদের গান শোনা কিংবা তরুণদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি উদ্যোক্তা, স্টার্টআপ, কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

দীর্ঘ নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে দলীয় নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়িয়েছেন তারেক রহমান। তৃণমূলের মতামত শোনা এবং মাঠের মানুষের প্রত্যাশা জানার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।

সবশেষে তার রাজনৈতিক বয়ানের কেন্দ্রে রয়েছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। দল বা ব্যক্তির ঊর্ধ্বে রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার এই ধারণাকে সামনে রেখে গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়বিচার, উন্নয়ন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার কথা বলছেন তিনি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, দীর্ঘদিনের ঘুনে ধরা রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছেন তারেক রহমান। এটি যদি জনগণ ধারণ করতে পারে, তাহলে বাংলাদেশ দ্রুতই পরিবর্তনের ছোঁয়া পাবে।

সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রথম ১৮০ দিন যে চিত্রটি সামনে এসেছে, সেখানে সহনশীল রাজনীতি, সংযত বক্তব্য, মিতব্যয়ী রাষ্ট্র পরিচালনা, প্রশাসনিক জবাবদিহি, সময়ানুবর্তিতা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এই বিষয়গুলো বিশেষভাবে দৃশ্যমান।

সমর্থকদের ভাষায়, এটি শুধু সরকার পরিচালনার ধরনে পরিবর্তন নয়, রাজনীতির প্রচলিত সংস্কৃতিতেও একটি নতুন বার্তা। ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে মাঠপর্যায়ে সরাসরি নজরদারি, রাষ্ট্রীয় ব্যয়ে সংযম, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি সহনশীলতা এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানোর উদ্যোগ সব মিলিয়ে তার নেতৃত্বের ধরনকে তারা ‘বদলের বার্তা’ হিসেবে দেখছেন।

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭৩০
৩১  

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code