প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১১ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৫ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

বিয়ানীবাজারে গণহত্যার স্থানগুলোর জাতীয়স্বীকৃতি আজও মিলেনি

editor
প্রকাশিত মার্চ ২৫, ২০২৬, ০৮:৪৮ পূর্বাহ্ণ
বিয়ানীবাজারে গণহত্যার স্থানগুলোর জাতীয়স্বীকৃতি আজও মিলেনি

Manual6 Ad Code

ছবি: বিয়ানীবাজারের সওজ ডাকবাংলোর টর্চার ঘর। যা আজও জাতীয়স্বীকৃতি পায়নি/

 

মিলাদ জয়নুল:

 

দেশ স্বাধীন হওয়ার ৫৫ বছরেও মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্বিচার গণহত্যা চালানোর বিয়ানীবাজারের সেই স্থানগুলোর জাতীয়স্বীকৃতি মিলেনি। এ বিষয়ে সরকারিভাবে খুব একটা তোড়জোড়ও দেখা যায়নি। জাতীয় স্বীকৃতির দাবি জোরালো করতে সরকারি উদ্যোগ নেওয়ার সময় এখন।

স্থানীয়ভাবে কাগুজে স্বীকৃত বিয়ানীবাজারের গণহত্যার স্থানগুলো ঠিকে আছে কোনমতে। পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসররা বিয়ানীবাজারে নৃশংস গণহত্যা চালিয়েছিল-সেটা কারো অজানা নয়।

উপজেলায় অবস্থিত সড়ক ও জনপথ (সওজ) ডাকবাংলো ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতা ও গণহত্যার অন্যতম সাক্ষী। সে সময় বিয়ানীবাজার সওজ ডাকবাংলো এলাকা পাকিস্তানি বাহিনী এবং তাদের স্থানীয় দোসররা (রাজাকার-আলবদর) ধরে আনা মানুষদের আটকে রেখে নির্যাতন এবং হত্যা করার জন্য ব্যবহার করত। বিয়ানীবাজারের মুক্তিযোদ্ধাদের প্রথম দলটি এই স্থান থেকেই যুদ্ধে রওয়ানা হয়েছিলেন। আর ডাকবাংলোর রান্না ঘর ছিল পাক বাহিনীর টর্চার সেল।

Manual3 Ad Code

ইতিহাস বলছে, ৭১ সালে এপ্রিলের শুরুতে বিয়ানীবাজার থেকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ প্রত্যশী ৪০জনের প্রথম দলকে প্রশিক্ষন দেয়ার আগে সওজ ডাকবাংলোর টিলার উপরে চল্লিশজন তরুণ যুবককে শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়। এসময় উপস্থিত জনগণও মাটিতে হাত রেখে শপথ নেন।

অথচ পাকবাহিনী বিয়ানীবাজারে অবস্থান কালে এই ডাকবাংলো হয়ে উঠে তাদের অপকর্মের প্রধান আস্তানা। ডাকবাংলো ছিল পাকবাহিনীর ক্যাম্প। ক্যম্প প্রধান ক্যাপ্টেন ইফতেখার হোসেন গন্দল এখানেই অবস্থান নেয়। বিভিন্ন স্থান থেকে মহিলাদের ধরে এখানে আনা হতো গন্দলের লালসা পূরণ করতে। বাংলোর চত্বরে মাদুর বিছিয়ে বসতো শান্তি কমিটির মজলিসে শুরার বৈঠক। চলতো হত্যা, লুন্ঠন, অগ্নি সংযোগ, ধর্ষণের পরিকল্পনা। আর হত্যার পূর্বে ডাকবাংলোর চত্বরের কাঠাল গাছের ডালে ও রান্না ঘরের কড়ি বর্গায় মানুষকে উল্টো করে ঝুলিয়ে চলতো অকথ্য নির্যাতন। ডাকবাংলো, রসুইঘর আজো টিকে আছে কালের স্বাক্ষী হয়ে। অথচ এই স্থানের ইতিহাস বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই জানেনা অথবা আংশিক জানে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিক উদ্দিন বলেন, আমাদের সংগঠিত করে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন আনছার বাহিনীর বিয়ানীবাজার থানা কমান্ডার কাজী আলাউদ্দিন। ডাকবাংলো ও রসুই ঘর আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অমূল্য স্মৃতি। এই স্থানটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও পাকবাহিনীর নির্মমতার কথা দৃশ্যমান করে লিপিবদ্ধ করা উচিত। এতে করে ভবিষ্যত প্রজন্ম আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে পারবে।

Manual6 Ad Code

এছাড়াও বিয়ানীবাজারের কাঁঠালতলা বধ্যভূমিতেও গণহত্যা চালায় পাকবাহিনী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিয়ানীবাজারেরও কোথাও সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধা অথবা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষনের উদ্যোগ নেই। মুক্তিযুদ্ধ গবেষনা কেন্দ্রেও স্থানীয় বধ্যভূমিগুলো স্থান পায়নি।

Manual5 Ad Code

 

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক উপজেলা কমান্ডার এম এ কাদির বলেন, আমরা মনে করি বর্তমান সরকার মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের, তাদেরও দায়বদ্ধতা আছে। মুক্তিযুদ্ধের গর্বের ইতিহাস ও স্মৃতি সংরক্ষনে সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে।

Manual5 Ad Code

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪৫
৭৮৯১০১১১১৩
৪১৫১৬১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৯৩০  

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code