প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

৫ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২১শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২২শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

আগের তিন নির্বাচন: ভোট দেননি ৮০ শতাংশের বেশি ভোটার, ‘আগেই হয়ে যায়’ অর্ধেকের ভোট

editor
প্রকাশিত জানুয়ারি ১৫, ২০২৬, ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ
আগের তিন নির্বাচন: ভোট দেননি ৮০ শতাংশের বেশি ভোটার, ‘আগেই হয়ে যায়’ অর্ধেকের ভোট

Manual4 Ad Code

 

প্রজন্ম ডেস্ক:

Manual3 Ad Code

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪) সাধারণ ভোটারদের মতামত সংগ্রহ করেছিল তদন্ত কমিশন। সর্বসাধারণের মতামত নিতে তদন্ত কমিশন বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি প্রশ্নমালার মাধ্যমে মতামত সংগ্রহ করে।

সম্প্রতি এই তিনটি নির্বাচনে অনিয়ম, দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে গঠিত তদন্ত কমিশন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করে। হাইকোর্টের সাবেক বিচারক শামীম হাসনাইনকে কমিশন প্রধান করে গঠিত হয় কমিটি। ওই কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনে জনমত জরিপের গুরুত্বপূর্ণ সমন্বিত ফলাফলও প্রকাশ করা হয়।

 

এতে দেখা যায়, বিগত তিন নির্বাচনে ৮০ শতাংশের বেশি ভোটার ভোট দেননি। এক্ষেত্রে তারা তৎকালীন প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থাহীনতাকে দায়ী করেন। পাশাপাশি জরিপে অংশ নেওয়া অর্ধেকের বেশি ভোটার জানান, তাদের ভোট অন্য কেউ দিয়ে দেন। অর্থাৎ তারা বুথে যাওয়ার আগেই তাদের ভোট অন্য কেউ দিয়ে দিয়েছিলেন।

 

২০১৪ নির্বাচনের জরিপ ফলাফল

Manual7 Ad Code

২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে আপনি ভোট প্রদান করেছেন কি? এ প্রশ্নের জবাবে শতকরা ৮১ দশমিক ৮২ শতাংশ ভোটার না সূচক জবাব দেন। ভোট না দিয়ে থাকলে তার কারণ কী- এমন প্রশ্নের একাধিক উত্তর থাকলেও সর্বোচ্চ ২৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ জানিয়েছেন অন্য কেউ তার ভোট দিয়েছিল। এছাড়া ২৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ জানিয়েছেন নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর আস্থা ছিল না।

২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন কতটুকু অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে? এমন প্রশ্নের জবাবে ৮৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ জানিয়েছেস একদমই অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি। ওই নির্বাচনে তৎকালীন নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে আপনার অভিমত কী? এমন প্রশ্নের জবাবে ৮৭ দশমিক ৩২ শতাংশ জানিয়েছেন একদমই নিরপেক্ষ ছিল না।

২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৎকালীন প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও হতাশার কথা জানিয়েছেন ভোটাররা। ৮৪ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ জানিয়েছেন তখন প্রশাসন একদমই নিরপেক্ষ ছিল না।

প্রশ্ন ছিল ২০১৪ সালের নির্বাচনে ভোট প্রদানের সমস্যা নিয়েও। এ সংক্রান্ত প্রশ্নে সর্বোচ্চ সংখ্যক ভোটার জানিয়েছেন ভোট দানের পরিবেশ সহিংসতা ও সংঘাতপূর্ণ ছিল। এছাড়া ভোট দিতে বাধা দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন অনেকে।

 

২০১৮ সালের নির্বাচনের জরিপের ফলাফল

২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে আপনি ভোট দিয়েছেন কি? এ প্রশ্নের জবাবে ৮৪ শতাংশ ভোটার না সূচক জবাব দেন। ভোট না দিয়ে থাকলে তার কারণ কী? এ সংক্রান্ত একাধিক উত্তর থাকলেও সর্বোচ্চ সংখ্যক ৪৫ শতাংশ জানিয়েছেন অন্য কেউ তার ভোট দিয়েছিল। এছাড়া ৩২ শতাংশ জানিয়েছেন নির্বাচিত ব্যবস্থার ওপর আস্থা ছিল না।

 

Manual6 Ad Code

২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন কতটুকু অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে? এমন প্রশ্নের জবাবে ৯০ দশমিক ১৪ শতাংশ জানিয়েছেন একদমই অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি। তৎকালীন নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ৯৩ শতাংশ জানিয়েছেন একদমই নিরপেক্ষ ছিল না। সেসময় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও ৯০ দশমিক ১৪ শতাংশ জানিয়েছেন একদমই নিরপেক্ষ ছিল না।

Manual4 Ad Code

 

বিগত ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন কতটুকু অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে? এমন প্রশ্নের উত্তরে ৯৩ শতাংশ জানিয়েছেন একদমই অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিয়ম দূর করার জন্য কী কী করা প্রয়োজন বলে মনে করেন? এমন প্রশ্নের একাধিক উত্তরে ৭১ দশমিক ৯৫ শতাংশ বলেছেন নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও শক্তিশালী করতে হবে। এছাড়া নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে জড়িত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে বলে অনেকে জানিয়েছেন।

 

২০২৪ সালের নির্বাচনের জরিপের ফলাফল

২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে আপনি ভোট দিয়েছেন কি? এ প্রশ্নের জবাবে ৮৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ ভোটার না সূচক জবাব দেন। ভোট না দিয়ে থাকলে তার কারণ কী? এ সংক্রান্ত একাধিক উত্তর থাকলেও সর্বোচ্চ সংখ্যক ৫৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ জানিয়েছেন অন্য কেউ তার ভোট দিয়েছিল। এছাড়া ৩০ দশমিক ১৬ শতাংশ জানিয়েছেন নির্বাচিত ব্যবস্থার ওপর আস্থা ছিল না।

২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন কতটুকু অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে? এমন প্রশ্নের জবাবে ৯২ শতাংশ জানিয়েছেন একদমই অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি। তৎকালীন নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে আপনার অভিমত কী? এমন প্রশ্নের জবাবে ৯২ শতাংশ জানিয়েছেন একদমই নিরপেক্ষ ছিল না।

 

জাতীয় নির্বাচনে অনিয়ম দূর করার জন্য কী কী প্রয়োজন ছিল বলে মনে করেন? এমন প্রশ্নের একাধিক উত্তরে সর্বোচ্চ প্রশাসনে নিরপেক্ষতা নিশ্চিতকরণ ও নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও শক্তিশালী করার কথা বলেছেন। এছাড়া ভোটকেন্দ্রে যাওয়া-আসা ও কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত, নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে জড়িত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আইনের আওতায় আনা, নির্বাচনি আইনের সংস্কার, প্রতিটি নির্বাচনি অনিয়মের সঠিক তদন্ত ও বিচার যথাসময়ে করা, ঐকমত্যের ভিত্তিতে যোগ্যতা সম্পন্ন নিরপেক্ষ ব্যক্তিকে নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কোনো প্রার্থী যাতে নির্বাচিত না হতে পারে সে ব্যবস্থা করা ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার কথা অনেকে বলেছেন।

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭৩০
৩১  

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code